ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় : কিছু কথা

দু’দেশের দু’টি সর্বোচ্চ আদালত। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দু’টি মাটি কাঁপানো রায় দিয়েছে। দু’টি রায়ই উভয় দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের নাড়িভুঁড়িতে টান দিয়েছে। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ দুর্নীতি-সংশ্লিষ্টতার কারণে জাতীয় পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হন। আদালত তার রায় কার্যকর করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিধারণের জন্য আদালতে একজন বিচারপতিকে দায়িত্ব প্রদান করেন এবং তা বাস্তবায়িত হয়। ক্ষমতাসীন সরকার বিনা বাক্যব্যয়ে তা মেনে নেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট বিভাগের রায়ে তা বাস্তবায়নের জন্য অনুরূপ কোনো কমিটি বা মনিটরিং-এর জন্য কর্মকর্তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি, সরকারের আইনানুগতা ও বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধার উপর তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত না হলেও সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী (মর্যাদার দিক থেকে যার স্থান প্রধানমন্ত্রীর পরেই বলেল গণ্য করা হয়)। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বলেছেন, যতবার আদালত ষোড়শ সংশোধনী বেআইনী করে রায় দেবে ততবার তারা সংসদে এই সংশোধনী অনুমোদন করবেন। তিনি আরো বলেছেন যে, তারা আদালত কতদূর যেতে পারে তা দেখতে চান এবং সরকারের ক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন যে, বিচারপতিদের আমরাই নিয়োগ দেই। কোনো কোনো বিশ্লেষক তার বক্তব্যের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন যে, তিনি নিজেদের প্রভু এবং বিচারপতিদের ভৃত্য বলে মনে করেন। তার ধারণানুযায়ী প্রভুর কথা মানাই ভৃত্যদের কাজ এবং তারা প্রভুর গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারেন না। এখন রায়ের প্রশ্নেই আসি।
পাঠকদের স্মরণ থাকতে পারে যে, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সরকারি উদ্যোগে জাতীয় সংসদে অযোগ্যতা ও অসদারচরণের দায়ে সংসদকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দিয়ে বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ঐ বছরই ৫ নবেম্বর এই সংশোধনের আইনগত ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের (সুপ্রিম কোর্টের) নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। এই মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট ষোড়শ সংশোধনী বেআইনী ঘোষণা করে রায় দেন। সরকার হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৭ জন বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে গত ৮ মে থেকে এই মামলার শুনানি শুরু হয় এবং ১১ দিন পর্যন্ত উভয়পক্ষের শুনানি চলে। আদালত এমিকাস কিউরি হিসেবে আরো ১২ জন আইনজীবীকে তাদের মতামত দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। ১২ জনের মধ্যে ২ জন যথাক্রমে ব্যারিস্টার রফিকুল হক ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকেন এবং জনাব আজমল হোসেন কিউসি সংশোধনের পক্ষে মতামত পেশ করেন। ড. কামাল হোসেনসহ অন্য নয়জন সংশোধনের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন এবং হাইকোর্টের রায়কে সমর্থন করেন। বলাবাহুল্য, হাইকোর্টের এই রায় ক্ষমতাসীন দল অধ্যুষিত জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আদালতের রায়ের প্রতি অনাস্থা প্রদর্শন করে এমপিরা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেছিলেন। যাই হোক, গত পয়লা আগস্ট হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে এবং ষোড়শ সংশোধনীকে বেআইনী ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার পর্যবেক্ষণে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন ও বিদ্যমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সুশাসন, দুর্নীতি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপসহ রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেছেন। তার পর্যবেক্ষণের চুম্বক কথাগুলো হচ্ছে :
* সমাজে এখন ভালোমানুষের স্থান নেই। আমরা এমন এক পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভালো মানুষ আর ভালো স্বপ্ন দেখেন না।
* দেশে ব্যক্তিতন্ত্র ও আমিত্বের চাষ হচ্ছে। দুনিয়াতে কোনো একজন ব্যক্তি দ্বারা কোনো দেশ বা জাতি তৈরি হয়নি। আমাদের দেশে তা করতে গিয়ে দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
* স্বপ্নের সোনার বাংলা চাইলে আমিত্বের আসক্তি এবং আত্মঘাতী উচ্চাভিলাষ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
* ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও দাম্ভিকতা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সুশাসন অভিধানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজকে রক্ষা করা এবং অপকর্মে বাধা দেয়ার মতো কোনো নজরদারি প্রতিষ্ঠান বা ওয়াচডগ নেই।
* মেধা নয়, পেশিশক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমেই এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
* রাজনীতি এখন মুক্ত নয়। এটি এখন বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। এই বাণিজ্যে মূলধন ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই।
* গণতন্ত্র আমাদের কাছে এখন স্লোগান। আমাদের পূর্ব পুরুষরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চেয়েছিলেন। আমরা তা করতে পারিনি; তার পরিবর্তে ক্ষমতাধর দৈত্যের জন্ম দিচ্ছি। চাঁদাবাজ, মাস্তান, ডাকাত, ব্যভিচারী দুর্বৃত্তরা এখন সমাজপতি, সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
* সামরিক শাসকরা ক্ষমতার দখলদার, তারা দেশের মঙ্গল করতে পারেননি। দেশকে দু’বার তারা ব্যানানা রিপাবলিকে পরিণত করেছিল।
* স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়নি। ফলে কমিশন খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে। সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে যারা সংসদে যাচ্ছেন তারা জনগণকে সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না।
* উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিলে তা হবে আত্মঘাতী।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে জাতির বিবেক ফুটে উঠেছে বলে আমার ধারণা। এতে আমাদের ধ্বংসপ্রায় জাতির জীবনের যে দিকগুলো তুলে আনা হয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব আমাদেরই। হতাশাগ্রস্ত জাতিকে উজ্জীবিত করার জন্য এটি একটি সাহসী ও শক্তিশালী রায়। এই রায়ের পর্যবেক্ষণ অভূতপূর্ব। ইতিহাসে রায়টি স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। রায়ের কোথাও ক্ষমতাসীন সরকারের ব্যর্থতার কথা নেই। তবে তারা যে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার, রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নৈতিকতা প্রভৃতি ধ্বংসের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছেন রায়টিও তার পর্যবেক্ষণের প্রতিটি বাক্যে তার প্রতিফলন ঘটেছে। বিদ্যমান অবস্থায় মানুষ বিক্ষুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত। তারা চারদিকে অন্ধকার দেখছেন। এই অবস্থায় আলোর পথে ফিরে আসার জন্য প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ২০৩ পৃষ্ঠায় একটি নির্দেশনা আছে এবং তা হচ্ছে আগামী দু’টার্ম কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান। এতে বলা হয়েছে :
“Ultimately this constitutional amendment was challenged in the High Court Division. The matter came before this court and by majority, this court in Abdul Mannan Khan V. Bangladesh, 64 DLR (AD) 169 declared the amendment ultra vires the constitution. In the majourity opinion, this court was of the view that two parliamentary elections may be held under the Caretaker System subject to the condition that the selection of the Chief Advisor should not be made from amongst the last retired Chief Justice or the retired Judges of the Appellate Division, in accordance with clauses (3) and (4) of article 58C. This court gave the above direction keeping in mind that by keeping this system there was likelihood of politicization in the selection of the Chief Justice and alternatively the Election Commission should be made more empowered and institutionalized so that the parliamentary elections can always be held fairly.”
অর্থাৎ “শেষ পর্যন্ত এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি হাইকোর্ট ডিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা হয়। বিষয়টি এই আদালতে আসে এবং সংখ্যাগিরষ্ঠ রায়ে এই আদালত আব্দুল মান্নান খান বনাম বাংলাদেশ, ৬৪ ডিএলআর (এডি) ১৬৯ নং মামলায় সংশোধনীটি সংবিধানের পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে এই আদালত এই অভিমত পোষণ করেন যে, আগামী দু’টি সংসদীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই শর্তে যে, সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে ৩ এবং ৪ ধারা অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন আপিলেট ডিভিশনের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকে করা উচিত হবে না। এই আদালত এই বিষয়টি চিন্তা করে উপরোক্ত নির্দেশনা দিয়েছেন যে,  এই পদ্ধতি বহাল থাকলে প্রধান বিচারপতি নির্বাচন রাজনীতিকরণের সম্ভাবনা থাকে। এর বিকল্প হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা উচিত যাতে করে সংসদীয় নির্বাচন সর্বদা পক্ষপাতহীনভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।”
আদালতের এই রায়টি প্রণিধানযোগ্য। নির্বাচন যদি পক্ষপাতহীন, সুষ্ঠু ও অবাধ হয় তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরে আসবে, আমিত্ব ও দাম্ভিকতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। চাঁদাবাজ, চরিত্রহীন দুর্বৃত্ত সৃষ্টি হবে না এবং তারা সমাজকে বিপথে পরিচালিত করতে পারবে না। দেশে সুশাসন ফিরে আসবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে, আমরা এমন একটা পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভালো মানুষগুলো আর কোনো ভালো স্বপ্ন দেখেন না। তিনি একটি সাংঘাতিক অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যে দেশে ভালো মানুষের কদর নেই সে দেশে ভালো মানুষের জন্ম হয় না। ভালো মানুষদের ভালো চরিত্র একটি সামাজিক মূলধন। তারা আমাদের সন্তানদের আদর্শ- রোল মডেল। আমাদের দেশে বর্তমান অবস্থায় ভালো মানুষ হওয়া একটি অপরাধ। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষক, অন্যের সম্পত্তি জবরদখলকারী ক্ষমতাসীনদের দলীয় ক্যাডাররাই এখন সমাজের সর্বেসর্বা। তাদের দাপটে ভালো মানুষরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অর্থনীতিতে Grasham’s law নামে একটি সূত্র আছে। সূত্রটি হচ্ছে : Badmoney drives good money out of circulation ভালো নোট কেউ ছাড়তে চায় ন, ছেঁড়া নোটটাই ছাড়ে। ফলে ছেঁড়া নোটে একদিন বাজার সয়লাব হয়ে যায়। আমাদের দেশে বর্তমানে অবস্থা হয়েছে অনেকটা তাই। Grasham’s law এখন মানুষের বেলায় প্রযোজ্য হচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে ভালো মানুষরা বিদায় নিচ্ছে আর তাদের স্থান দখল করছে দুর্বৃত্তরা। সরকারের মদদেই তাদের উত্থান হচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে না। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া এই দুরাবস্থা থেকে উত্তরণও সম্ভবপর নয়।
আমি দু’টি দেশের দু’টি সুপ্রিম কোর্টের দু’টি ঐতিহাসিক রায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম। একটি দেশ তাদের আদালতের রায়টি বাস্তবায়ন করে আইনের প্রতি নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছে এবং গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে যাবার পরও আমরা তা বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি। সরকারের তরফ থেকে এর উপর কোনো প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করা হয়নি। তবে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রায় প্রত্যাখ্যান করে বক্তব্য দিয়েছেন, যা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। এটা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে পর্যবেক্ষণসহ চূড়ান্ত রায় দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী এই রায়কে উপেক্ষাই শুধু করেননি আদালত এবং বিচারকদের এক হাত দেখিয়েছেনও। এটা করতে গিয়ে তিনি সংবিধান লংঘন করেছেন। অথচ সংবিধান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, তার বয়স হয়ে যাওয়ায় তার কথাবার্তার মধ্যে ভারসাম্য থাকে না। ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কি মন্ত্রী হতে পারেন? অথবা হবার বা থাকার উপযুক্ত ? কেউ কেউ মনে করেন যে, তার মত ‘বাকোয়াস’ একজন মন্ত্রীর মুখ দিয়ে এ কথাগুলো বলিয়ে ক্ষমতাসীন দল পরিস্থিতি আন্দাজ করতে চাইছেন, যদিও দলের সাধারণ সম্পাদক কথাগুলো তার ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছেন। এর অর্থ পরিষ্কার নয়। সংবিধান লংঘন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগকর্তা হিসেবে শাসানো একজন মন্ত্রীর জন্য শোভা পায় না। তবে যে দেশে মেধার চেয়ে পেশিশক্তি বেশি প্রাধান্য পায় সে দেশে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। জনাব মুহিত পাকিস্তান সরকারের একজন সাবেক CSP অফিসার, বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব এবং তিন মেয়াদের বেশি সময় ধরে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তার জন্য এ ধরনের মন্তব্য শোভা পায় না। রায়টি কার্যকর হোক দেশবাসী এই কামনাই করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ