ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুঁজি ও স্থান সংকটে খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা

খুলনা অফিস : ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে পারছেন না খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা। পুঁজি ও স্থান সংকট, ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওয়া অনাদায়ী এবং চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ না পেয়ে গুটিয়ে যেতে বসেছে জমজমাট এ চামড়া ব্যবসা। এ সংকট উত্তরণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এদিকে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গত বছরের মতোই এবারও চামড়ার মূল্য আগের তুলনায় সস্তা হতে পারে। বর্তমানে গরুর ১নং চামড়া প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা, গরুর ২নং চামড়া দাম ২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে । এছাড়া খাসি ১নং ২৫ টাকা ও বাকি সব চামড়া প্রতি বর্গ ফুটের দাম ২০ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় একশ’ বছর পূর্বে নগরীর শেরে বাংলা রোডের পাওয়ার হাউস মোড়ে গড়ে ওঠে কাঁচা চামড়া ব্যবসা। জমজমাট ওই ব্যবসায় তখন অন্তত তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন মাত্র ১২ জন ব্যবসায়ী কোন রকমে টিকে আছেন। এ ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কোন দোকান না থাকায় মালিকদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় পুঁজি খাটিয়েও ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিনের বকেয়া পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে পুঁজি সংকটে পড়েছেন তারা। আবার ব্যবসার জন্য দোকান পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ভাড়া নেয়া ঘরও ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে পানি চুইয়ে কাঁচা চামড়া পচে যাচ্ছে। বাড়িওয়ালা ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। কয়েকজন ছেড়ে দিয়েছে দোকানও। দৈন্যতায় বাকী এখন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ব্যবসা ছাড়ার!

ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী মো. আমান উল্লাহ, মোস্তফা, মনোদাস ও শহিদুল ইসলামকে ঘর ছেড়ে দিতে হয়েছে। ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা ভাড়ায়ও ঘর পাচ্ছেন না তারা। সিটি কর্পোরেশনের কাছে প্রতিবছর ব্যবসায়ীরা জায়গা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করলেও কর্ণপাত নেই কর্তৃপক্ষের। নগরীর জোড়াগেট, গল্লামারী অথবা অন্য কোথাও জায়গা খুঁজতে বললেও কার্যকর কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না সংস্থাটি। খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমানউল্লাহ জানান, বিপদে আছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে দেখা করেছি। তিনি আমাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। জোড়াগেট বাজারটি জমাতে পারেনি  কেসিসি কর্তৃপক্ষ। এখানে শুধু বছরে একবার কুরবানির হাট বসে সেখানে। আর সারা বছরই জায়গাটি খালি পড়ে থাকে। এখানে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করলে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারবে।

ব্যবসায়ীরা বলছে, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ দেয়া হয় চলতি হিসাবের বিপরীতে। তার পরও ব্যাংকে সম্পত্তির দলিল জমা দিতে হয়। চামড়া বিক্রির টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পড়ে আছে অন্তত ৮ কোটি টাকা। ব্যবসা ভালো নয় বলে তারাও টাকা দিচ্ছে না। একমাসও হাতে সময় নেই; আবার চামড়া কেনার মওসুম। এ অবস্থায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সালাম বলেন, খুলনার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা পথে বসতে চলেছে। তারা দেনায় জর্জরিত। সুদে টাকা এনে ব্যবসা করতে হচ্ছে। সরকার একটু নজর দিলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারতাম। না হলে ব্যবসা হারিয়ে অনেকে পথে বসতে হবে! ১৯৯৬ সালে ৫৫ লাখ টাকা হারিয়েছে ট্যানারিতে, যা এখনও অনাদায়ী। ব্যবসায়ীদের গত তিন বছরের বকেয়া টাকাও পরিশোধ করেনি ট্যানারি মালিকরা। এখন কোন রকম পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চলছে, এ অবস্থায় ট্যানারি মালিকরা পাওয়া টাকা না দিলে বিপদে পড়বে খুলনার ট্যানারি ব্যবসায়ীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ