ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে সরকারি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ

বগুড়া অফিস : বগুড়ায় শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকার ও নারী কাউন্সির রুমকীর ক্যাডারদের হাতে নির্যাতনের শিকার মা ও মেয়েকে সরকারি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চিকিৎসা শেষে মা ও মেয়েকে আদালতে হাজির করলে আদালত এই নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ি মেয়েকে রজশাহী সরকারি সেফ হোমে এবং তার মা’কে একই স্থানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পুলিশের দায়িত্বে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। এর আগে চিকিৎসা শেষ হওয়ায় সোমবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, ১১ দিন মা ও মেয়েকে চিকিৎসা দেয়ায় তারা এখন মোটামুটি সুস্থ। একারনে সোমবার সকালে তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পরে গতকাল সোমবার দুপুরের পর মা ও মেয়েকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়। এরপর বিচারক এমদাদুল হক মা ও মেয়েকে সেফহোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ি মা ও মেয়েকে রাজশাহী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে সোমবার বিকেলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত ১ আগস্ট রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি মা ও মেয়ের নিরাপত্তার জন্য তাদেরকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে মা ও মেয়েকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার পাশাপাশি সেখানেই নিরাপত্তার দেয়ার জন্য বগুড়ার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। ফলে ওই দিন থেকেই মা ও মেয়ের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে ৬ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকার ওই কিশোরীকে ভাল কলেজে ভর্তি করার প্রলোভন দিয়ে গত ১৭ জুলাই ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে তুফান সরকারের স্ত্রী, শ্বাশুরী ও স্ত্রীর বড় বোন পৌরসভার নারী কাউন্সিলর ওই কিশোরী ও তার মা কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং দুজনের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এঘটনায় পরদিন তুফান সরকারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলে পুলিশ মামার এজাহার ভুক্ত ৯ জন, তুফানের শ্বশুর এবং নাপিতকে গ্রেফতার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ