ঢাকা, শুক্রবার 11 August 2017, ২৭ শ্রাবণ ১৪২8, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঋণ খেলাপিদের রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: ঋণ খেলাপিদের রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। দেশের নতুন ব্যাংকগুলো অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছে। এদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সার্বিকভাবে তাদের মনিটরিং করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘অ্যান ইভালুয়েশন অব দ্য পারফরমেন্স অব নিউ কর্মাশিয়াল ব্যাংকস’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধূরী, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

কর্মশালায় ‘অ্যান ইভালুয়েশন অব দ্য পারফরমেন্স অব নিউ কর্মাশিয়াল ব্যাংকস’ শীর্ষক’ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. সোহেল মোস্তফাসহ ৪ সদস্যের একটি টিম।

মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়া এখন একটা কালচার হয়ে গেছে। অনেক সময় দেখা যায়, খেলাপির সঙ্গে জড়িত অনেকের নামে সংবাদ হলেও চার্জশিটের সময় তাদের নাম থাকে না। তাই ঋণ খেলাপিদের সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে তারা যেন রাজনৈতিক নেতা হয়ে জনপ্রতিনিধি হতে না পারে।

 এস কে সুর চৌধুরী বলেন, নতুন ৯ টি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মধ্যে দুই তিনটির অবস্থা খুবই নাজুক। এদের মধ্যে একধরণের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছে। তবে এখনই বলার সময় আসেনি যে, নতুন এই ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই দুর্বল বা ভালো। যে দুই তিনটি ব্যাংকে বড় বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সার্বিকভাবে তাদের মনিটরিং করা হচ্ছে।

 খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ এখনও অনেক কম। তাই এসব ব্যাংকের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যেখানে ৬০ শতাংশ খেলাপি ঋণ থাকলেও ব্যাংকটি এখনও বাঁচার স্বপ্ন দেখে। সেখানে নতুন ব্যাংকের খেলাপি ১ শতাংশেরও কম।

তিনি বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোকে কিছু সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। যাতে তারা বড় হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। এত ব্যাংকের অনুমোদন না দিলেও পারতো সরকার। তবে ব্যাংকের শাখা বাড়ানো উচিত। ভারতে ১২ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংকের শাখা আছে। আমাদের ব্যাংকগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে- ১০ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংকের শাখা।

 তৌফিক আহমেদ চৌধূরী বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ব্যাংকের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে খারাপ করলে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থ্ওা রাখতে হবে।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মেহমুদ হুসাইন বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর পারফরমেন্স মূল্যায়নের জন্য ৪ বছর যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর জন্মই আজন্ম পাপ। আমাদের জন্মই হয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে।তাই পুরানো বা অন্য প্রজন্মের ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের তুলনা করলে হবে না।

অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার বিষয়ে অনেক বেশি অ্যাগ্রেসিভ। এভাবে বাছ-বিচারহীনভাবে ঋণ দিলে বেকায়দায় পড়বে ব্যাংকগুলো।

অধ্যাপক ইয়াছিন আলি চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ব্যাংকিং কম বোঝে। আবার অনেক পরিচালক বেনামী ঋণ নিচ্ছেন। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ব্যাংকগুলো কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআরে)অর্থ ব্যয়ে নির্দেশনা মানছে না। কর ছাড় পেতে নানাভাবে সিএসআরের পিছনে অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় করছে এসব ব্যাংক। সিএসআরে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ