ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আরও আলোচনা হবে সময় মতো সব কিছু জানতে পারবেন

 

স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে দেখা করে দলের বক্তব্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে এ সময় আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে দীর্ঘক্ষণ। সময় হলেই সব কিছু জানতে পারবেন বলে জানানা তিনি।

 শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রোববার শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার কাকরাইলের সরকারি বাসভবনে সাক্ষাতে যান ওবায়দুল কাদের।

দুজনের মধ্যে দুই ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠক হয়। এতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকার ও দলের অবস্থান তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। পরে নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়েছিলাম। আলোচনা করেছি। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমাদের পার্টির বক্তব্য জানিয়েছি। আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে দীর্ঘক্ষণ।

তিনি বলেন, আলোচনা আরও হবে, আলোচনা শেষ হয়নি। আলোচনা শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সময়মত আপনারা সব জানবেন।

 ওবায়দুল কাদের বলেন, রায়ের অবজারভেশনে যেসব বিষয় এসেছে, সেসব বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে বক্তব্য, তা তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা ‘অবৈধ’ ঘোষণার রায় গত ১ অগাস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। ওই রায় প্রকাশের পর থেকেই বাদ-প্রতিবাদ চলছে। রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করলেও বিএনপি একে ‘ঐতিহাসিক’ বলছে।

রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি গত সপ্তাহে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকার পর সেখানে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গত বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই রায়কে ‘পূর্ব ধারণা প্রসূত’ এবং প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পর্যবেক্ষণকে ‘অপরিপক্ক’ অখ্যায়িত করেন।

পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, মামলার ‘ফ্যাক্ট অব ইস্যুর’ সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন ‘অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা’ প্রধান বিচারপতি তার রায়ে বলেছেন। প্রধান বিচারপতির ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য, পর্যবেক্ষণের প্রতিবাদে কর্মসূচি দিয়েছে। সেসব মন্তব্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেছেন, রায়ের সমালোচনা করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টকেই ‘বিতর্কিত করেছেন’। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাবেকপ্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে অপসারণ ও তার গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন,সরকার রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির ওপর ‘চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে’। প্রধান বিচারপতির বাসায় ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আমরা শঙ্কিত হয়ে গেছি পত্রিকার খবর দেখে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ