ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে চোখ বাংলাদেশের

মাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক : নানা নাটক বিবৃতি পাল্টা বিবৃতির পর অবশেষে সমাধান হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে চলতে থাকা সংকটের। এবার সময়মতোই বাংলাদেশে আসবে স্টিফেন স্মিথের দল। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে পরাজয়ের পর ২০০৬ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সফরে বাংলাদেশ আসে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সেবার ফতুল্লা টেস্টে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। তিনতিনের বেশি সময় ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েও অনেকটা অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয়েছিল হাবিবুল বাশার সুমনের দলকে। ১১ বছর পর আবারো একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একবছরের বেশি সময় আগে বাতিল হওয়া সফরটি আয়োজন নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। তবে বাংলাদেশ ঠিকই নিজেদের প্রস্তুত করার মিশনে নেমেছিল। অন্যদিকে বেতন-ভাতা নিয়ে খেলোয়াড় ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মধ্যে বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান হয়েছে গত ৩ আগস্ট। দু’পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছানোয় বাংলাদেশও খুশি। অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর নিয়ে আর কোনো বাধা রইল না। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৮ আগস্ট দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসার কথা স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নারদের।
ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর বাংলাদেশ আর কোনো সিরিজ খেলেনি। এর আগে অসিদের আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বাংলাদেশ বিকল্প কোনো দলের সঙ্গে খেলার পরিকল্পনা করেনি। এর আগে স্মিথদের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশ নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে। ২৭ আগস্ট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম এবং ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এখন সংকট উতরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বইয়ে স্বস্তির বাতাস। এদিকে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ক্রিকেট সিরিজের জন্য জোরদার প্রস্তুতিতে আছে বাংলাদেশ দল। সপ্তাহখানেকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফিটনেস ক্যাম্প শেষে এখন চলছে স্কিল অনুশীলন। জাতীয় দলের প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে দেখভাল করছেন নেট অনুশীলন। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাসখানেকের জন্য ব্যাটিং কোচ মার্ক ও’নিল। স্পিন কোচ হিসেবে আসার কথা রয়েছেন স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের। আর ফাস্ট বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ তো আছেনই। সব মিলিয়ে সামনের অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ, নতুন মৌসুমে তার দলের লক্ষ্য, ইত্যাদি এসব নিয়ে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন কোচ হাথুরুসিংহে। আশাবাদী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সন্দেহ নেই টেস্ট ক্রিকেটেও আমরা বেশ ভালো উন্নতি করেছি। এখন উপমহাদেশের মাটিতে টেস্ট জেতাটা আমাদের পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে আমরা দুই টেস্টের সিরিজটা জিততে চাই। তারপরের চ্যালেঞ্জের নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। প্রোটিয়াদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগের প্রথম দুই সপ্তাহের সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে’। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই দলের কারোরই টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেখছেন নতুন স্বপ্ন, ’আমাদের সামনের লক্ষ্যটা অনেক দূরের। তাই আমরা ২০ জনের মতো ক্রিকেটারকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। অন্তত আমি বিশ্বাস করি আমার জন্য মূল লক্ষ্যটা হল ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ। তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্যে তেজি মনোভাব নিয়ে মাঠের ক্রিকেটে লড়াই করার জন্য খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন এই খেলোয়াড়রা অংশ নেয় তখন সেখানে এমন জোরদার লড়াই, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজটা ঠিক তারা পায় না। সেই তরুণ খেলোয়াড়রা যখন জাতীয় দলের সঙ্গে একই সঙ্গে অনুশীলন করবে তখন সামনের দিনে তাদের জন্য কেমন কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটা তারা বুঝতে পারবে। বুঝতে পারবে জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে তাদের কতখানি মনপ্রাণ ঢেলে লড়াই করতে হবে। এটাই তাদের ভাল করার মূল প্রেরণা। এদিকে অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যকার টানাপড়েনের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। দু’পক্ষেরই দাবি, নতুন চুক্তির ফলে লাভবান হয়েছেন তারা। ক্ষতির হিসাবটা করতে বসলেও অবশ্য নিরাশ হতে হয় না। প্রত্যক্ষ ক্ষতি বলতে, এই দ্বন্ধের জেরে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট। আর পরোক্ষ ক্ষতি, বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্কের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যাওয়া। জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ৩৪ দিন ধরে চলা দ্বন্ধে ক্রিকেটারদের দাবি আদায়ে বোর্ডের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)। তবে যে প্রক্রিয়ায় দু’পক্ষ শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসেছে, সেটার পুনরাবৃত্তি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আর দেখতে চান না সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ডায়ার। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটাররা যে রকম সাহসিকতার সঙ্গে পুরো ব্যাপারটি সামাল দিয়েছে, সেটার জন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাতে চাই। আমরা শেষ অবধি ভালো একটা জায়গায় পৌঁছেছি। তবে এটাও ঠিক যে, যে প্রক্রিয়ায় এটি হয়েছে সেটা আরও একবার হওয়াটা কাম্য নয়। ক্রিকেটাররা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে চায়নি ঠিকই; কিন্তু তাদেরও এটার ভুক্তভোগী হতে হয়েছে।’ দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব ক্রিকেটারদের তরফ থেকে শুরু হয়নি বলেও দাবি তার।
এদিকে নতুন চুক্তিতে প্রায় সাতগুণ বেতন বেড়েছে নারী ক্রিকেটারদের। উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতনও। আগামী পাঁচ বছরে বোর্ডের অনুমিত আয়ের পরিমাণ ১৬৭ কোটি ডলারের ২৭.৫ শতাংশ পাবেন ক্রিকেটাররা। যদি আয় ১৬৭ কোটি ডলার ছাড়ায়, তবে বাড়তি অঙ্ক থেকে ক্রিকেটাররা পাবেন ১৯ শতাংশ। আর বাকি ৮.৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে তৃণমূল ক্রিকেটের উন্নয়নে। দু’পক্ষই লাভবান হওয়ার দাবি করলেও বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অসি অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডারের মতে, নতুন চুক্তির ফলে বেশি লাভবান হয়েছেন ক্রিকেটাররাই। প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসলেও তাদেরকে দেখানো সম্ভব হয়নি একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম।
মাঝে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকা মহানগরের বড় অংশ ডুবে গিয়েছিল পানিতে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর ঢাকার জলাবদ্ধতার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানির নিচে ফতুল্লা স্টেডিয়াম, এর প্রবেশ পথ ও মাঠের পাশের আউটার স্টেডিয়াম। আর প্রস্তুতি ম্যাচের সময়ও হাতে সেভাবে সময় নেই, তাই এখন বিসিবির সবচেয়ে বড় চিন্তা, অস্ট্রেলিয়া দলকে প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু দেয়া। ভেন্যু সমস্যার সমাধানটাও তাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, ফতুল্লা ঠিক না হলে বিকেএসপি’র যে কোন একটি মাঠে হতে পারে প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে অবশ্য কখনোই নিরাপত্তা নিয়ে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। এবার বোধকরি মাঠের বাইরেও জয়ী হবে বাংলাদেশ। সেটা মাঠের ক্রিকেটের মতোই নিরাপত্তা আর আতিথেয়তায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ