ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংলাপের নামে জাতির সাথে তামাশা করছে -বিএনপি

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংলাপের নামে জাতির সাথে তামাশা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার একটি দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সুশীল সমাজের সাথে বৈঠক হয়ে গেলো, তাদের (সুশীল সমাজ) ৯০ ভাগ ব্যক্তি-বিশিষ্টজন যে বক্তব্যটি রাখলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বললেন, তারা (সুশীল সমাজ) যে সুপারিশ করেছেন তা শাসনতন্ত্র এবং প্রচলিত আইনে যতটুকু আছে, ততটুক ধরা হবে। এর জবাবে রিজভী বলেন, তাহলে আপনি তামাশা করছেন কেনো? এই নাটক না করলেই পারতেন। উল্লেখ্য,একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন তার কার্যক্রম শুরু করে। আগামী ১৬ ও ১৭ আগস্ট হবে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সংগঠনের নেতা মরহুম মুন্সি জামাল উদ্দিন আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সফরত আলী সপু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সিইসি দেশের বিশিষ্টজনদের অপমান করছে মন্তব্য করে সিইসিকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, উপস্থিত ৯০ ভাগ সুশীল সমাজের মানুষ-বুদ্ধিজীবী-বিদ্যজন তাদের সুপারিশকে অগ্রাহ্য করার জন্যে, তাদেরকে অপমান করার জন্য আপনি(সিইসি) ডেকেছিলেন? তাহলে যদি এটাই হয়, প্রচলিত আইন ও শাসনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আপনি সংলাপের নামে যা করছেন সেটা দেশের মানুষ তামাশা বলে ধরে নেবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগের লোক। আমরা মিথ্যা বলিনি, তার অনেক কর্মকান্ড তুলে ধরেছিলাম গণমাধ্যমের মাধ্যমে।

রিজভী বলেন, আপনি(সিইসি) বলছেন, শাসনতন্ত্রের কথা বলছেন। আরে এই শাসনতন্ত্র আজকের প্রধানমন্ত্রী তিনি তার ইচ্ছামতো পরিবর্তন করেছেন, তার একদলীয় বাকশালী পার্লামেন্টে। সেই শাসনতন্ত্রের বিধানে কিছু সংশোধনী করে আজকে যে সম্রাটের মতো ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তাহলে আপনি বাকশালকে দীর্ঘায়িত করা, একদলীয় শাসনকে দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা নির্বাচনের জন্য ষড়যন্ত্র করছেন বলে বলা হয়- আপনার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।

সরকারি দল আওয়ামী লীগ পুরো আগস্ট মাসে বিএনপিকে কোনো কর্মসূচি করতে না দেয়ার হুমকি দিয়েছে অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগস্ট মাস কী- এটা কী আওয়ামী লীগ গুম করে নিয়েছে? যেমন ইলিয়াস আলীকে গুম করেছেন, যেমন চৌধুরী আলমকে গুম করেছেন, যেমন সুমনকে গুম করেছেন, যেমন হীরুকে গুম করেছেন, হুমায়ুন পারভেজকে গুম করেছেন। আমাদের ১২ মাসের একটি মাসকে গুম করে নিয়েছেন যে, এই মাসে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল তার কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। ১৫ আগস্টের ঘটনা ‘মর্মান্তিক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, আগস্ট মাসে মর্মান্তিক একটি ঘটনা হয়েছে-এটা শোকাবহ ঘটনা, আমরাও বলি। তারজন্য আওয়ামী লীগ শোক দিবস পালন করবে- সবই ঠিক আছে। আর সারা মাস কেউ কোনো অনুষ্ঠান করতে পারবে না- এটা হচ্ছে গুমের মনোবৃত্তি, এটা হচ্ছে, আমাদের সাংবাৎসরিক যে কর্মকান্ড সেখান থেকে একটি মাসকে অপহরণ করা। এটাই হচ্ছে বাকশালী মনোবৃত্তি, এটাই হচ্ছে একক মনোবৃত্তি।

তিনি বলেন, বিএনপি সদস্য সংগ্রহের জন্য দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, জেলায় জেলায় আমরা কর্মসূচি দিয়েছি এতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ যাচ্ছেন, পুলিশ আক্রমন করছে, ভাংচুর করছে আর অসংখ্য তুফানকে লেলিয়ে দিয়েছেন। তারা মারামারি করছে, সভা পন্ড করে দিচ্ছে। তারওপরে পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। তাহলে আগস্ট মাসে কী হবে?

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্যে করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ভোটাধিকার যেভাবে কেড়ে নিয়েছে, জেলায় জেলায় তুফানদের সৃষ্টি করে সেখান থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য আপনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) আশার বাণী শুনাবেন। সেটি না করে শাসনতন্ত্র ও প্রচলিত আইনের কথা বলছেন। প্রচলিত আইন তো প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছামতো পরির্বতন করেছেন, একদলীয় বাকশালী সংসদ দিয়ে। শাসনতন্ত্রের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে, তাহলে আপনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) বাকশালকে দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র করছেন। আওয়ামী ঘরোয়ানার বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের বুদ্ধিজীবী ও অন্যরা শুধু এক ব্যক্তির কোরাস গাইছেন। দৃশ্যমান অন্যায়গুলো আমলে নিয়ে প্রতিবাদ করছেন না। এমন বিবেক বিক্রি করা, আত্মা বিক্রি করা আওয়ামী ঘরোয়ানার বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশে এর আগে কথনো দেখা যায়নি।

দলের নেতাকর্মীদের হত্যা-গুমের ঘটনা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা জারি রয়েছে শুধু একব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা প্রলম্বিত করার জন্য। তারা কিছুই মানবে না। সব কিছুই তাদের দরকার। সব কিছু এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের দিন শেখ হাসিনা সীমান্তের দিকে চলে যান এমনটা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তাহলে জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী কে? পর্দার আড়ালে তাহলে কে আছে? এ অভিযোগ তো জনগণের মুখে মুখে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ