ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেশবপুর আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অন্যের মাছের ঘের জবরদখলের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুর উপজেলার হাড়িয়াঘোপ গ্রামে এক আওয়ামী লীগ নেতা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতারণা করে একটি মাছের ঘের জবর দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘেরর প্রকৃত মালিকরা ঘেরের দখল নিতে গেলে তাদেরকে বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ঘের মালিক রেজাউল ইসলাম প্রতিকার চেয়ে গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।  
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌর এলাকার আলতাপোল গ্রামের লিয়াকত আলী বিশ্বাসের ছেলে রেজাউল ইসলাম একই গ্রামের মৃত- আব্দুল মোতালেব বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম, ফতেপুর গ্রামের লেলিন হোসেন ও হাড়িয়াঘোপ গ্রামের  মোসলেমউদ্দীন ২০১৫ সালের ১৫ মে কেশবপুর উপজেলাধীন হাড়িয়াঘোপ মৌজায় পানডহরী বিলের ও খালের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে মজুরখালি বিলে আনুমানিক ৯০ বিঘা জমি এলাকার প্রকৃত কুষকদের কাছ থেকে ৮ বছর মেয়াদে লীজ গ্রহণ করেন। এরপর তারা ঘেরের বেঁড়ি-বাধ নির্মাণ করে বিভিন্ন সাদা প্রজাতীর মাছ চাষ করে আসছেন। ওই ঘেরের বেড়ি-বাধ নির্মাণ করে মাছের খাদ্য সরবরাহসহ এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ২০/২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। যার অধিকাংশ টাকাই ঘের মালিক রেজাউল ইসলাম ব্যয় করেন বলে জানা গেছে। এদিকে, গত এপ্রিল মাসে ওই ঘেরের অপর শেয়ার রবিউল ইসলাম তার চার আনা শেয়ার হাড়িয়াঘোপ গ্রামের সাবেক মেম্বার আওয়ামীলীগ নেতা মশিয়ার রহমানের কাছে অতিগোপনে বিক্রি করে দেয়। এ সুযোগে মশিয়ার রহমান বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হােসেনকে ম্যানেজ করে অপর তিন শেয়ারকে বঞ্চিত করে ঘেরটি জবর দখল করে নেয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অবশিষ্ট তিনজন শেয়ার গত ৩ আগস্ট ঘেরে নামতে গেলে মশিয়ার রহমান লোকজন নিয়ে অপর ৩ শেয়ারকে ঘের থেকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে রেজাউল ইসলাম বাদি হয়ে গত মে মাসে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিচারের নামে সময় ক্ষেপন করে ঘুরাতে থাকেন। অবশেষে রেজউল ইসলাম ন্যায় বিচারের আশায় গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেছেন।
এ ব্যাপারে ঘেরের শেয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, ওই ঘেরে আমার যেটুকু অংশিদারিত্ব ছিল তাই বিক্রি করেছি। মশিয়ার সম্পূর্ণ ঘেরের মালিক কিভাবে হলো তা আমার জানা নেই।
সাবেক মেম্বার মশিয়ার রহমান বলেন, রেজাউলসহ ওই ৩ জন ঘেরের মালিক নয়। আমি মালিক রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ওই ঘের কিনে নিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সাইফুর রহমান জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ