ঢাকা, সোমবার 14 August 2017, ৩০ শ্রাবণ ১৪২8, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা

স্টাফ রিপোর্টার : আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী । দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন। এ উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হবে। এজন্য নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়-নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।

এ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

জন্মাষ্টমীর প্রাক্কালে গতকাল ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর পূজা কমিটির নেতারা জানান, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে গীতাযজ্ঞ হবে। অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা। রাত ৯টায় শ্রীকৃষ্ণ পূজা। এবার শোভাযাত্রা আরও নতুন আঙ্গিকে হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) শোভাযাত্রা চলার সময় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। 

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সমাজে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে তা জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজে লাগানোর জন্য দেশের সকল ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান। ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সকল ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌর্হার্দ্য বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তাই আমাদের ঐতিহ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, সব ধর্মের মূল বাণী মানব কল্যাণ। তাই ধর্মকে ব্যবহার করে বা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যাতে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রচলিত বিশ্বাস মতে দ্বাপর যুগের শ্রাবণ মতান্তরে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন ও হানাহানি দূর করে মানুষে মানুষে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের মূল দর্শন। যেখানে অন্যায় অবিচার দেখেছেন সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন আপন মহিমায়।

তিনি বলেন, পবিত্র গীতায় বলা হয়েছে, অধর্ম ও দুর্জনের বিনাশ এবং ধর্ম ও সুজনের রক্ষায় তিনি যুগে যুগে পৃথিবীতে আগমন করেন। অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য কৃষ্ণ বৎসাসুর, অঘাসুর, বকাসুর প্রভৃতি অপশক্তিকে বিনাশ করেন। মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন পরোপকারী, প্রেমিক ও সমাজসংস্কারক। কৃষ্ণের প্রেমিকরূপের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বৃন্দাবন লীলায়, যা বৈষ্ণব সাহিত্যের মূল প্রেরণা।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রোববার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সোহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে বাণীতে তিনি করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন ‘জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’।

তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ আজীবন শান্তি, মানব প্রেম ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। তিনি তার জীবনাচরণ এবং কর্মের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের আরাধনা করেছেন। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব নাগরিকের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

খালেদা জিয়ার বাণী: শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। যেকোন ধর্মীয় উৎসব সম্প্রদায়ের ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষে মানুষে মিলনের বাণী শোনায়, মানব সমাজের মধ্যে এক অনন্য ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত করে। আনন্দরুপ বিনম্রতায় সমাজে সকলকে এক গভীর শুভেচ্ছাবোধে আপ্লুত করে। সকল ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ। যুগে যুগে ধর্ম প্রচারকগণ সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে গিয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এমনি এক সময়ে যখন সমাজে অত্যাচারী রাজার নিষ্ঠুর অত্যাচার ও দুঃশাসন কায়েম ছিল। তিনি সেই অন্যায়কে দমন করে পৃথিবীতে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তাই বাংলাদেশীরা কখনোই ঔদার্য, ব্যাপক পরিসর ও অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা হারায়নি। এখানে সকল ধর্মের মানুষেরা যুগ যুগ ধরে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আমরা সব ধর্মের মানুষের সমঅধিকারে বিশ্বাসী। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, বৈষম্য, অন্যায়-অবিচার দূর করে সমাজকে শান্তিময় করে তুলতে যার যার অবস্থানে থেকে আমাদের সবাইকে অবদান রাখতে হবে। জন্মাষ্টমীর এই শুভদিনে আমি সকলের প্রতি এ আহবান জানাই।

এছাড়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ