ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ খুলনা মহানগরবাসীর

খুলনা : একটু বৃষ্টিতেই তলিয়ে থাকা একটি রাস্তা, খানাখন্দ দৃশ্যমান না হওয়ায় এ রাস্তায় সম্প্রতি এক ইজিবাইক উল্টে যায়

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর বেশির ভাগ সড়কেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের এসব গর্তে পানি, কাদা ও ময়লা-আবর্জনা জমে যায়। এতে দুর্ভোগে নাজেহাল হতে হয় নগরবাসীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর এমএম সিটি কলেজের সামনে, পূর্ব বানিয়াখামার রোড, লবণচরা রোড, পূর্ব বানিয়াখামার, শীতলাবাড়ী মন্দিরের পেছন, ফরাজীপাড়া রোড, গফফারের মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, ছোট মির্জাপুর, রায়পাড়া ক্রস রোড, ময়লাপোতা রোড, মিয়াপাড়া, শীতলাবাড়ি মন্দিরের সামনের রাস্তা, স্যার ইকবাল রোড, শামসুর রহমান রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা। একটু বৃষ্টি হলেই এসব সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়কে রয়েছে খানাখন্দ।

নগরবাসী জানান, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেলে বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির রাস্তার বিটুমিন উঠে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ছোট-বড় গর্ত। জলাবদ্ধ থাকলে সড়কের বেহাল অবস্থা দৃশ্যমান হয় না। এতে যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। বর্তমানে ওয়াসার পানির পাইপলাইন বসানোর কাজ চলায় ভোগান্তি অনেক বেড়েছে। কেসিসি ও ওয়াসার কাজের সমন্বয় না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার ময়না বেগম জানান, ওই এলাকার রাস্তার খুবই বাজে অবস্থা। বৃষ্টি হলে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। মূল রাস্তার পাশাপাশি অলিগলির রাস্তাগুলোও খানাখন্দে ভরে গেছে।

মৌলভীপাড়ার মো. ইমাম হোসেন জানান, বর্তমানে নগরীর রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। বাসা থেকে বের হতেই তার ভয় লাগে। তার মনে হয়, কখন যে রিকশা থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

শেরেবাংলা সড়কের ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সজীবের অভিযোগ, ‘সংস্কারের নামে কেসিসি ইট-বালু দেয়ায় ওই সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। যদি ইট-বালু ফেলার পর কার্পেটিং বা পিচ করতো, তবে দুর্ভোগ বাড়তো না।’ ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গাউসুল আযম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার এলাকার সড়কের অবস্থা খারাপ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাও বেহাল। সড়কের পাশের ড্রেনগুলো কিছু বাসিন্দার দখলে আছে, যা সংস্কার করতে হলে ওই সব বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমি বের করে আনতে হবে। এছাড়া ওই সড়ক মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়, এতে কেসিসি কোনও পদক্ষেপ নিতে পারছে না। কেসিসির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নাঈম হাসান বলেন, ‘গফ্ফারের মোড় থেকে বাগমারা সেতু পর্যন্ত রাস্তায় বড় বড় গর্তে রয়েছে। বছরের পর বছর এ রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার গর্তগুলো নিমজ্জিত থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’

কেসিসির ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেএম হুমায়ুন কবির জানান, বর্তমানে তার এলাকার রাস্তায় ঢালাইয়ের কাজ চলছে। বাগমারা সেতু থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ হবে গফ্ফারের মোড়ে গিয়ে। এক কিলোমিটারেরও বেশি সংস্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টি নামলে কাজ বন্ধ রাখা হয়। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খুলনা সিটি করপোরেশনের ( কেসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘নগরীর যে সড়ক ওয়াসার পানির পাইপলাইন স্থাপনের কাজের জন্য ভেঙেছে, খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, তা মেরামতের দায়িত্ব ওয়াসা কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে কেসিসির কিছু করার নেই। আর জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সড়ক মেরামতে কেসিসির প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি, ড্রেনও পরিষ্কার করা হচ্ছে।’

খুলনা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংস্কারের জন্য বেশ কিছু রাস্তার তালিকা কেসিসি থেকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এসব সড়কের সংস্কার করবে। ইতোমধ্যে অনেক কাউন্সিলর তাদের এলাকার রাস্তার সংস্কারের জন্য ওয়াসাকে চিঠি দিয়েছেন। 

১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ১৬টি রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু করার জন্য চিঠি দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ যে কোনও কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। ওই সময়ের মধ্যে কাজ না করতে পারলে মূল প্রকল্পের ক্ষতি হয়। সিটি করপোরেশন থেকে দেয়া তালিকার কিছু সড়কের কাজ আগে করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সেসব রাস্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে খানজাহান আলী রোড ও নিউমার্কেট এলাকার সড়কের সংস্কারের কাজ কাজ করছে ওয়াসা। বর্ষার সময় যাতে কোনও মানুষের অসুবিধা না হয়, সে বিষয় মাথায় রেখে সংস্কার কাজ চলছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘সড়কের প্রবেশ পথটি দীর্ঘদিন খানাখন্দে ভরা। এতে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ জ্যাম তৈরি হয়। এছাড়া সড়কে নেই কোনও রোড ডিভাইডার।’ তার অভিমত, ‘ শেরে বাংলা সড়কের প্রবেশপথ সংস্কার, সড়ক প্রশস্ত করলে এবং রোড ডিভাইডার যুক্ত করলে নগরবাসীর দুভোর্গ কিছুটা লাঘব হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ