ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় রেইন রিজার্ভ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে

খুলনা অফিস : বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ব্যবস্থা নিচ্ছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( কেডিএ)। নতুন করে বাড়ি তৈরির কোনও নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কেডিএর নকশা অনুমোদন নীতিমালায় ‘ রেইন রিজার্ভ’ এর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির নাম হতে পারে ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’। এই পদ্ধতিতে ভবনের ছাদ বা আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ধারক হিসেবে কাজ করে। ছাদে বৃষ্টির পানি ধারণ করার পর তা চলে যাবে রিজার্ভারে। এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক খরচ হবে অনেক কম। এতে নগরীতে পানির সঙ্কট অনেকাংশে নিরসন হবে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার শামীম জেহাদ জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও সঙ্কট দূর করতে বৃষ্টির পানি ধারণ করতে বিধান রাখা হচ্ছে। রেইন রিজার্ভারের পানি গৃহস্থালির পাশাপাশি বাড়ির বাগান ও অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। ভবন নির্মাণের জন্য যখন নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে তখন এই শর্তটি থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে এ ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। খুলনা ওয়াসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক খান সেলিম আহম্মদ জানিয়েছেন, ওয়াসার বর্তমানে শতভাগ পানি আসে ভূগর্ভ থেকে। ফলে দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। স্তর নেমে যাওয়ায় ওয়াসার নলকূপগুলো পানিও পাচ্ছে না ঠিকমত। নগরবাসীর পানি সঙ্কট দূর করতে খুলনা ওয়াসা বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। এ অবস্থায় যদি কেডিএ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এর এ ধরণের উদ্যোগ নেয় তাহলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর আমাদের নির্ভরতা কমবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতিটি চালু রয়েছে।
পরিবেশ আন্দোলন বেলা’র খুলনা সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছি। ওয়াসা এবং কেডিএসহ সংশ্লিষ্ট সকললের কাছে গিয়েছি। এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির পানি যখন ছাদে আটকে রাখা যাবে, তখন তা আর রাস্তায় আসবে না। ফলে জলাবদ্ধতাও কমবে। এই পানিতে আর্সেনিক নেই। পানি নষ্ট না করে আমাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবো। এটি কেডিএ’র একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু বলেন, বৃষ্টির পানি নলকূপের পানির চেয়ে অনেক বিশুদ্ধ। খাওয়ার উপযোগী। এই পানি ছাদ থেকে নামিয়ে মাটির নিচে রাখার ব্যবস্থা করলেতো সকলের জন্য ভাল। কেডিএ নতুন নকশায় এ ধরণের উদ্যোগের ফলে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। পানির সঙ্কট অনেকাংশে নিরসন হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর সভাপতি লোকমান হাকিম বলেন, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার হবে। ওয়াসার ওপর নির্ভরতা কমবে। নগরীর প্রত্যেকটি বাড়িতে যদি এমন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকে এবং তা ব্যবহার করলে আমাদের নগরীর পানি সঙ্কট নিরসন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ