ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎবার্ষিকী পালিত

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবসে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ছবি : বাসস

বাসস : রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পৃথক দুটি ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর এই মহান নেতার প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাঙালি জাতির স্থপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলের করুণ সুর বাজানো হয়।

পরে ১৫ আগস্ট শহীদ বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং ১৪ দল ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একদল বিপথগামী সৈনিক ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তাঁর তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল, শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধুর আরো ঘনিষ্ঠ তিনটি পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। এসময় বিদেশে অবস্থান করায় বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ৪২ বছর আগে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের বিশ্বের সবচেয়ে বর্বরোচিত হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার সাক্ষী ধানমন্ডির ৩২ এর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাসভবনে যান (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর) এবং তাঁরা সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে শায়িত ১৫ আগস্টের শহীদ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ সেদিনের শহীদদের কবরেও তিনি পৃষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফুলের পাঁপড়ি ছড়িয়ে দেন।

তিনি এ সময় শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, থেকে বাসস জানায়, বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সমাধি বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এই মহান নেতার প্রতি সম্মান জানাতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আরেকটি পুষ্পাঞ্জলীও অর্পণ করেন। শেখ রেহানাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকষ দল জাতির পিতাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। তিনবাহিনী প্রধানগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা, তাঁর সহধর্মিনী বেগম মুজিবসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যদের বুলেটের আঘাতে শাহাদৎবরণ করেন।

পরে ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বি মিয়া, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও মুহম্মদ ফারুক খান, কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জাতির পিতার সমাধি ফুলে ফুলে ভরিয়ে তোলে।

মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এবং গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে বঙ্গবন্ধুর সমাধি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার যোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার জন্মস্থান এবং সমাধিসৌধ স্থলে আসেন।

সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা 

বাসস : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের রাস্তায় জমায়েত হতে থাকে।

সকালে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি।

এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৪ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল ৬টার মধ্যেই অগণিত মানুষের পদচারণায় ভরে ওঠে ৩২ নম্বর সড়ক। হাতে কালো ব্যানার ও বুকে কালোব্যাজ পরিধান করে নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ। সকলেই পরম শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতির জনককে স্মরণ করেন। সকাল সাতটা থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো শুরু করেন। শোকাবহ ভাবগাম্ভীর্যের মাঝেও জোরালো কন্ঠে উচ্চারিত হয় ‘বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ১৪-দল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ ছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ এবং সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ পড়েছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। পরে ওই ভবনের একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন শেখ হাসিনা। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর পক্ষ থেকে সংস্থার সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় বাসস পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আমিনুল ইসলাম মির্জা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রলায়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফিল্ম আর্কাইভ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন, সনাতন আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ, চিলড্রেন্স ভয়েসসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ