ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে ওয়েজ বোর্ড গঠনের আহ্বান

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে ‘সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড ও গণমাধ্যম সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রীকে তার শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, কোন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর মুখে তো নয়ই, সুস্থ বিবেকবান সাধারণ মানুষের কাছেও প্রত্যাশিত নয়। অর্থমন্ত্রীকে তার অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে হবে। তা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে ও ডিইউজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর কুরুচিপূর্ণ ও অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজীজ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নূরুল আমীন রুকন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সহসভাপতি সৈয়দ আলি আসফার, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত, আসাদুজ্জামান আসাদ, বাসস ইউনিট প্রধান আবুল কালাম মানিক, এরফান নাহিদ, রাশিদুল হক, সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, শাজাহান সাজু, এসএম জসিম, আলমগীর হোসেন প্রমুখ। 

 রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে ৯ম ওয়েজবোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজী বলেন, দলদাসদের নিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠন করা হলে সাংবাদিকরা সেই ওয়েজবোর্ড প্রত্যাখ্যান করবে।

তিনি বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় বসে আমার দেশ, দিগন্ত টিভিসহ অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একটি সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড ও গণমাধ্যম সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি তার এমন অযৌক্তিক বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, অবিলম্বে রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করতে হবে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে তা তুলে নিতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। 

সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ অর্থমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই নিবন্ধিত সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে অচিরেই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং সে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, যদি অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে তার পদত্যাগ দাবি করতে আমরা বাধ্য হবো। ১৯৭৫ সালে সব মিডিয়া বন্ধ করে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। সরকার এখন সেই একই পথে হাঁটছে। দেশে কেউ বর্তমানে নিরাপদে নেই। সরকারের লোকজন প্রতিনিয়ত আদালত অবমাননা করে যাচ্ছে। বিচারপতিদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। যাতে তারা সুষ্ঠুভাবে রায় না দিতে পারে। উচ্চ আদালতের রায়ের পর সরকার বেসামাল হয়ে গেছে। এ রায় বর্তমান সরকার যে অবৈধ তা আরেকবার প্রমাণ করেছে। 

এম আবদুল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, এতোগুলো চ্যানেল দরকার নেই। ১৫ থেকে ২০টির বেশি পত্রিকা নেই। তার এমন বক্তব্যে পুরো সাংবাদিক সমাজ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এটা তার অজ্ঞতা। তিনি দেশের গণমাধ্যমের খবর রাখেন না। অথচ দেশের গরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তাকে যারা মন্ত্রী বানিয়েছে তাদের বিবেচনাবোধ নিয়ে সাংবাদিক সমাজ প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছে। এম আবদুল্লাহ বলেন, আমি অর্থমন্ত্রীর এমন অশোভন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন নিয়ে সরকারি টালবাহানা বন্ধ করে এই মাসেই রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানাচ্ছি। 

এম এ আজিজ বলেন, সংগ্রাম ছাড়া কোনো দাবি আদায় হয় না। এজন্য সংগ্রাম করেই সাংবাদিকদের সকল অধিকার আদায় করতে হবে। অর্থমন্ত্রীর অশোভন বক্তব্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বলেছেন, ২০টির বেশি পত্রিকা নেই। চ্যানেলগুলোর দরকার নেই। এসকল বক্তব্য তিনি সুস্থ অবস্থায় দেননি। তিনি বয়সজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েই এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এই লোকের কোনো লজ্জা নেই। পুরো কেবিনেট এ ধরনের লোক দিয়ে ভরা। 

জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি গণতন্ত্রের পক্ষে থাকতো তাহলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে এমন অশোভন বক্তব্য দিতে পারতো না। আমি অবিলম্বে অর্থমন্ত্রীর দেয়া অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

অর্থমন্ত্রীকে রাঘব বোয়ালদের দালাল আখ্যা দিয়ে বাকের হোসাইন বলেন, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ এবং শেয়ারবাজারের অর্থ পাচারের কথা জিজ্ঞেস করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষেপেছেন। 

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, অসুস্থ সরকার দেশকে অসুস্থ করে ফেলেছে। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার কথা বলেন মোদাব্বের হোসেন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রীর মাথা ঠিক নাই। সরকারের সময় শেষ পর্যায়ে বলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছে। এই অগণতান্ত্রিক সরকার জনগণ আর চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ