ঢাকা, শনিবার 12 August 2017, ২৮ শ্রাবণ ১৪২8, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মওসুমের শেষ বৃষ্টি চলবে ৪/৫ দিন

স্টাফ রিপোর্টার : মওসুমী বায়ুর সক্রিয় অবস্থানের কারণে গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টির এই ধারা আরো ৪/৫ দিন চলবে। এরপরই বৃষ্টি থেকে যাওয়ার পাশাপাশি বিদায় নেবে এ বছরের বর্ষাকালের বৃষ্টি। এদিকে নতুন করে বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তা ও নি¤œাঞ্চল তলিয়ে যায়।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, মওসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ, হিমালয়ের পাদদেশীয় ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গপোসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি জানান, আর এ মওসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করায় সারা দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্যে শ্রাবণের শেষভাগে এসে বর্ষাকে বিদায় দিতে এ বৃষ্টি প্রবণতা বাড়তে পারে। আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ভারী বর্ষণের সতর্কবাণী দিয়ে আবহাওয়া বিভাগ গতকাল সকাল ১০টায় তাদের বুলেটিনে জানায়, সক্রিয় মওসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ - ৮৮ মি:মি:) থেকে অতি ভারী (৮৯ মি:মি: বা অধিক) বর্ষণ হতে পারে। একই সাথে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ী এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের আশংকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। 

বৃহস্পতিবার দিনগত রাতের অন্ধকারে রাজধানীর আকাশের মেঘ ভেঙ্গে মাটিতে নামতে থাকে। গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত হয় আরো ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এরপর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (গত রাত সাড়ে ৮টা) রাজধানীর কোথাও কোনো বৃষ্টি হয়নি। তবে দুপুরের আগের বৃষ্টিতেই নগরবাসীকে ভূগিয়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনভর। নতুন করে বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তা ও নি¤œাঞ্চল তলিয়ে যায়। রামপুরা, মৌচাক, শান্তিনগর, ফার্মগেট, তেজগাঁও, মতিঝিল, আরামবাগ, মিরপুর, আগারগাঁওসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে এদিনও পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও পুরনো পানির সাথে নতুন বৃষ্টির পানি মিলে গভীরতা বাড়িয়ে দিয়েছে প্লাবন সীমানার। 

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সীতাকুন্ডে ২২৮ মিলিমিটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হয়েছে রাঙ্গামাটিতে ২২৫ মিলিমিটার। এছাড়া একই সময়ে ঢাকায় ২৯ মিলিমিটার, টাঙ্গাইল ১৭, ফরিদপুর ২০, মাদারীপুর ২৩, গোপালগঞ্জ ৭, ময়মনসিংহ ২৮, নেত্রকোনা ৯২, চট্টগ্রাম ৪৩, সন্দ্বীপ ১৩০, কুমিল্লা ৮১, চাঁদপুর ৩, মাইজদীকোর্ট ৪৩, ফেনী ৫৪, হাতিয়া ৮৩, কক্সবাজার ৫৫, কুতুবদিয়া ২০, সিলেট ১০১, শ্রীমঙ্গল ৭২, রাজশাহী ২৪, ঈশ্বরদী ৬৯, বগুড়া ৫৩, তাড়াশ ১৬, রংপুর ১২২, দিনাজপুর ৬০, সৈয়দপুর ১০৭, তেতুলিয়া ১৬৯, ডিমলা ১৮৯, রাজারহাট ৮২, খুলনা ২, সাতক্ষীরা ১০, যশোর ২৩, পটুয়াখালী ৩, খেপুপাড়া ১১ ও ভোলায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। 

টানা বর্ষণ ও উজানের পানির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদীর ৮০টি স্থানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা তথ্য ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তারা একই সাথে এও জানায়, ১০টি স্থানে হ্রাস পেয়েছে ও ৩টি স্থানে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং সুরমা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি আগামী ৭২ ঘন্টা এবং সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী ২৪ ঘন্টায় স্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।

সুরমা নদীর দু’টি পয়েন্ট কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জ এবং যাদুকাটা নদীর লরেরগড় পয়েন্টে পানি সমতলে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাটে ২৭ সেন্টিমিটার, সুনামগঞ্জে ৪৭ সে.মি. এবং লরেরগড়ে ১১৮ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গা প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে জেলার যাদুকাটা নদী, চেলা নদীসহ সবকটি ছোট বড় নদ-নদী ও হাওরের পানি কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন গতকাল বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা ডাকে। একই সাথে উপজেলাগুলোতেও সভা করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর পানি ঘোলঘর পয়েন্ট দিয়ে গতকাল সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৮.২ সে.মি অতিক্রম করে ৮.৭২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ