ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুরবানির হাট নিয়ে শঙ্কিত খামারীরা

খুলনা অফিস : দফায় দফায় গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কুরবানির সময় গরুর হাটে লাভের বিষয়ে শঙ্কিত খামরীরা। নিয়ন্ত্রণহীন এবং বাজার মনিটরিং না থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী গো-খাদ্যের সঙ্কটের কথা বলে দাম বাড়িয়ে চলেছে। খামারীরা বলছেন গবাদী পশু পালন করে বড় করতে তাদের বাজার থেকে আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে গোখাদ্য কিনতে হচ্ছে।
বড় বাজারের আলম এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগেও গো-খাদ্য ভূষিমালের দাম বাড়তি ছিল রমযানের পর একদফা দাম বেড়েছে। সামনে কুরবানির আগে আর একদফা গো-খাদ্যের দাম বাড়ার আগাম সঙ্কেতও দিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, বাজারে এখন গম ভূষি ১১শ’ টাকা প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে যার দাম ছিল ৯শ’ টাকা। একইভাবে ডাল ভূষির (মুগ) দাম আগে ছিল ১৫শ’ টাকা এখন ১৬শ’ থেকে ১৭শ’ টাকা। মসুরির ভূষি ৯শ’ টাকা থেকে ৯শ’ ৫০ তারপর বেড়ে হয়েছে ১১শ’ টাকা থেকে সাড়ে ১১শ’ টাকা। গো-খাদ্যের মধ্যে গরুর স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য খুবই প্রয়োজন সরিষার খৈল এর দামও আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। বর্তমানে ২২শ’ টাকা থেকে ২২শ’ ২০ টাকা প্রতি বস্তা (পঞ্চাশ কেজি) বিক্রি হচ্ছে। যার দেড় মাস আগেও দাম ছিল ৯শ’ টাকা প্রতি বস্তা।
বড় বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, গত দু’বছর কুরবানির আগে যখন শোনা গিয়েছিল ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে আমাদের গো-খাদ্যের বিক্রেতারা দাম দফায় দফায় বাড়াতে শুরু করে। এখন বাজারে গো-খাদ্যের যা দাম তখন এর দাম ছিল অর্ধেক। বাড়তে বাড়তে বর্তমান অবস্থায় এসে ঠেকেছে। এরাই আবার কুরবানির আগে আর একদফা দাম বাড়িয়ে মুনাফা করবে।
বটিয়াঘাটার খামারী সিমলা গরু মোটা তাজাকরণ ফার্মের মালিক মহিদুল ইসলাম জানান, দেড় মাস আগে থেকে তিনি গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে এখন গমভূষি ৩৫ টাকা ও ভুট্টা ভাঙা ৩০ টাকা কেজি দরে কিনছেন।
তুলার খৈল ৪৫ এবং সরিষার খৈল ৩৮ টাকা প্রতি কেজি দামে বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। বিচলী (খড়) আঁশযুক্ত খাবার যা গরুর স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে প্রয়োজন ১ টাকার আটি একন ৩ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ষাড় গরু আর একদেড় মাস আগে থেকে মোটাতাজাকরণ করে কুরবানির হাটে বিক্রি করবেন। যেভাবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ছে তাতে হাটে গরুর দাম বেড়ে যাবে। দাম দরে ভাল বেচতে না পারলে লোকসান গুণে বাড়ি ফিরতে হবে।
রূপসা উপজেলার মাছুয়াডাঙ্গা গ্রামের জুনায়েত ডেয়ারী ফার্মের মালিক কামরুল হাসান কাজল সব ধরণের গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, চালের দাম বাড়ার সাথে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। দেড় মাস আগে ৩৫ টাকা কেজি গম ভূষির এখন দাম ৪৮ টাকা। এর দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। ১২ টাকা কেজি কুড়া এখন ১৫ টাকা, রাইস পালিশ (খুদ) ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা, খৈল ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা (প্রতি কেজি), এক টিন (১৫ কেজি) চিটা গুড় ৬শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৮শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তারপরও গরুর পরিচর্যার লোকের বেতন, ওষুধসহ আনুষঙ্গিক আরও খরচ আছে। এত খরচের পর তার খামারের গরু কুরবানিতে বিক্রি করার সময় কি দাম পাবেন তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
ফুলতলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুষেন হালদার জানান, এই উপজেলায় এখন ২২টি গরুর খামার গড়ে উঠেছে। কুষ্টিয়ার দেখাদেখি এখানে এবছর নতুন আগ্রহী খামারীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনিও জানান, গো-খাদ্যের দাম বাড়েছে। এর বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে এ উপজেলায় খামারীর সংখ্যা বাড়বে। এখানে কাঁচা ঘাস কম হওয়ায় খামারী-কৃষকরা খৈল ভূষির সাথে এংকর ফিড নামে ২৫ কেজির প্যাকেটজাত গো-খাবার ৬শ’ টাকা দরে কিনছে। বন্যা-বৃষ্টিও দাম বাড়ার আর একটি কারণ বলে তিনি জানান।
গো-খাদ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, চাল গমের সাথে ভূষির দামের মিল আছে। গমের ভূষি ২৮ টাকা থেকে প্রতি কেজি এখন ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডাল ভূষি আর সরিষার দামও বেশি। কেন যে গো-খাদ্য গম ভূষির দাম বাড়ে তার কারণ তিনি খুঁজে পাননি বলে জানান। এ বিষয়ে মার্কেটি, মনিটরিং কোনটাই হয়না বলে তিনি জানান। তবে তিনি এই জেলায় আইলা-সিডরের পর গো-খামারীর সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ