ঢাকা, শনিবার 12 August 2017, ২৮ শ্রাবণ ১৪২8, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শ্রমিকরা চাইলেও মালিক পক্ষের না

স্টাফ রিপোর্টার : তৈরি পোশাক শিল্পে একর্ড এর মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে মালিকদের বিরোধীতার মধ্যেই ভেতরে ভেতরে চলছে বরণের প্রস্তুতি। নিজেরাই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এমন বড় গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা একর্ড এর দ্বিতীয় মেয়াদে কাজ শুরুতে আপত্তি দেখছে না। অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন মনে করছে একর্ড শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করছে, মেয়াদ বৃদ্ধি করলে ক্ষতি নেই। যদিও তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে একর্ড একক সিদ্ধান্তে মেয়াদ বৃদ্ধি করছে, এটা মানবো না।

বিজিএমইএ এর অভিযোগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একর্ড এককভাবে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে একদিকে ওই সব কালখানা বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক বেকার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মালিকদের অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকছে না। বিদেশী ব্র্যান্ড ও শ্রমিক সংগঠনগুলো একর্ড সৃষ্টিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল সেখানে মালিক পক্ষের উপস্থিত উপেক্ষিত ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে কাজ শুরু করতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেখানেও মালিক পক্ষ নেই। এটা মালিকরা অসম্মানের মনে করছে। মালিকরা ‘সম্মান’ চায়। এ ব্যাপারে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন ‘ রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল-আরসিসির অধীনে কাজ করতে হবে, অন্য কোনভাবে এ দেশে থাকতে পারবে না।’ একর্ড এর মেয়াদ বৃদ্ধিতে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ খুশি নন।

একর্ড এর মেয়াদ বৃদ্ধিতে আপত্তি নেই তৈরি পোশাক খাতের বড় বড় মালিকদের। তারা নিজেরাই তৈরি পোশাক কারখানার যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এখন তারা তৈরি পোশাক বিক্রির কার্যাদেশ চায়। ক্রুটিপূর্ণ কারখানার কারণে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ সংকটে পড়–ক তারা তা চায় না।

একর্ড এর মেয়াদ বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কার্যক্রমে খুশি তৈরি পোশাক খাতের অধিকাংশ সংগঠন। তারা চায় ক্রেতারা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চত করুক। এ ব্যাপারে ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, একর্ড নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি করলে আগের কাজের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি নতুন কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এতে শ্রমিকের সুবিধা হবে। মজুরি বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় কার্যাদেশ প্রদান এবং সর্বপরি শিল্পের উন্নয়নের শর্তে একর্ড মেয়াদের বৃদ্ধিতে আপত্তি নেই মূলধারা শ্রমিক সংগঠন বলে পরিচিত গার্মেন্টস ঐক্যফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিন এবং বিসিডব্লিউএস এর সভাপতি বাবুল আক্তারসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা।

এ ব্যাপারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিলস এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক একটি আন্তর্জাতিক চেইন বিসনেস। এটা কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো চাইলে মালিক বা সরকার ইচ্ছা করলেই তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। আবার একর্ড গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে চাইলে মালিকদের বাদ দিয়ে হবে না। সরকারের দুই মন্ত্রী একর্ডের বিরুদ্ধে যেভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছে, তা না করে একর্ড, মালিক পক্ষ ও সরকার বিষয়টি নিয়ে বসতে পারে। রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাক খাতে একর্ড বাস্তবতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ