ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজধানীবাসীকে স্বস্তি দিতে কোনো সুখবর নেই

জিবলু রহমান : [দুই]
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মোট ভূমির ১ শতাংশ জুড়ে থাকা এই ঢাকা থেকেই মোট দেশজ উৎপাদনের ৩৬ শতাংশের জোগান আসে। প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হয় ৪৪ শতাংশ। এসব গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকার শহরটির আধুনিকায়নে বদ্ধপরিকর। গণপরিবহন সেবায় মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকের মধ্যে সমন্বয় করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ৮০ শতাংশ পানি ভূ-উপরিস্থ থেকে সংগ্রহ করার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পয়ঃসুবিধার আধুনিকায়নেও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আরেক পর্বে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অ্যান্থনি ভ্যানেবলস এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের পিএইচডি ফেলো জুলিয়া বার্ড ২০৩৫ সালের ঢাকা শহরের একটি মডেল উপস্থাপন করেন। সেই দৃশ্যকল্পে বলা হয়, ঢাকার পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এতে মূল শহর থেকে মানুষ কাজের জন্য পূর্বাঞ্চলে যাওয়া শুরু করবে এবং মূল ঢাকার ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ এবং সাশ্রয়ী করতে হবে। জনসংখ্যার ঘনত্ব কমানোর জন্য শহরের বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে বিকেন্দ্রীকরণের সুফল মানুষ পাবে।
আরেকটি পর্বে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকার জন্য নীতিনির্ধারণ ও নীতি বাস্তবায়নের দিকেও নজর দিতে হবে। বিশাল একটি জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাই কম খরচে গৃহায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
ইফাত শরীফ বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তা করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আক্তার মাহমুদ বলেন, কয়েক বছরে ঢাকার আশপাশ যেমন গাজীপুর, টঙ্গী এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শহরের মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলেও যোগাযোগ পরিকল্পনায় সবার আগে তাদের কথাই চিন্তা করা হয়। তিনি পূর্ব ঢাকায় নগরায়ন বাড়ানোর আগে পরিবেশ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন। ‘ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং’-এর পরিচালক এসএম মাহবুবুর রহমান জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন।
বিভিন্ন পর্বে আরও অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ইফাত শরীফ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব কামাল আবদুুল নাসের চৌধুরী, হাতিরঝিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ প্রমুখ। (সূত্র : দৈনিক সমকাল ২০ জুলাই ২০১৭)
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেই দেখা যায়, সড়কজুড়ে ফেলে রাখা হয় নির্মাণসামগ্রী। এরফলে সংকুচিত হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচলের পথ। প্রবল বৃষ্টিতে হেঁটে চলারও উপায় থাকেনা। অগত্যা ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হয় নাগরিকরা। খোঁড়াখুঁড়ি, কাটাকুটি, নতুন নির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা এবং মৌসুমি বৃষ্টিতে অধিকাংশ রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এসব রাস্তায় চলতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই কাটাতে হচ্ছে নিরুপায় কর্মজীবী মানুষকে।
এই দুর্ভোগ এক দিন, সপ্তাহ বা মাসের নয়। এই অবস্থা চলছে মাসের পর মাস। কিন্তু নগর কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারের কোনো পর্যায় থেকেই এই দুর্ভোগ নিরসন কিংবা নিদেনপক্ষে কমিয়ে আনার মতো কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নগরবাসী অসহায়, নিরুপায়। দুর্ভোগ থেকে শিগগিরই মুক্তির কোনো পথ তাদের সামনে খোলা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও সাময়িক স্বস্তির কোনো পথ দেখাতে পারছে না।
নগর-গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অর্থহীন ও উল্টাপাল্টা প্রকল্প গ্রহণের ফলে নগরীর এই অচলাবস্থা। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ইতিমধ্যে খুব খারাপ হয়ে গেছে। ঢাকায় নতুন সমস্যা হিসেবে যুক্ত হয়েছে জনস্বাস্থ্য। এখনকার মতো আর কিছুদিন চলতে থাকলে ঢাকা পুরোপুরি ‘ফেইলড সিটি’ হয়ে যাবে। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ২৬ জুলাই ২০১৭)
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সর্বত্র রাস্তা খারাপ। কাটা,  খোঁড়া ছাড়া বৃষ্টির কারণেও রাস্তায় ভাঙন ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনেরই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছে নতুন রাস্তা তৈরি। একই সঙ্গে চলছে ফুটপাত ভাঙা-গড়ার কাজ। চলছে নর্দমা তৈরির কাজও। আছে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা। ফলে স্বাভাবিক চলাচলের কোনো উপায়ই নেই। বাড়ির বাইরে বের হলে বেহাল রাস্তা ও পরিবহনের বিশৃঙ্খলায় সামনে এগোনো যায় না। আধা ঘণ্টার পথ দুই ঘণ্টায় পাড়ি দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে এভাবে নিরুপায় অবস্থায় ফেলেছে। এ থেকে মানুষকে উদ্ধারের কেউ নেই।
ঢাকা উত্তর সিটিতে এ বছরই প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক, নালা ও ফুটপাতের দৈনন্দিন মেরামতের জন্য বরাদ্দ আছে ১৮০ কোটি টাকা। তারপরও দেখা যাচ্ছে রাস্তাঘাটে মানুষের দুর্ভোগ তো কমছেই না, বরং বাড়ছে।
আতংকের বিষয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি অল্পস্বল্প ভাঙাচোরা থাকলেও কিছুদিন আগে পর্যন্ত মোটামুটি ব্যবহারের উপযোগী ছিল। জুলাই মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতে রাস্তাটিতে পানি জমে যায়। সর্বশেষ ভারি বৃষ্টির পর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেরোতে থাকে ভাঙাচোরা কঙ্কালসার সড়ক। সেখানে কেবলই গভীর গর্ত। আর চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ইট-সুরকি-পাথর। এমনভাবে ভেঙেচুরে তছনছ হয়েছে যে, একপাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ রাজপথের এখন এ রকমই হাল।
রাজধানীর সব রাস্তাই বিটুমিন (পিচ) দিয়ে তৈরি। বিটুমিনের প্রধান শক্র পানি। বিটুমিনের ওপর পানি জমা থাকা অবস্থায় যানবাহন চলাচল করলেই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামান্য বিটুমিন উঠে গেলেই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা ভেঙে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। ইট-সুরকি বেরিয়ে পড়ে। সেসব সুরকি চাকার নিচে পড়লে দ্রুত আশপাশের সড়কও ভেঙে যায়। এমন অবস্থা এখন অন্তত ৫০ শতাংশ রাস্তার, যা দ্রুত মেরামত করা দরকার।
ঢাকা দক্ষিণে ফ্লাইওভারের কারণে মালিবাগ-মৌচাক এলাকায় রাস্তার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রাবাগীতে রাস্তা, পয়োনিষ্কাশন লাইন ও নর্দমার কাজ চলছে। উমেশ দত্ত রোড, হোসেনি দালান ও নাজিম উদ্দিন রোডে রয়েছে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা।
গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সড়ক ও গ্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন বাবদ ৭০১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।
প্রতিবছর মেরামতযোগ্য সড়কের পরিমাণে তেমন হেরফের হচ্ছে না, বরং প্রতিবছরই বরাদ্দ বাড়ছে। গত বছর দুই সিটি করপোরেশন ৫২০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করেছে। চলতি বছর ৫১৯ কিলোমিটার মেরামতের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছরে দুই সিটির সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসীকে স্বস্তি দিতে এই ভরা বর্ষায়ও কোনো সুখবর নেই। এখন সিটি করপোরেশন বড় বড় গর্তে আস্ত ইট ফেলছে। কিন্তু এতে পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না। ইট দিয়ে রাস্তার গর্ত ভরাট, বর্ষার পানি আর চাকার ঘর্ষণে তা আবারও নষ্ট হওয়া-এই চক্রেই দিন পার করতে হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বলছে, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী মেরামতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসড়ক ও মগবাজার-মৌচাক-শান্তিনগর উড়ালসড়কের নিচের সড়ক প্রায় পাঁচ বছর ধরেই বেহাল। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ দুই উড়ালসড়কের নিচের সড়কের কিছু কিছু স্থানে গর্ত এতটাই গভীর যে নতুন করে নির্মাণ না করলে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা যাবে না। মগবাজার উড়ালসড়কের নিচের সড়ক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে এই সড়ক চালু রাখার বিষয়টি ঠিকাদারের সদিচ্ছার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
ঢাকায় মোটা দাগে মূল সড়ক পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে কুড়িল থেকে প্রগতি সরণি হয়ে রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী; আবদুল্লাহপুর থেকে মহাখালী ও ফার্মগেট হয়ে প্রেস ক্লাব; গাবতলী থেকে আজিমপুর; মহাখালী থেকে মগবাজার হয়ে গুলিস্তান এবং পল্লবী থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক। এর মধ্যে আবদুল্লাহপুর থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত সড়কটিই একটু ভালো। এই পথে রাষ্ট্রীয় অতিথি, ভিভিআইপি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল সবচেয়ে বেশি।
রাজধানীর প্রায় সব সড়কই সিটি করপোরেশনের অধীনে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এর বাইরে বিমানবন্দর সড়কের বনানীর পরের অংশসহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে থাকা সড়ক ৫০ কিলোমিটারের বেশি নয়। এর মধ্যে গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধের অবস্থা বেশি খারাপ।
এ বছর বর্ষা শুরুর আগে কতটুকু সড়ক বেহাল, তা হিসাব করে দুই সিটি করপোরেশন মেরামতের পরিকল্পনা করে। এতে দেখা গেছে, ৫১৯ কিলোমিটার সড়ক বেহাল, অর্থাৎ মেরামত করতে হবে। এর মধ্যে উত্তরে ২৫০ এবং দক্ষিণে ২৬৯ কিলোমিটার। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২২ শতাংশ সড়ক বর্ষার আগে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছিল।
খুবই নাজুক অবস্থা কাকরাইল থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের। গর্তগুলোকে দেখে ম্যানহোল ভেবে ভুল করছেন অনেকে। কিছু এলাকায় পানি স্থায়ীভাবেই জমেছে। অনেক স্থানে রিকশা-অটোরিকশা-ট্যাক্সি যেতে চায় না। গেলেও দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া হাঁকেন চালকরা।
ডিএনসিসি এলাকার মধ্যে এখন সবচেয়ে খারাপ রাস্তা রয়েছে মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায়। এ দুটি এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
শান্তিনগর থেকে বাড্ডা পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজে আগে থেকেই কাটাকুটি চলছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পুরো সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এক নাগাড়ে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যেরও সমতল কোনো অংশ নেই।
তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে মহাখালী পর্যন্ত সড়টিরও এখন বেহাল দশা। রাস্তাটি সমতল নয়, আগে থেকেই উঁচু-নিচু ছিল। বৃষ্টির পরে ভেঙেচুরে একাকার। বিজি প্রেসের সামনে থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার লেনটি এতই খারাপ যে মাঝে মধ্যে ইট-সুরকি ঢেলে চালু রাখার চেষ্টা করেও কখনও লেনটি বন্ধ করে দিচ্ছেন ট্রাফিক সদস্যরা।
মিরপুর রোডের কল্যাণপুর থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও প্রায় বর্ণনার অতীত। চলতে গিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত পথচারীদের।
মিরপুরের পল্লবী থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত সড়কে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন যানবহন খুঁড়ে রাখা গর্তের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। এ সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেট কারের গর্তে পড়ে থাকা নৈমিত্তিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় মেট্রোরেলের জন্য কয়েক মাস ধরেই চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। তার ওপর ভারি বর্ষণ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়েছে। প্রকল্পের কারণে খোঁড়ার পাশে চলাচলের অংশ যেটুকু ছিল, তাও তছনছ।
কল্যাণপুর ও মিরপুর বাঙলা কলেজ থেকে পীরেরবাগের ভেতর দিয়ে রোকেয়া সরণিতে যুক্ত হওয়া রাস্তাটিতে হেঁটে চলাফেরা করতে আতঙ্কে থাকতে হয় পথচারীদের। নেহাত জরুরি কাজ ছাড়া এলাকাবাসীর অনেকে ঘর থেকে বের হতে চান না। তালতলা থেকে জনতা হাউজিং পর্যন্ত সড়ক দিয়ে কোনো রিকশাচালক যেতে চান না।
যাত্রাবাড়ী থেকে কাজলা পর্যন্ত সড়কটির এতই বেহাল অবস্থা যে, চলতে গেলে মনে হয় যে কোনো মুহূর্তে গাড়ি উল্টে যাবে। উত্তর যাত্রাবাড়ীর অলিগলির বেহাল অবস্থার সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা যুক্ত হয়ে পুঁতিগন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের মোড় থেকে বারিধারা ডিওএইচএস পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা একেবারেই বাজে।
বনশ্রী এলাকার এ থেকে এম ব্লক পর্যন্ত এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বি ও সি ব্লকের মূল সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। ডি, ই, এফ, জি ব্লকের মূল সড়কেরও একই অবস্থা। রামপুরা টেলিভিশন ভবন থেকে বনশ্রী আবাসিক এলাকায় যাতায়াতের রাস্তাটি তো প্রায় অচল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ