ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 August 2017, ২৬ শ্রাবণ ১৪২8, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশ বিনষ্টকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃংখলা সমুন্নত রাখার বিষয়ে গতকাল সকালে ভিসি দফতরের সভা কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।  সভায় চ.বি. রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হুদা, প্রক্টর  আলী আজগর চৌধুরী ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, নিরাপত্তা প্রধান বজল হক ও নিরাপত্তা দফতরের কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারবৃন্দ, ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জোস মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
সভায়  ভিসি  বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার মনোরম পরিবেশ বিনষ্টকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সব ধরণের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। 
 ভিসি বলেন, অল্প কিছু সংখ্যক আইন-শৃংখলা বিরোধী ব্যক্তির কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জিম্মি হতে পারে না। যে কোনো বিশৃংখলা ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা-দুর্ঘটনা এড়াতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বলয়কে অধিকতর কার্যকর ও দৃশ্যমান করা হবে।  এ লক্ষ্যে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস-মাদক প্রতিরোধ ইত্যাদি নেতিবাচক কর্মকা- প্রতিরোধে প্রক্টরিয়্যাল বডির দিক নির্দেশনায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং নিরাপত্তা দফতরের কার্যক্রম মনিটরিং এর মাধ্যমে দৃশ্যমান করা হবে। সার্বিক পরিকল্পনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো বহিরাগত পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে পরিচয়পত্রবিহীন কাউকে রিক্সা/অটো রিক্সা চালাতে দেয়া হবে না। সকলের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রাস্তাসমূহে বিভিন্ন পয়েন্টে নির্দেশিকা ও ডিভাইডার দেয়া হবে, পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করতে ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণ করা হবে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সুপরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা হবে, নিরাপত্তা কর্মীদের তাদের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে সচেতন করতে জরুরী ভিত্তিতে ট্রেনিং প্রোগ্রামের আয়োজন করা হবে এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, বাস্তবতার নিরিখে নিরাপত্তা প্রহরীদের দৈনন্দিন ডিউটি রোস্টার পুনর্বিন্যাসসহ তাদের উপস্থিতি কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে, সর্বোপরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ছাতার নিচে আনা হবে।
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে যাত্রী সাধারণের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ প্রতিরোধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ। গতকাল ৯ আগস্ট বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে রেলওয়ে পুলিশ এই ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে ট্রেনের ছাঁদে ভ্রমণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সাড়াশি অভিযান শুরু করে।  গত মঙ্গলবার থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।  প্লাটফরম এলাকায় ট্রেনের ছাঁদে ভ্রমণের বিভিন্ন ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করেছে রেলওয়ে পুলিশ। অভিযান চলাকালীন সময়ে ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ঢাকা মেইল ট্রেনের ছাদ থেকে ৭ জন, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে ৪ জনসহ সর্বমোট ১১ জন যাত্রীকে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের অপরাধে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। আটককৃতরা হলেন, মোঃ জাকারিয়া (২০), মোঃ নীল চাঁন (১৮), মোঃ তৈয়ব আলী (৩০), মোঃ হাছান (১৮), নুর মোহাম্মদ (১৮), আল আমিন (১৮), জীবন (২০), মোঃ খোকন (২৮), আব্দুর রহিম (২২), মোঃ মোস্তফা (২০), সালাউদ্দিন খান রবিন (২১)। এইসময় এক পথসভায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ প্রতিরোধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় পুলিশ ১১ জন যাত্রীকে ট্রেনের ছাদ থেকে আটক করেছে।  এই অভিযান আগামী ঈদুল আযহা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।  চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম-এর পক্ষ থেকে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনের ছাঁদে ভ্রমণ না করার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
নুর মোহাম্মদের নাম বাদ দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের নারাজি :
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় কোকেন আমদানির ঘটনায় চোরাচালানের ধারায় করা মামলায় খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিক নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বুধবার দুপুরে মহানগর দায়রা জজ মো. শাহে নূর এর আদালতে এই নারাজি আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য ২৩ আগস্ট শুনানির দিন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, যে কোম্পানির আনা সূর্যমুখী তেলের মধ্যে কোকেন এসেছিল, সেই খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিক নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়ায় আমরা নারাজি দিয়েছি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান গত ১৪ মে নূর মোহাম্মদের নাম বাদ দিয়ে আদালতে ওই অভিযোগপত্র দেন। একই ঘটনায় মাদক আইনে করা মামলার তদন্ত শেষে  নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু পরে আদালতের নির্দেশে র‌্যাব তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সেখানে নূর মোহাম্মদকেও আসামী করা হয়। র‌্যাবের দেওয়া সেই অভিযোগপত্রে বলা হয়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর মোহাম্মদের জ্ঞাতসারেই ভোজ্যতেলের মাধ্যমে তরল কোকেন আনা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা একটি কনটেইনার আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পরে পরীক্ষা করে তাতে তরল কোকেনের অস্থিত্ব পাওয়া যায়। ওই বছর ২৮ জুন বন্দর থানায় নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামী করে মাদক আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। আদালত পরে মামলায় চোরাচালানের ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ