ঢাকা, সোমবার 07 August 2017, ২৩ শ্রাবণ ১৪২8, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাঁচশ’ কোটি টাকার বেশী ঋণে শর্ত ছোট ঋণ বিতরণে পাবে অগ্রাধিকার

শাহেদ মতিউর রহমান : ঋণ বিতরণে নতুন নীতিমালা প্রয়োগের চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি দেশব্যাপী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় খেলাপী ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিকার হিসেবে অঘোষিত নতুন নীতি ও শর্ত প্রয়োগের চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে শাখা ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের আগেই ঋণের প্রস্তাবনা তৈরির সময়  থেকেই কিছু শর্ত দেয়ার চিন্তা করা হচেছ। এর মধ্যে পাঁচশ কোটি টাকার বেশী পরিমাণ ঋণ হলে সেক্ষেত্রে অঘোষিতভাবে বেশ কিছু শর্ত ও নীতিমালা প্রয়োগের কথা ভাবা হচেছ। আর অন্যদিকে ছোট বা পাঁচশ’ কোটি টাকার কম হলে সেগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও চিন্তা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নিয়ম নীতির কথা সম্প্রতি ব্যাংক প্রধানদের অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাতের গুটিকয়েক ব্যক্তিদের ঋণ  দেওয়ার সংস্কৃতি  থেকে বের হয়ে আসতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ফিন্যান্সিয়াল ইনস্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৬’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ নির্দেশ দেন তিনি। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে ফজলে কবির আরো বলেন, বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া থেকে সরে এসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে হবে।
ব্যাংক প্রধানদের উদ্দেশ্যে গভর্নর আরো বলেন, ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ঋণগুলো বড় ঋণ। এত বড় ঋণ না দিয়ে ছোট ঋণের দিকে যেতে হবে। কারণ বড় ঋণে খেলাপি ঝুঁকি বাড়ে।
এ জন্য গুণগত মানের ঋণ বিতরণের পরামর্শ দিয়ে ফজলে কবির বলেন, ঋণ যাতে একক খাতে পুঞ্জিভূত না হয়, সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যাতে আর্থিক খাতের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত না করতে পারে সেবিষয়ে সবাইকে সচেষ্ট থাকার কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ।
তিনি বলেন, ঋণ আদায় বৃদ্ধির মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনতে হবে। টেকসই ব্যাংকিং গঠনে সিস্টেমেটিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে এমন আগ্রাসী বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এসকে) সুর চৌধুরী বলেন, ২০১৬ সালে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল সন্তোষজনক। এসময়ে সম্পদ ও আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমানত বিমার সক্ষমতা বেড়েছে; যার মাধ্যমে প্রায় ৯০ ভাগ আমানতকারীর আমানত সুরক্ষা করা সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ