ঢাকা, শুক্রবার 11 August 2017, ২৭ শ্রাবণ ১৪২8, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিসরের পেঁয়াজ না এলে দাম কমবে না ---বাণিজ্যমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিশ^ বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বন্যায় ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।  এতে করে দেশের বাজারেও বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। মিসর থেকে আমদানি করা নতুন পেঁয়াজ বাজারে না এলে দাম কমবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর, আমদানি ও রফতানি অধিদফতরের প্রধান নিয়ন্ত্রক আফরোজা খানসহ বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের মালিক ও প্রতিনিধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিকারকরা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এবার চাহিদার তুলনায় ৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। এ পেয়াজের অধিকাংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। কিন্তু এবার ভারতে অতি বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন কমেছে। ফলে ভারতেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তাই হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের ব্যবসায়ীরা মিসরসহ অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ চলে আসবে তখন দামও কমে যাবে। বিকল্প স্থান হিসেবে মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে এগুলো বাজারে আসবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মিসর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ ছাড়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 

মন্ত্রী জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মিসর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ ছাড় করণের জন্য চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পেঁয়াজ, লবণ, আদা ও রসুনসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় চামড়ায় ব্যবহার এবং ভোজ্য লবণের চাহিদা মেটানোর জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশের চলমান ২৩২টি লবণ মিলকে ২১৫০ মেট্রিক টন করে লবণ আমদানির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের লবণ উৎপাদনকারী ও মিল মালিকরাও রয়েছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবসাবান্ধব সরকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে ব্যবসায়ীরাও বাণিজ্য ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যাতে কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাতে হবে। তিনি দেশের প্রচারমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানীর গরুর সংকট হবে না। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এখন দেশে পর্যাপ্ত গরু উৎপাদন হচ্ছে। দেশের চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে আর গরু আমদানি করার প্রয়োজন হবে না। একইভাবে সরকার পেঁয়াজ ও লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। দেশের চাহিদা মোতাবেক এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এখন আর বিদ্যুতে লোডশেডিং নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ