ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে আওয়ামী সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে -ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। এই অবৈধ সরকার অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় এসেছিল বলেই প্রথম থেকে আমরা এই সরকারকে অবৈধ এবং সংসদকেও অবৈধ বলে আসছিলাম। আজকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হতে পারে না। এই অবৈধ সরকার দেশের প্রতিষ্টিত গণতন্ত্র কে হত্যা করেছে এবং দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তাই অবিলম্বে এই অবৈধ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ১৮ বছরের অধীক এবং পুরানো সদস্য নবায়ননের মাধ্যমে তৃণমূল রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলা হবে। সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে আগামী দিনে স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে জোরালো অবস্থান গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।
ডা. শাহাদাত আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালো অধ্যায়ের সূচনা ঘটিয়েছে। প্রশাসনকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে, সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দলীয় প্রভাবের আওতায় এনে প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে বিভেদ গড়ে তুলেছে। উন্নয়নের জোয়ারের মিথ্যা স্লোগানে জনগণকে প্রতারিত করার মধ্যদিয়ে প্রকৃতপক্ষে জনগণের অধিকার হরণ করে চলেছে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির শুদ্ধধারা গড়ে তোলা সময়ের দাবী। জনগণের চাহিদা ভিত্তিক মৌলিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে আগামীতে আওয়ামী লীগের অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার যে নজির বিহীন স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জনগণকে সাথে নিয়ে এই অবৈধ সিংহাসনের আস্ফালনকে বিএনপি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।
তিনি গত ৬ আগস্ট রবিবার বিকালে নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হশেম বক্কর বলেন, রাজনীতিতে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে বিচারপতিদের রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতাশীন হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালতের যেসব সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ তাদের পছন্দ হয়েছে সেগুলোকে সানন্দে গ্রহণ করছে। নিজেদের স্বার্থে কখনো তারা সংবিধানের দোহাই দিয়েছেন। কখানো আবার আদালতের দোহাই দিয়ে কার্যসিদ্ধি করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করতে গিয়ে বিচারপতি খায়রুল হক এর ত্রোয়দশ সংশোধনী বাতিলের রায় ও পর্যবেক্ষণকে তারা তাদের স্বপক্ষে বড় যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছিল। অথচ সংখ্যাগরিষ্ট রায়ে আপীল বিভাগ দুটি সংসদীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে হতে পারে বলে যে মত দিয়েছিলেন আওয়ামী  লীগ তা মানেনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, সহ-সভাপতি এম. আজিজ, মোহাম্মদ আলী, সবুক্তগীন ছিদ্দিকী মক্কী, আশরাফ চৌধুরী, হারুন জামান, এম. এ হান্নান, শফিকুর রহমান স্বপন, সোহরাব কোম্পানী, সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. ইকবাল চৌধুরী, এড. আবদুস সাত্তার সরোয়ার, এস.এম আবুল ফয়েজ, যুগ্ম সম্পাদক এস.এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, এসকান্দর মির্জা, আর. ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, মোশারফ হোসেন দ্বিপ্তী, টিংকু দাশ, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ