ঢাকা, মঙ্গলবার 08 August 2017, ২৪ শ্রাবণ ১৪২8, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলে ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

খুলনা অফিস : খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলে শ্রমিক হাজিরায় কর্মরতদের স্থায়ী কর্মচারীতে পদায়নের দাবিতে মানববন্ধন, কর্মবিরতিসহ অনশন ও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।  বিজেএমসি চেয়ারম্যান, সচিব ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া স্মারকলিপিতে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এর আগে গত বুধবার খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে কর্মরতদের অবিলম্বে চাকুরি স্থায়ীকরণ করার জোর দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে প্রায় চার’শ জন শ্রমিক হাজিরায় কর্মচারী পদে কর্মরত রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাটকলগুলোতে শ্রমিক হাজিরা দিয়ে কর্মচারী হিসেবে বিভিন্ন বিভাগ এবং শাখায় নিম্নœমান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, সময়রক্ষক, টালীকরণিক, শিক্ষক, ড্রেসার, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে কাজ করে করছে। দীর্ঘদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসংখ্য পদ ধারাবাহিকভাবে শূন্য থাকায় স্ব-স্ব মিল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনসহ মিলের বিভিন্ন বিভাগ এবং শাখাগুলোতে উৎপাদন ও যান্ত্রিক বিভাগের বিভিন্ন শাখা থেকে উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ, বদলী, স্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে সেট-আপের বিপরীতে শূন্য স্থানগুলোতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করিয়ে আসছে। বদলী কর্মচারী হিসেবে কর্মরতরা সমান কাজ করলেও স্থায়ী কর্মচারীদের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছে। এছাড়া একজন স্থায়ী কর্মচারী যেসব সুযোগ সুবিধা পায় তা আমরা বদলী কর্মচারী এসবের কিছুই ভোগ করতে পারি না। সমপরিমাণ কাজ করে কম বেতন পেয়ে আমরা অবহেলিত।
খুলনা অঞ্চলের ৬টি জুট মিলের বদলী ও স্থায়ী শ্রমিকে হাজিরায় কর্মচারীরা হাইকোর্ট এ চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য মামলা করে (পিটিশন নং-১৫৭৬৬)। সেই মামলায় ৬টি মিলের ১২ জনকে বিজেএমসিকে বিবেচনার জন্য আদালত রায় দেয়। আর এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা জোনের সকল মিলের বদলী কর্মচারীরা পুনরায় মামলা করে (পিটিশন নং-৮৯৫৮)। এখন সেই মামলার রায়ের অপেক্ষায় আছি। বর্তমানে ওই মামলার কারণে বিজেএমসি’র নিয়োগ প্রক্রিয়া এক মাসের জন্য স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে মিল কর্তৃপক্ষ বদলী কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়ে দিচ্ছে এবং চেষ্টা করছে। 
বদলী কর্মচারী হিসেবে অনেকে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত এভাবে কাজ করে আসছে। তাদের এই সামান্য উপার্জনের ওপর নির্ভর করে অনেকগুলো জীবন বেঁচে আছে। সেখানে যদি তাদের নিয়োগ না দিয়ে বাদ দেয়া হয়, তাহলে পরিবারের সকলকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে। 
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান, সদস্য মো. জামাল, ক্রিসেন্ট জুট মিল থেকে সভাপতি মো. ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, স্টার জুট মিল থেকে ক্যাশিয়ার মো. মিজান,  মো. মিনহাজ, মো. রানা।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ