ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আব্বার যাদুমাখা কথাগুলি আমার কানে এখনো বাজছে

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ববরেণ্য মুফাস্সিরে কুরআন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে সাক্ষাত করেছে পরিবারের সদস্যরা। গতকাল রোববার বেলা ৩টায় কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগারে তারা সাক্ষাত করেন। 

আল্লামা সাঈদীর স্ত্রী সালেহা সাঈদী, তিন ছেলে শামীম সাঈদী, মাসুদ সাঈদী, নাসিম সাঈদী, পুত্রবধু সাইয়্যেদা মারজানা ও নাতি নাতনিরা সাক্ষাত করেন। এ সময় তারা ৩০ মিনিট সময় কাটান। 

সাক্ষাত শেষে আল্লামা সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, আজ এই কিছু আগেই আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা আল্লামা সাঈদীর সাথে কারাগারে দেখা করে বের হলাম। গাড়ি চলছে, এখনো ঘরে পৌঁছাতে পারিনি। আব্বার সাথে দেখা হলো ঠিক পনের দিনের পর।

এর মাঝে ৩/৪ দিন আগে পশু প্রকৃতির কিছু মানুষ দ্বারা পরিচালিত chrometv.news নামক একটি ওয়েবসাইট তাদের সাইটের ভিজিটর বাড়ানোর লোভে কোনো খোঁজ খবর ছাড়াই আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর একটি নিউজ প্রচার করাতে বিশ্বব্যাপী কুরআন প্রেমিক সাঈদী ভক্তদের সাথে আমরাও নিদারুণ পেরেশানীতে ছিলাম। তাই আব্বার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমাদের প্রতিটি দিনই ছিল ক্ষণ গণনার, কখন আসবে কাক্সিক্ষত সেই দিন। আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে কাক্সিক্ষত সেই দিনও এসেছে আর আমরা আজ দেখাও করেছি।

তিনি বলেন, কারুকার্যময় সেই টুপি, মোটা ফ্রেমের কালো চশমা আর সফেদ পাঞ্জাবীতে আব্বাকে বেশ সুন্দর লাগছিল আজ, আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের জন্য সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত মাত্র ৩০ মিনিট। আব্বার মায়াভরা পবিত্র চেহারাখানি নয়ন ভরে দেখতে গিয়েই অনুভব করেছি আমাদের সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত অল্প সময়টুকুন আসলে কতো অল্প!!

তিনি বলেন, আজকের সাক্ষাতে আব্বা স্মরণ করছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলামের কথা। তার শারীরিক, পারিবারিক এবং মামলার খোঁজ নিলেন আমাদের কাছ থেকে। আমরা যতোটা জানি তা আব্বাকে জানালাম। আজকে আপিল বিভাগ তার মামলার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছে তাও আব্বাকে বললাম।

তিনি বলেন, আজকে আব্বা খুবই বেশি স্মরণ করছিলেন আমাদের শহীদদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস। বিশেষভাবে স্মরণ করছিলেন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ আলী আহসান মো. মুজাহিদ, শহীদ মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ মীর কাশেম আলী চাচার কথা। আব্বা বললেন, ‘এই শহীদেরাই আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। শহীদেরাই আমাদের প্রেরণা। এই শহীদদের প্রতি ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে এ দেশে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হবেই, সেদিন আর বেশি দূরে নয়।’

‘আমার একটি মোনাজাতও এমন নাই, যেখানে আমি আমাদের সকল শহীদসহ সরকারের জুলুম নির্যাতনে যারা আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, মামলা হামলার স্বীকার হয়ে গৃহহীন হয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করিনা। শহীদের পবিত্র রক্ত ও মজলুমের চোখের পানি যে মাটিতে মিশে গেছে, সে মাটিতে জালিমের পতন হবেই, তাদের ধ্বংস হবেই ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ইসলামে শহীদদের মর্যাদা ও তাঁদের সীমাহীন ত্যাগের ইতিহাস জানতে আব্বা আমাদের ‘সাহাবীদের সংগ্রামী জীবন’ বইটি পড়ার জন্য নসিহত করেছেন। আমাকে যারা আব্বার কাছে আপনাদের সালাম পৌঁছাতে বলেছিলেন আমি আপনাদের প্রত্যেকের সালাম আব্বার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আব্বা আপনাদেরকেও সালাম জানিয়েছেন এবং দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার আব্বার বয়স এখন ৭৮। তিনি গত ৩৭ বছরের ডায়াবেটিক পেসেন্ট। তাঁর হার্টে ৫টি রিং বসানো আছে। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আর্থাইটিস রোগেও আক্রান্ত। বিগত দিনগুলিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর হাটু কিংবা কোমড়ে সামান্য থেরাপির ব্যবস্থাও করেনি। যে কারণে আমার আব্বা আল্লামা সাঈদী একনাগাড়ে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এমনকি তিনি দাঁড়িয়েও নামায আদায় করতে পারছেন না। আব্বার শারীরিক সুস্থতার জন্যও তিনি আপনাদের কাছে বিশেষ দোয়া চেয়েছেন।

সাক্ষাতের সময় শেষ বলে আব্বাকে রেখে বেরিয়ে আসতে হলো আমাদের। কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছি ঠিকই কিন্তু আব্বার মায়াবী ঐ চেহারাখানি এখনো আমার চোখে ভাসছে। আব্বার যাদুমাখা কথাগুলি আমার কানে এখনো বাজছে ..।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ