ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বন্যায় শুধু ‘লিপ সার্ভিস’ দিচ্ছে সরকার -খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : শুধু মুখের কথা ছাড়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশের বিভিন্নস্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপার্সন এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় কোনো জরুরি ত্রাণ তৎপরতা নেই। বন্যা দুর্গত মানুষকে নিরাপদে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও দেখা যাচ্ছে না। সরকারের লিপ সার্ভিস ছাড়া এই ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় বাস্তব কোনো সার্ভিস নেই। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বেগম জিয়া।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে নদীগুলো ফুলে ফেঁপে ওঠায় দেশের বন্যা পরিস্থিতি এখন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। এর উপর তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেটগুলো খুলে দেয়ার ফলে তিস্তা নদীর পানি এখন বিপদসীমার সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল, বসতবাটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য নদীগুলোর উজানের দিক থেকে ধেয়ে আসা প্রবল পানির ¯্রােতে বাংলাদেশের ব্যাপক এলাকা এখন পানির নীচে। হু হু করে বয়ে আসা বন্যার পানিতে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটের নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোই শুধু নয়, জেলা শহরগুলোও তলিয়ে যাচ্ছে। শহরের পাকা রাস্তাতেও কোমর পানি ডিঙ্গিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বন্যা উপদ্রুত মানুষ ঘর-বাড়ী-জোত-জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অথচ বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। নেই কোনো জরুরী ত্রাণ তৎপরতা। 

খালেদা জিয়া বলেন, বন্যা দুর্গত মানুষকে নিরাপদে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। রংপুর বিভাগের অনেক এলাকার অসহায় মানুষ বন্যার তান্ডবে সর্বস্ব খুইয়ে হাহাকার করছে। সরকারের লিপ সার্ভিস ছাড়া এই ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় বাস্তব কোনো সার্ভিস নেই। জনগণকে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকাটাই বর্তমান সরকারের যেহেতু একমাত্র উদ্দেশ্য, তাই জনদুর্ভোগকে তারা কখনোই আমলে নেয় না। অতি সম্প্রতি হাওড়ে বন্যা ও পাহাড় ধ্বসে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হওয়ার পরও পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়হীন, ক্ষুধার্ত মানুষকে সহায়তা দিতে সরকার তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি গ্রহণে কোনো ধরণের মনোযোগ দেয়নি। যার কারণে বর্তমান বন্যার তান্ডবে উপদ্রুত মানুষ এক চরম সংকটের মধ্যে নিপতিত হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি প্রতিশোধস্পৃহাই যদি সরকারের মূল চালিকাশক্তি হয়, তাহলে সেই সরকার কখনোই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দিয়ে অসহায় জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে পারেনা। আমি সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্বচ্ছল মানুষকে অতিদ্রুত বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারী বর্ষণে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়ীঘর বিধ্বস্ত, ফসলী জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে উপদ্রুত মানুষ আহাজারী করছে। উজানের প্রবল পানির তোড়ে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশ এখন বিপজ্জনক রুপ ধারণ করেছে । বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলা বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে এখনও পর্যন্ত ত্রাণ তৎপরতায় সরকার নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সরকারের উন্নয়ন শুণ্যগর্ভ মেকি বলেই কোথাও অবকাঠামোর ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন নেই। আর সেই কারণেই যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের ক্ষয়ক্ষতি হয় অপরিসীম। দেশজুড়ে চলছে ভয়াবহ খাদ্য সংকট, এর ওপর সরকারী দলের খাদ্যপণ্য কেলেঙ্কারী তো রয়েছেই। সুতরাং যাদের রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নয়-তাদের দ্বারা দুর্গত মানুষ উপেক্ষিতই হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ