ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে করা পর্যবেক্ষণ অপ্রাসঙ্গিক -এবিএম খায়রুল হক

 

স্টাফ রিপোর্টার : আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সংবিধানের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। রায়ে মূল বিষয় এড়িয়ে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে যা অপ্রাসঙ্গিক। রায়ে সংসদকে ইমম্যাচিউরড (অপরিপক্ক) বলা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার আইন কমিশনে নিজ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন এবিএম খায়রুল হক।

এবিএম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি পদে থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে উন্মুক্ত আদালতে আগামী দুটি নির্বাচন (দশম ও একাদশ) এর অধীনে হতে পারে বলে রায় দেন। কিন্তু তিনি অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস পর স্বাক্ষরিত রায়ে এই বিষয়টি বাদ দেন। সেসময় অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস পর তার রায় লেখা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল। অবসরে যাওয়ার পর এই প্রধান বিচারপতিকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তিন বছরের জন্য প্রধান বিচারপতি পদের মর্যাদায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়। অভিযোগ রয়েছে প্রধান বিচারপতি পদে থাকাকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সাহায্য নিয়েছেন। এ নিয়ে তখন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। 

সাংবাদিক সম্মেলনে এবিএম খায়রুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতি কি প্রধান শিক্ষক আর অন্য বিচারপতিরা কি ছাত্র যে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে (প্রধান বিচারপতি) অন্য বিচারপতিদেরকে পরিচালনা করতে হবে? সংবিধানের ৯৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে তো বিচারপতিরা সবাই স্বাধীন।

তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সংবিধানের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনতে হলে আবারো সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানে যেহেতু সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল ছিল না সেহেতু এটা রাখা সংবিধান পরিপন্থী।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধানে ১নং অনুচ্ছেদে গণপ্রজাতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই রায় দেশকে বিচারিক প্রজাতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে মার্শাল ল’ আমলে চলে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, যেখানে দুদককে চিঠি দিয়ে সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে নির্দেশ করে সেখানে তাদের ওপর (সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের সদস্য বিচারপতিদের) নির্ভর করব কিভাবে?

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা ভুল করলে সুপ্রিম কোর্ট দেখে সংশোধন করবেন। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতিরা) ভুল করলে আমরা যাব কোথায়? সুপ্রিম কোর্ট সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। যে কোন রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যে কেউ সেই রায় নিয়ে সমালোচনা করতে পারবে।

এই রায়ের মাধ্যমে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি এই রায়ে সংসদ সদস্যদের হেয় করা হয়েছে। তাদের ইমম্যাচিউরড বলা হয়েছে যা বলার দরকার ছিলনা বলেও মন্তব্য করেন খায়রুল হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ