ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন

 

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন প্রশ্নে এর আগে জারি করা রুল যথাযথ (এ্যাবসিলিউট) ঘোষণা করে হাইকোর্ট এ স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেছেন। ফলে মামলাটিতে তার জামিন বহাল থাকছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন জাকির হোসেন ভূঁইয়া ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এরআগে জামিন বিষয়ে রুল ছিল। ওই রুল নিষ্পত্তি করে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০০৮ সালে খালেদা জিয়াকে জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন। দুদককে পক্ষভুক্ত না করেই জামিন দেয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ওই রুল শুনানিতে পক্ষভুক্ত হতে দুদক আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল মঞ্জুর করেন আদালত। অর্থাৎ এ মামলায় খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিন পেয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামীরা হলেন-মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। তিনি বিদেশে থাকা অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে দুদক। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন কেন বাতিল করা হবে না-তার কারণ দর্শানোর জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড.আকতারুজ্জামান। 

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, খালেদা জিয়া চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। চিকিৎসা শেষে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন। যেহেতু তিনি দেশে ফিরবেন সেজন্য জামিন বহাল রাখার নিদের্শনা চান আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত ৭ আগস্ট আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। তবে গত ৭ আগস্ট আদালত এ বিষয়ে ১৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ