ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ঝুঁকিতে -সোনিয়া

৯ আগস্ট, হিন্দুস্তন টাইমস,পার্সটুডে : ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, ভারতে বিদ্বেষ ও বিভাজন পর্ব চলছে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলন পর্বে ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের কথা স্মরণ করে আজ (বুধবার) সংসদে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
 সোনিয়া বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের কথা মনে রাখতে হবে এবং তা রক্ষার জন্য কাজ করতে হবে। গান্ধীজি সেসময় বলেছিলেন, করো অথবা মরো। তার ওই আহ্বানে গোটা দেশে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সেসময় কংগ্রেস কর্মীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জওহরলাল নেহেরু বহুদিন ধরে কারাগারে ছিলেন। ইংরেজ শাসকরা কংগ্রেস কর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছিল, জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সত্যাগ্রহীদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেয়া হয়েছিল। নারীদের উপরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসেননি।’ 
সোনিয়া বলেন, ‘আমাদের সকলকে আন্দোলনকারীদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা উচিত। সেসময় কিছু লোক ও সংগঠন ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের বিরোধিতাও করেছিল। আমার মনে হয় যখন আমরা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বর্ষপূর্তি পালন করছি তখন কিছু প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। দেশ কী অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে না? অন্ধকার শক্তি পুনরায় জেগে উঠছে, স্বাধীনতার সময়ের মতো পুনরায় ভয় ছড়ানো হচ্ছে, গণতন্ত্রকে শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে।’
কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী এক ন্যায়সঙ্গত ভারতের জন্য লড়েছিলেন কিন্তু আজ সেখানে বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতির মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। প্রকাশ্য স্থানে মতাদর্শ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আইনের শাসনের মধ্যেও অবৈধ শক্তিকে মজবুত হতে দেখা যাচ্ছে। যদি আমরা স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখতে চাই তাহলে আমাদের প্রত্যেক দমনকারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’
উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস'কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, সেসময় এমন সংগঠন ও ব্যক্তি ছিল যাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনো অবদান নেই বরং তারা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তারাই আজ স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলছে।’ আরএসএস বিরোধীরা সবসময়ই অভিযোগ করেন যে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএস ইংরেজদের সঙ্গে ছিল।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ ডাক দিয়েছেন। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর কলেজ মাঠে আয়োজিত দলীয় এক জনসভা থেকে তিনি এ ডাক দেন।
মমতা অভিযোগ করেন, দেশকে ভাগ করার উসকানি দিচ্ছে দিল্লী। ওরা দেশকে ভাগ করতে চাইছে। মানুষকে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়েছে। ওরা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের চাবুক চালাচ্ছে। দিল্লির এই শাসকদের হাতে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তাই দেশকে বাঁচাতে ২০১৯ সালে বিজেপিকে ভারত ছাড়ার ডাক দেন।
অনেক রাজনৈতিক দল ওঁদের (বিজেপির) বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না উল্লেখ করে মমতা বলেন, কারণ সিবিআইয়ের ভয়। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে যাঁরা ক্ষমতায় তাঁরা দেশ ভাগ করতে চাইছে। ‘আমরা দেশ ভাগ করতে দেব না। আমরা দেশ ভাগাভাগির খেলায় বিশ্বাসী নই। আমার এখানে সুদীর্ঘকাল ধরে হিন্দু-মুসলমানেরা একসঙ্গে বাস করে আসছি। আমাদের এই সম্প্রীতির মাঝে আমরা কখনো ফাটল ধরাতে দেব না। কারণ, বহুত্বের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতাই ভারতের বৈশিষ্ট্য।’
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গের বন্যায় হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। ভেসে গেছে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এ বন্যা বৃষ্টির জলে হয়নি। এ বন্যা বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়ার জন্য হয়েছে। দামোদরের বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়ায় এ রাজ্যের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মমতা বলেন, আঁধার কার্ড নিয়ে খেলা চলছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কোন আধাঁরে বাস করছি? এখন বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলে আঁধার, মানুষের শেষকৃত্যে আঁধার। আমরা এখন কোন আঁধারে বাস করছি? আমরাতো এখনো আঁধারে আছি। তিনি বলেন, দিল্লির এই সরকার নোট বাতিল করে দেশের বেকারত্ব বাড়িয়েছে। আবার জিএসটি চালু করে মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। জিএসটির জেরে এখন বহু ওষুধ মেলে না বাজারে। মানুষ কোথায় যাবে বলুন?’ তাই তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, ‘বিজেপির সরকার আর নেই দরকার। মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ