ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায় আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে -১৪ দল

 

স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়কে অপ্রাসঙ্গিক, অগ্রহণযোগ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন ১৪ দল। সে কারণে এই রায়কে আইনগতভাবে ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

গতকাল রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে (নতুন ভবনে) বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানান ১৪ দলের সমন্বয়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ১৪ দলের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জে পি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।

১৪ দলের পক্ষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বৈধ সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে রায়ে যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা চৌদ্দ দল প্রত্যাখ্যান করছে। সেই সঙ্গে এই রায় বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। বাতিল করতে হবে। আমরা এটা আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবো।

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে দেশের মানুষ জানে। বঙ্গবন্ধু যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তা চন্দ্র সূর্যের মতোই সত্যি। এটা নিয়ে রায়ে যা বলা হয়েছে তা জনগণ মেনে নিবে না, ক্ষমা করবে না। সুতরাং ‘এ রায়ের পুনর্বিবেচনা জরুরি’ যোগ করেন নাসিম। 

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, এ রায়ে সংসদকে অবমাননা করা হয়েছে। আমি জানি না মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রধানবিচারপতি কোথায় ছিলেন। আসলে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তিনি জানেন না বলেই দুঃসাহস দেখিয়েছেন। বিএনপি জামায়াত যেন চক্রান্ত করতে পারে সে সুযোগ করে দিয়েছেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন এ রায় নিয়ে রাজনীতি করা অনুচিত। কিন্তু দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে রায়ে কথা বলা হয়েছে তা উপেক্ষা করে থাকা অনুচিত কি না। সুতরাং আমরা কোন বোধ নিয়ে এগুব তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা মনে করি এবং দৃঢ়ভাবে বলেই আমাদের ইতিহাসের প্রকৃত ধারায় ফিরে আসতে হবে, রায়কে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

নিজের বক্তব্যে জে পি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, এই রায়ে শুধু চৌদ্দ দল নয় সারাদেশ সংক্ষুব্ধ। সুতরাং রায় বাতিল হোক। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এই রায় দেয়ার জন্যই কি তিনি এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আমরা কোনভাবেই এই রায় মেনে নিতে পারি না। এই রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই গনমত গড়ে তোলতে হবে।

তিনি আরও বলেন,প্রয়োজনে আমাদের আবারও রাজপথে নামতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচিত হয়েছে রাজপথে। আর এখন আদালতে বসে রায় হচ্ছে। এটি কোনভাবেই হতে পারে না। এর ফয়সালা রাজপথেই হবে। এই জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায় হয়ে যাওয়ার পর তা জনগণের সম্পদ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন জাসদের সবাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, সে সম্পদ নিয়ে আলোচনা সমালোচন হতে পারে। তা কোনোভাবেই আদালত অবমাননা নয়, অন্যায় নয়। যারা তা বলেন বালখিল্য আচরণ করেন। এ রায়ে জাতীয় সংসদকে কটাক্ষ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে খাটো করা হয়েছে সুতরাং এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিষয় বহির্ভূত ও অপ্রসাঙ্গিক। মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের শক্তিকে ম্লান করার জন্যই এ রায় দেয়া হয়েছে।

ষোড়শ সংশোধনী থাকলেও ক্ষতি ছিল না বরং বিচারপতিদের কেউ একে অন্যের প্রতি অবিচার করলে তার সঠিক বিচারের সুযোগ ছিল। সুতরাং এ রায় বাতিল হওয়া জরুরি', বলেন ইনু।

এই রায়ে জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়েছে বলে মনে করেন মাহাবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, সংবিধানে আছে সব কিছুর মালিক জনগণ সুতরাং জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই ক্ষমতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বলা যায় রায় সংবিধান পরিপন্থী। আর ইতিহাসের মীমাংসিত বিষয় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে এতে স্বাধীনতাবিরোধীদের উসকানি দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু অমীমাংসিত অবস্থানে নিতে চাইছে। সুতরাং এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ