ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফের হুমকি দিলে উত্তর কোরিয়াকে কড়া জবাব দেয়ার হুশিয়ারি ট্রাম্পের

৯ আগস্ট, দ্য গাডিয়ান/রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রে আর কোনও হামলার হুমকি দিলে উত্তর কোরিয়াকে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কথা জানালে এই হুমকি দেন ট্রাম্প। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
উত্তর কোরিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিম ইউরোপে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শেষ কারিগরি প্রতিবন্ধকতাও পার করে ফেলেছে তারা। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার আর হুমকি না দেওয়াই ভালো। নাহলে তারা এমন পরিস্থিতি দেখবে যেটা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।’
উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই বক্তব্যে ট্রাম্পই বিপাকে পড়বেন। ওয়াশিংটন ভিত্তিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ডারিল কিমবল বলেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দেওয়া ট্রাম্পের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নয়। আমার এই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সংলাপ প্রয়োজন।’ রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেছেন, ‘আমি জানি না তিনি আসলে কি বলছেন। আমি অনেক আগেই তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা খোঁজা ছেড়ে দিয়েছি। তবে আমার মনে হয় না তার এই বক্তব্য ঠিক ছিলো।’ যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো হুমকি দিলে উত্তর কোরিয়ায় জোরালো হামলা চালিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বুধবার পাল্টা এ হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়া।
দেশটি জানিয়েছে, তারা গুয়ামে হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা ‘সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখছে’।
গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি আছে। এই ঘাঁটিতে একটি বিমান ক্ষেত্র, একটি সাবমেরিন স্কোয়াড্রন ও দেশটির কোস্টগার্ডের একটি দল আছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কোরিয়ান পিপলস আর্মির এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের নেতা কিম জং উন সিদ্ধান্ত নিলেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ’ উদ্ভাবন করেছে অভিযোগ করে উত্তর কোরিয়ার অপর একজন সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, “এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখ-সহ শত্রুদের সব শক্তিকেন্দ্র ধ্বংস করতে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা হবে।”
উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচী বন্ধ করতে দরকার হলে শক্তি প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন, তবে শক্তি প্রয়োগের চেয়ে নিষেধাজ্ঞাসহ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপই তাদের পছন্দ বলে জানিয়েছে। শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতভাবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ