ঢাকা, রোববার 13 August 2017, ২৯ শ্রাবণ ১৪২8, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে

নুরুল আমিন মিন্টু : চট্টগ্রামে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। কোনভাবে পেঁয়াজের দাম কমানো যাচ্ছে না। বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এই অজুহাতে চট্টগ্রামের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ওই সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা আদায় করছেন এমন অভিযোগ করছে ভোক্তা সাধারণ। দুই সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। ব্যবসায়ীরা হঠাৎ এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বন্যায় আড়তে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া ও সামনে কোরবানির ঈদ থাকা এবং ভারতের বাজারে দাম বাড়ার কথা বলছেন।
আগস্টের শুরুতেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ২৭ টাকা। এ সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, পাইকারিতে গত সপ্তাহে ভালো মানের পেঁয়াজ ৩৮ টাকায় কিনেছেন। এ সপ্তাহে সেটি ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরায়। আমাদের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ বাজারের পেঁয়াজের ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া বলেন, ভারতের মধ্য প্রদেশে বন্যার কারণে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের আমদানি করা নাসিক পেঁয়াজ ভারতের বাজারে কেজিপ্রতি ৬ রুপি করে বেচা হত, এখন সেখানেই তা ২৫ থেকে ২৬ রুপি।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ৬ আগস্ট (রোববার) পাইকারি বাজারটিতে ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হয়েছিল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা। পরদিন ৭ আগস্ট (সোমবার) ৩৬-৩৮ টাকা, মঙ্গলবার ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ৯ আগস্ট বুধবার ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
 পেঁয়াজসহ কাঁচা পণ্যের বাজারে বিপণন পদ্ধতি অন্য পণ্যের চেয়ে আলাদা। আমদানিকারকেরা আড়তদারদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য পাঠান। পরে আমদানিকারকদের দরে আড়তদারেরা তা বিক্রি করেন। আড়তদারেরা শুধু কমিশন পান।
হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজারে আড়তদারি প্রতিষ্ঠান ইরা ট্রেডার্সের পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজের বাজার ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারতে দাম বাড়ায় পাইকারি বাজারে প্রতিদিন দু’তিন টাকা করে বাড়ছে।
বাংলাদেশে বছরে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা মূলত ভারত থেকে আমদানি হয়। ভারতে পেঁয়াজের দর বাড়লে পাকিস্তান, চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রতিবার বেশ কিছু পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। এবারও সেই চেষ্টা চলছে। মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদুল আজহার আগে দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পেলে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস। তিনি বন্দরে জটের কারণে হয়তো খুব দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করে আনা যাবে না।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। উৎপাদন হয় ১৮ লাখ টন। চার লাখ টন ঘাটতি থাকে। ভারত থেকে আমদানি করে এই ঘাটতি মেটানো হয়। সেখানে দাম বেড়ে যাওয়ার পর মিসর থেকে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আনা শুরু করেছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ