ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাত খুন মামলার রায় ২২ আগস্ট

 

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় আসামীদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা পিছিয়ে ২২ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার রায়ের দিন ধার্য থাকলেও আদালত রায় না দিয়ে এ দিন ধার্য করেন। 

গতকাল রোববার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। গত ২৬ জুলাই সরকার ও আসামী পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ১৩ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

আসামীপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেছেন, প্রস্তুতি না থাকায় আদালত ২২ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

আসামী পক্ষের অপর আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, সাত খুন মামলায় ২টা ডেথ রেফারেন্স। আমরা মনে করি, এই দুইটা চাঞ্চল্যকর মামলা। ন্যায় বিচারের স্বার্থে হয়তো আদালত একটু সময় নিয়েছেন।

গত ২২ মে সাত খুন মামলায় আসামীদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরু হয় পেপারবুক পাঠের মধ্য দিয়ে। বেশ কয়েক দিন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। গত ২৩ জুলাই সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আসামী পক্ষে যুক্তি খন্ডন শেষ হয় ২৬ জুলাই।

শুনানিতে সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিন্ম আদালতের রায় বহাল রাখার দাবি জানান। তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ড ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। যারা এই হত্যাকন্ডের সঙ্গে জড়িত তারা সবাই আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য। তাদের দায়িত্ব ছিল সাধারণ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু তারা সেটি না করে নিরীহ সাতজনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছেন। বাহিনীর সদস্য হয়ে তারা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছেন। এর চেয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড আর হতে পারে না। এর সঙ্গে জড়িতদের রেহাই দেয়ার সুযোগ নেই। 

গত ৭ মে বিজি প্রেস থেকে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে। পরে বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ুসরেন্দ্র কমার (এস কে) কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন।

গত ২৯ জানুয়ারি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। এর আগে ২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার বিচারিক আদালতের রায় ও নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেনসহ ১৭ জন মৃতুদন্ড প্রাপ্ত ও ৫ জন কারাদন্ডের আসামীর করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাদের জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদন্ড দেন। 

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ২৬ জন হলেন-নূর হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত মেজর মো. আরিফ হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা, মো. মিজানুর রহমান দীপু, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মুন্সী, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহ জাহান, জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর, পুর্ণেন্দু বালা, আরওজি আরিফ হোসেন, সৈনিক আল আমিন, তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, বেলাল হোসেন, শিহাব উদ্দিন, মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, আবুল বাশার, রহম আলী ও এমদাদুল হক। 

মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৩৫ আসামীর মধ্যে ১২ জন পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া ২৩ জনের মধ্যে ১৮ জনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং পাঁচজন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এ রাখা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে র‌্যাব-১১। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ