ঢাকা, শুক্রবার 11 August 2017, ২৭ শ্রাবণ ১৪২8, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুঁজির অভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না রাণীরবন্দরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প

মোহাম্মাদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর): দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দরে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প আজ বিলুপ্তের পথে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা, সুতা ও কাঁচা মাল, পুঁজির অভাব এবং চোরা পথে আসা ভারতীয় নি¤œ মানের (রঙ-চঙ্গা) কাপড়ের সাথে প্রতিযোগিতা টিকতে না পেরে একের পর এক তাঁত শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকজন যারা এ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে তাদের বাপ দাদার পুরনো পেশা হিসাবে আর কত দিন লোকসান গুনবে এই দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছে তারা।

স্বাধীনতার পূর্বে চিরিরবন্দর উপজলার বৃহত্তর রাণীরবন্দর, সাতনালা, ভূষিরবন্দর, গছাহার, আলোকডিহি, বিন্যাকুড়ি, খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি, চ-ীপাড়া কাচিনীয়া সহ অর্ধশত গ্রামের ২’ হাজারের বেশী পরিবার তাঁত শিল্পের উপর নির্ভরশীল ছিল। এখানে প্রায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল। তাঁতের টুকটাক শব্দে ঘুম ভাঙত। তাঁত শ্রমিকের কলরবে রাণীরবন্দর থাকত সব সময় সরগম। এখানকার তৈরী গামছা, তোয়ালে, শাড়ীসহ বিভিন্ন পণ্যের গুনগত মানের দেশজুড়ে বেশ কদর ছিল। 

এখানকার তাঁত শিল্পের কাঁচামাল সুতা সরবরাহে সদরপুর (রামডুবি) দশ মাইলে প্রতিষ্ঠিত হয় দিনাজপুর ট্রেক্সটাইল মিল। তাঁত শিল্পকে ঘিরে ১৯৬৪ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাণীরবন্দর কোঃ অপাঃ ইন্ডাষ্ট্রিজ ইউনিয়ন লিঃ (হ্যান্ডলুম বোর্ড)। গ্রামীণ জনপদের উৎপাদনশীল এ জাতীয় শিল্পকে ধরে রাখতে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার। কিন্তু হ্যান্ডলুম বোর্ড ও তাঁত বোর্ড (বেসিক সেন্টার) কোনটাই রাণীরবন্দরের তাঁত শিল্পকে টিকে রাখতে পারেনি। ফলে পুঁজির কাঁচামাল ও মূলধনের যোগান তথা সরকারী পৃষ্ঠ পোষকতার অভাবে টিকতে না   পেরে রাণীরবন্দরের তাঁতীরা পেশা বদল করেই চলছে। 

কথা হয় তাঁত শিল্পের শ্রমিক, সাদেকুল, মমিনুল, আনোয়ারসহ আরো অনেকের সাথে তারা জানায়, আগের থেকে অধিক হারে সুতার দাম বৃদ্ধি পাওয়াসহ বাজারের এসব কাপড়ের চাহিদা না থাকায় মহাজন আমাদেরকে টিক সময় ঠিকমতো মজুরি দিতে পারে না। ফলে পেশা বদল করে আমাদের অন্য পেশায় যেতে হচ্ছে। তবে  সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা, সুতা ও কাঁচা মাল, পুঁজির ব্যবস্থা এবং চোরা পথে ভারতীয় নি¤œমানের কাপড়র আসা বন্ধ করলে রাণীরবন্দরের তাঁত শিল্প পুনরুদ্ধারসহ তাঁতীদের রক্ষা করা সম্ভব ।

এলাকার সচেতন মহল জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁত শিল্পীদের পর্যাপ্ত মূলধনের জোগান, সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করণের সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করা হলে এ এলাকার তাঁত শিল্প পূণরুদ্ধারসহ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ