ঢাকা, শুক্রবার 11 August 2017, ২৭ শ্রাবণ ১৪২8, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের কবর  রচনা করেছেন খায়রুল হক

স্টাফ রিপোর্টার : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলে অভিযোগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন। তার দেয়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক মূল্যবোধের কবর রচনা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বার ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এ মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিক সম্মলনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা হইচই-হট্টগোল করেন। তারা পাল্টা বক্তব্য দেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমসহ আওয়ামী ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকসহ বিভিন্ন মহলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট বার। সম্পাদক ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় এতে লিখিত বক্তব্য দেন সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক মুন সিনেমা হলের অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলক পূর্বপরিকল্পিত অপ্রসাঙ্গিকভাবে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছেন। তিনি পঞ্চম ও ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়কেও বির্তকিত করেছেন। এ কারণে বিচারপতি খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধীর রায় বাতিলে পূর্ব পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছেন। খায়রুল হক বলেছেন ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আছে। তাহলে কি মুন সিনেমা হলের অধিগ্রহণের মামলায় পূর্ব পরিকল্পিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছেন?

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে খায়রুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা করতালি দিলেও হট্টগোল করতে থাকেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা।

হট্টগোলের মধ্যেই জয়নুল আবেদীন বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে খায়রুল হক যে রায় দিয়েছেন ওই রায়ের কারণেই দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনীর সংক্ষিপ্ত রায়ে দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা উচিৎ বলে প্রকাশ করেছিলেন। পরর্তীতে কার ইঙ্গিতে, কী উদ্দেশ্যে ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায়ে সে অবস্থান থেকে সরে গেলেন? অবসর নেয়ার ষোলো মাস পর ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় লেখার এখতিয়ার নেই দাবি করে জয়নুল আবেদীন একে বিচারিক অসততা বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি সকারের মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে বিভিন্ন প্রকার অনভিপ্রেত বক্তব্য রাখছেন। বিচার বিভাগকে সরকার জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এবং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির বক্তব্য রাখছেন। 

জয়নুল আবেদীনের বক্তব্য শেষ হলে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বারের সহ-সভাপতি অজিউল্লাহ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বক্তব্য দিতে চাইলে সাংবাদিক সম্মেলন সমাপ্ত ঘোষণা করা হলে আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে অজিউল্লাহ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, বারের সভাপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একান্তই তার নিজের বক্তব্য। এই বক্তব্য বারের বক্তব্য নয়। অজিউল্লাহর বক্তব্যের সময় আইনজীবীরা স্লোগান দিয়ে বার ভবন প্রদক্ষিণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ