ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারত যা চেয়েছে সব দেয়া হয়েছে আমরা কিছুই পাচ্ছি না ॥ জাতীয় ঐক্য না হলে কিছুই হবে না

* যা চেয়েছে, তাই দিয়েছে, কিন্তু মানুষ মরছে কেন?- বিগ্রেডিয়ার (অব:) সাখাওয়াত

* সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদ্দিচ্ছা প্রয়োজন-লে: জেনারেল (অব:) মইনুল

* প্রধানমন্ত্রী সব দিয়েছেন কিন্তু পাওয়ার বেলায় পাচ্ছেন না- দিলীপ বড়–য়া

* যতটুকু আছে, তা যেন হেফাজত করি- মে জে (অব:) সৈয়দ ইবরাহিম

* ভারত আমাদের নিকট প্রতিবেশী, পরিক্ষিত বন্ধু- প্রফেসর আবদুল মান্নান

* সরকার বাংলাদেশকে সেলভে পরিণত করেছে- ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী

* গরুর কারণে কোনো মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আর কোথাও ঘটে না- এডভোকেট শাহজাহান 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তাগণ বলেছেন, আমরা প্রতিবেশীর সাথে ভালো সম্পর্ক চাই। তবে যা হবে তা আমাদের স্বার্থের বিপরীতে নয়। যা চেয়েছে, আমরা তাই দিয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না। ভারত তার স্বার্থ দেখে কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ দেখি না উল্লেখ করে বক্তাগণ বলেন, নিগোসিয়েশন করতে গেলে সব দিয়ে দিলে, আর তো কিছু করার থাকে না। আমাদের হাতে যা কার্ড ছিল, সবই দিয়ে দিয়েছি। তারা জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সন্দেহ আর অবিশ্বাস দূর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসলে জাতীয় ঐক্য না হলে কিছুই হবে না। যা দেয়ার দিয়ে দেয়া হয়েছে, যতটুকু আছে, তা যেন হেফাজত করা হয়। 

গতকাল রোববার সেন্টার ফর গর্ভনেন্স স্টাডিজ-সিজিএস এর উদ্যোগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্টাটিজিক স্টাডিজ-বিস মিলনায়তনে সীমান্ত নিরাপত্তা: চ্যালেঞ্জ এবং সহযোগিতা বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তাগণ এ কথা বলেন। সিজিএস এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি প্রফেসর আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) সাখাওয়াত হোসেন, বিজিবি’র সাবেক ডিজি লে: জেনারেল (অব:) মইনুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট প্রফেসর সাহাব এনাম খান। মর্ডারেটর ছিলেন সিজিএস এর নির্বাহী পরিচালক ও টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, সাবেক মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, বিস এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহিম, দৈনিক মানবজমিন এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আবদুল মান্নান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আকতারুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম, বিএইচআরবি এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ড. এম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার, এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক আবদুল হক, এনবিআর এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুল মজিদ, লিডারশীপ স্টাডিজ ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ড. সিনা এম এ সাঈদ, অর্থনীতিবিদ শহীদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সালেহ আহমদ। 

প্রফেসর আতাউর রহমান তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অনেক দীর্ঘ। এর নিরাপত্তা ঝুকিও অনেক। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদ ও জেনারেলদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এটা আমাদের দৈন্যতা। রাজনীতিবিদরা কী চান, আমরা কী বলতে চাই, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কী বলতে চায়, এটা কিন্তু প্রকাশ্য হয় না। তিনি আরো বলেন, আমরা আলাপ আলোচনা, সেমিনারে সমস্যা চিহ্নিত করি। কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদের স্ট্রাটেজি কী? নেই। আমরা আগে ডিফেন্সের স্ট্রাটেজি নেই বলে হইচই করতাম। কিন্তু এখনতো দেখি পররাষ্ট্র স্ট্রাটেজিও নেই। মেরিটাইম বাউন্ডারী হলো, কিন্তু তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রফেসর আতাউর বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসন। এটা না থাকলে নিরাপত্তা তো বিঘিœত হবেই। এটা সবারই জানা কথা। 

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপমহাদেশে বর্ডার সমস্যা অনেক পুরনো। আমরা একটা ভুল কথা বলি যে, ভারত ভাগ হয়েছে। আসলে ভারত ভাগ হয়নি, ভাগ হয়েছে বাংলা আর পাঞ্জাব। আর বাংলাকে নিষ্ঠুরভাবে ভাগ করা হয়েছে। সীমান্তে অনেক বাড়ী আছে, কারো থাকার ঘর একপাশে, রান্না ঘর আরেক পাশে। কারো রান্না ঘরও দুই দেশে পড়েছে। তিনি বলেন, বিএফএফ এর যারা সীমান্ত এলাকায় কর্মরত আছে তাদের মধ্যে ৯৫.৫ শতাংশ মানুষের বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো নিয়ে কোনো আইডিয়া নেই। তিনি আরো বলেন, গরু কোনো সমস্যা না। বরং গরু আসা শতভাগ বন্ধ হলেই ভালো হয়। আমি মনে করি, ভারত থেকে গরু আনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া উচিত। কেননা, এক সময় মুরগি আমাদের সমস্যা ছিল। কিন্তু এখনতো উদ্বৃত। গরু না আসলে, সেই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।

সাখাওয়াত বলেন, আমরা প্রতিবেশীর সাথে ভালো সম্পর্ক চাই। তবে যা হবে তা আমাদের স্বার্থের বিপরীতে নয়। যা চেয়েছে, আমরা তাই দিয়েছে, কিন্তু মানুষ মরবে কেন? তিনি বলেন, চীন ছাড়া আমরা চলতে পারবো না। ভারতের সাথে সম্পর্ক যতো ভালোই হোক না কেন, চীন একটা বড় ফ্যাক্টর। 

লে: জেনারেল (অব:) মইনুল ইসলাম বলেন, যেখানে গরুর সংখ্যার হিসাব ও ট্যারিফের হিসেবে গরমিল হয়, আসলে সেখানেই গুলি হয়। অন্য জায়গায় গুলির ঘটনা ঘটে না। গরু আনার বাহক হিসেবে তারা বাংলাদেশীদেরই ব্যবহার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত সমস্যার জন্য রাজনৈতিক সদ্দিচ্ছা প্রয়োজন। এগুলো সমাধান করা কোনো ব্যাপারই না। তিনি বলেন, আমরা সরকারি কর্মচারী নই, রাষ্ট্রের কর্মচারী। রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী আমরা কাজ করি। তিনি উল্লেখ করেন, চক্রান্তের কিছু নেই। সবাই সব জানে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা কিন্তু বর্ডারে যায় না। সীমান্তে যারা বসবাস করে তারা দেশের মানুষ না? তারা খাবে কী? এ কারণেই অনেকেই চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সাথে নির্ভরশীলতা থাকবে। তবে কিছু টুল্স তো নিজেদের থাকতে হবে। ট্রানজিট দেয়া হয়েছে। যে ট্যারিফ নির্ধারণ হয়েছে, তা তো পরিবর্তন হতে পারে। বলতে হবে, না বাড়ালে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু অপর পক্ষ যদি জানে, আমাদের ডিফেন্স নেই। তাহলে এটা কখনই আদায় করা যাবে না। তিনি বলেন, বিজিবিকে পিলার টু পিলার হাটতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। 

আলোচকদের বক্তব্য ক্রম অনুযায়ী উল্লেখ করা হলো। 

প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে আমাদের সরকারের অবস্থান কী? এ নিয়ে সোচ্চার হতে গত ৮ বছর যাবত আমরা দেখছি না। ভারতের সাথে অনেক সভা, সেমিনার, আলোচনা হয়েছে, তারা অনেকবার কথা দিয়েছে সীমান্ত হত্যা হবে না। কিন্তু এই অমানবিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। এর কোনো পরিবর্তনও হচ্ছে না। 

ড.আবদুল মজিদ বলেন, ভারত থেকে গরু আসছে। গরু প্রতি একটা ট্যারিফ নির্ধারিত আছে। কিন্তু হিসাব মিলালে দেখা যায়, গরু আসার সাথে এই ট্যারিফ আয়ের কোনো মিল নেই। তিনি একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ৪৭ সালে দেশভাগের সময় আজকের এই বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবন পড়েছিল দুই তৃতীয়াংশ আর ভারতে এক তৃতীয়াংশ। তখন বাংলাদেশ অংশে বাঘ ছিল তিন হাজারেরও বেশি আর ভারত অংশে ছিল সাতশত এর মতো। দু বছর আগে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ অংশে বাঘ আছে মাত্র ১০৬টি আর ভারতের অংশে তিন হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ এই বাঘ ভারত অংশে চলে যাচ্ছে। কারণ তারা বাঘের জন্য অভয়ারন্য সৃষ্টি করতে পেরেছে। আমরা বাঘ মারছি। ইলিশও তামিলনাড়–র দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয়তা বোধ সৃষ্টি করতে হবে।

মেজর (অব:) আকতারুজ্জামান বলেন, দোষ শুধু রাজনীতিবিদদের। কারণ তারা পদক্ষেপ নেন না। তিনি মুক্ত বাণিজ্যের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দিল্লীর সাথে আমাদের সম্পর্ক কখনই ভালো ছিল না। তিনি বলেন, রাজধানী হিসেবে ঢাকা উপযোগিতা হারিয়েছে। আমাদের নতুন রাজধানী খুজতে হবে। তিনি ভারতের সাত অঙ্গরাজ্য (সেভেন সিস্টার) এর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার বলেন, ভারতের সাথে আমাদের দ্বি-পাক্ষিক নানা সমস্যা রয়েছে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড খুবই উদ্বেগজনক। এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। পতাকা বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্যোগও জরুরী। 

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ভারত তার স্বার্থ দেখে কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ দেখি না। এর জন্য দায়ী কে? তিনি বলেন, ৭১ এর পর আর কোনো জাতীয় ঐক্য দেখি না। পারস্পরিক সন্দেহ আর অবিশ্বাস। সম্পর্ক তৈরি হবে কী করে? তিনি বলেন, ইউরোপ বদলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কাটাতারের বেড়া দিয়ে কিন্তু সম্পর্ক হয় না। তিনি বলেন, উপমহাদেশে বড় সমস্যা এখন জঙ্গিবাদ। জঙ্গিরা এখন এক দেশ থেকে আরক দেশে চলে যাচ্ছে। কাটাতার দিয়ে তাদের আটকানো যাচ্ছে না। কিছু দিন আগেও বাংলাদেশের দুই জঙ্গি দিল্লিতে ধরা পড়েছে। এ সমস্যা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সাথে আমাদের সম্পর্ক তিক্ত। রোহিঙ্গা বড়ই অমানবিক সমস্যা। এটা সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন। কিন্তু মিয়ানমার তা চাচ্ছে না। আমরা মনে করেছিলাম, সেনা শাসনের পর গনতান্ত্রিক শাসন ফিরে আসলে হয়তো সমাধান হবে। কিন্তু সুচি আমার পরও কিছুই হয়নি। তিনি আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে যান। বাংলাদেশে তার উল্টো। আসলে জাতীয় ঐক্য না হলে কিছুই হবে না। 

দিলীপ বড়–য়া বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭৪ সালে বর্ডার রেকটিফাই করেছিলেন, সেটা পেতে আমাদের ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিস্তার জন্যও হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে যখন পাবো তখন হয়তো তিস্তা আর পানির সাথে থাকবে না। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সব করছেন। সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছেন, মেরিটাইম বাউন্ডারি ঠিক করেছেন, ট্রানজিট দিয়েছেন। উনি সব দিয়েছেন। কিন্তু পাওয়ার বেলায় পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতার সাথে অনুপচেটিয়াকে ফেরত দিয়েছেন। উলফার ঘাটিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তারপরও আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছি না। তিনি রাজনৈতিক ঐক্যের উপর গুরুত্বাপারোপ করেন। 

ওয়ালিউর রহমান বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। কিছু হয়তো হয়নি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এগুলোকে ইতিবাচকভাবেই দেখতে হবে। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তারা পাশে আছে, থাকবে। সেই হিসাব করেই চলতে হবে। ভারতের সাথে সম্পর্ক ভালো। তবে এটা আরো ভালো হতে পারতো। 

মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, নিগোসিয়েশন করতে গেলে সব দিয়ে দিলে, আর তো কিছু করার থাকে না। আমাদের হাতে যা কার্ড ছিল, সবই দিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, এখন তিস্তা সমস্যা। ভারত থেকে তো এখন বেশি বেশি পানি সম্পদ মন্ত্রী আসার কথা। কিন্তু আসে তো নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা। আসলে আমরা কী সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করতে প্রস্তুত? তিনি বলেন, ৭১ সালে যারা এসেছিলেন, তারা কিন্তু এখন আসবে না। আমাদের সীমান্ত সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে।কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, হাইকমিশনে যারা আছেন, তারা ভিআইপিদের নিয়েই ব্যস্ত। তাদের চিকিৎসা, ঘুরাফেরা, কেনাকাটা করতেই কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকে। তাদের কী আর কোনো কাজ নেই। তারা কোনো বর্ডার দেখেছে? আসলে কোনো কাজই হচ্ছে না। আসলে হাইকমিশনে যারা আছে, তারা অর্থব। এ সময় ফ্লোর নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, আপনারাতো ক্ষমতায় ছিলেন। হাইকমিশন যদি ঠিকভাবে কাজই না করে, তাহলে বন্ধ করে দেন নি কেন? উত্তরে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, আমাদের সময়তো এতো ভিআইপি যেতো না। হিসেব নিয়ে দেখেন তখন মাসে যতটা যেতো, এখন সপ্তাহেই তারচেয়ে বেশি যায়। 

ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের সাথে কোনো প্রতিবেশীরই সম্পর্ক ভালো না। ভালো হবেও না। তাদের যেই মানসিকতা তা নিয়ে আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও কোনো সম্পর্ক হতে পারে না। 

মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বর্ডার থাকলে সমস্যা থাকবেই। এর সমাধানও আছে। তিনি বলেন, ইউরোপ বা আসিয়ানের সাথে বাংলাদেশের তুলনা তাত্তিকভাবে হতে পারে, জাতিগতভাবে হতে পারে না। কারণ তাদের ৪৭ ছিল না, তাদের ৭১ও ছিল না। তিনি আরো বলেন, সমস্যার সমাধানের চেষ্টার কমতি নেই। আমরা কতটুকু নমনীয় হলে তিনি আমাদের প্রতি সদয় হবেন, তা জানা দরকার। তিনি বলেন, আমাদের অফিসিয়ালী বলে দেয়া হয়েছে, কোনো শত্রু নেই। তাহলে আমাদের সিকিউরিটি ফোর্স কিসের জন্য? তিনি উল্লেখ করেন, যা দেয়ার দিয়েছেন, যতটুকু আছে, তা যেন হেফাজত করি। 

ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে সেলভ (ক্রীতদাস) এ পরিণত করেছে। দাসের আবার অধিকার কিসের? নেপালকে ভারত শিক্ষা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু নেপালই উল্টো শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে। ভুটান বলতে তোমাদের সৈন্য ফিরিয়ে নাও। চীনের সাথে সমস্যা বন্ধ কর। কেননা, চীনের সাথে সমস্যা হলে ভুটানই সমস্যায় পড়বে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যা ছিল, সব দিয়ে দিয়েছি। ভারত ৪৭ সাল থেকে ট্রানজিট চেয়ে আসছিল। কেউ দেয়নি। এমনকি শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও দেন নি। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের ফরেনপলিসি নেই। অটোগ্রাফ শিকারীরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। 

প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, আমি সেলভ বুঝি না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেলভ হওয়ার জন্য নয়। যারা সেলভ বলছেন, তারাই সেলভ হতে পারেন, আমরা না। তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি বর্ননা করতে গিয়ে বলেন, ওদের লোকেরা গরু নিয়ে আসে না। আমাদের লোকেরাই যায়, নিয়ে আসে। আর ওরা গরুকে মাতৃসম মনে করে। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেন, বউ পরিবর্তন হয় কিন্তু প্রতিবেশী পরিবর্তন হয় না। আমি বলবো বউ বা প্রতিবেশী কোনোটাই পরিবর্তন করা যায় না। পাশাপাশি বসবাস করার যে সাধারণ কথা সেটা মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, ভারত আমাদের নিকট প্রতিবেশী। পরিক্ষিত বন্ধু। মিয়ানমারও আমাদের প্রতিবেশী। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা সীমান্তের জন্য সব করেছেন। আর কী করার আছে? ভালো কাজকে ভালোই বলতে হয়। 

এডভোকেট ড. এম শাহজাহান বলেন, গরুর কারণে কোনো মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আর কোথাও ঘটে আমার জানা নেই। ভারতের সবচেয়ে খারাপ লোকগুলোকে সীমান্তে পোস্টিং দেয়া হয়। না আছে তাদের নৈতিকতা, না আছে মানবিকতা, না আছে ধর্মীয় মূল্যবোধ। 

আবদুল হক বলেন, কোলকাতায় যাতায়াত সহজলভ্য হওয়ার কারণে এখন মানুষ শপিং করতে সেখানে যায়। এ কারণে আমাদের দেশের শাড়ি ব্যবসায়ীরা পেরে উঠতে পারছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরির জন্য পল্লী আছে। সেখানে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। আমরা কী করতে পেরেছি? 

প্রবন্ধকার সাহাব এনাম খান বলেন, ভারতের পাঠ্যবই এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে সঠিক চিত্র দেয়া হয় না। সেখানে বলা হয়, ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধের পর বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, সেটা নেই। তাই তৃর্ণমূল পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে ধারনা স্পষ্ট নয়। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ভারত ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছিল। এটা স্পষ্ট যে, ২০০৮ সাল থেকে শেখ হাসিনা সরকারকে শক্ত সমর্থন জানিয়ে আসছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সেক্রেটারি সুজাতা সিং প্রকাশ্যই বলেছিলেন, তারা বাংলাদেশে সেক্যুলার শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ভারত এক বিবৃতিতে বলেছিল, এই নিবাচন ‘সাংবিধানিক প্রয়োজনে’ হয়েছে। প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, সীমান্ত হত্যা, রাজনৈতিক মনোভাব, পানি সমস্যাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ