ঢাকা, রোববার 06 August 2017, ২২ শ্রাবণ ১৪২8, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আজ ৭২তম হিরোশিমা দিবস

স্টাফ রিপোর্টার : কোসেই মিতোর জন্ম ১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে। সময়ের হিসেবে তার আণবিক বোমা হামলার ভুক্তভোগী হওয়ার কথা নয়। তবে তেজস্ক্রিয়তা হচ্ছে এমন এক সর্বগ্রাসী উপাদান, যা কিনা সবকিছু ভেদ করে মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম। কোসেই মিতোর বেলায়ও সেটা ঘটেছিল। তাই তিনি কনিষ্ঠ হিবাকুশাদের (হিরোশিমা বোমা হামলার শিকার) একজন হিসেবে স্বীকৃত। 

আজ রোববার ৭২তম হিরোশিমা দিবস। এ দিবসের প্রাক্কালে গতকাল শনিবার বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে হিরোশিমার স্মৃতি উৎরে মাতৃগর্ভেই তেজস্ক্রিয়তার শিকার কোসেইয়ের ‘অভিশপ্ত’ জীবন নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তাতে মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন কোসেই।

কয়েক পুরুষ ধরে হিরোশিমায় বসবাস কোসেই মিতোর পরিবারের। তার বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক আর মা গৃহিণী। কোসেই পরিবারের বসবাস ছিল বোমা হামলার কেন্দ্রস্থলের স্বল্প দূরত্বের মধ্যে। কোসেইয়ের নানা ভেঙে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়ে প্রাণ হারান। পরের মাসে তেজস্ক্রিয়তাজনিত অসুখে ভুগে মারা যান তার এক চাচা। বোমা হামলার তিন দিন পর মাকে হিরোশিমার বাইরে সরিয়ে নেয়া হলেও তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে তাকে বাঁচানো যায়নি। স্কুলশিক্ষক বাবাকেও বাকিটা জীবনে নানা রকম শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ‘লিটল বয়’ নামের এই পারমাণবিক বোমা হামলায় কমপক্ষে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়।

হিরোশিমায় হামলার তিন দিন পর নাগাসাকিতে আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তবে জাপানের আসাহি শিমবুনের এক হিসেবে বলা হয়েছে, বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগসমূহের কারণে দুই শহরে চার লাখের মতো মানুষ মারা যায়। যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক। মার্কিন এ হামলাকে মানব সভ্যতার কলংক বলা হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের নির্দেশে হিরোশিমায় স্থানীয় সময় সকাল সোয়া আটটায় ফেলা হয় পরমাণু বোমা। তখনো ঘুম থেকে জেগে ওঠেনি হিরোশিমার মানুষ। হঠাৎ দানবের মতো হিরোশিমার আকাশের নীলিমায় উদয় হলো মার্কিন বি-টুয়েন্টি নাইন বোমারু বিমান এনোলা গে। বিমান থেকে ফেলা বোমাটি প্রায় ৫শ’ মিটার উঁচুতে হিরোশিমায় বিস্ফোরিত হয়। ঘুমের মধ্যেই মারা যায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও যুবা। মাটির সঙ্গে মিশে যায় বেশিরভাগ দালানকোঠা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের আত্মসমর্পণের আহ্বানে জাপান সাড়া না দেয়ায় তার নির্দেশেই ঠন্ডা মাথায় হিরোশিমায় চালানো হয় নারকীয় এই হামলা। এর উদ্দেশ্য ছিলো দুইটি। জাপানিদের জব্দ করা আর জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে হামলার কিছুদিনের মধ্যে আত্মসমপর্ণ করে জাপান।

হামলার সাত দশক পার হয়ে গেলেও ভয়াল সেই দিনের কথা এখনো ভোলেনি জাপানের মানুষ। কারণ এখনো সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে হিরোশিমার ও নাগাসাকির মানুষ। আণবিক বোমা হামলার এতো বছর পরও শহর দুটোতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু, ক্যান্সারসহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে বহু মানুষ। 

দিবসটি পালনে বাংলাদেশেও বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার জোরালো আহ্বানে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে। এসব কর্মসূচির মূল বিষয় হচ্ছে- ‘আর নয় হিরোশিমা, আর নয় নাগাসাকি, নয় কোনো সন্ত্রাসবাদ’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ