ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পোশাক রফতানি অর্ডার ২ শতাংশ কমেছে

স্টাফ রিপোর্টার : ক্রেতাদের চাহিদা আর দরদামে না মেলার কারণে নতুন সৃষ্ট বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমছে। এক বছরের ব্যবধানেই শতকরা ২ ভাগ রফতানি অর্ডার কমেছে। অবশ্য পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা ডলারসহ প্রধান প্রধান প্রায় সব মুদ্রার দরপতনের কারণে এ অবস্থা চলছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি উৎসাহিত করতে নতুন সৃষ্ট বাজারে ৩ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে অর্থবছরের প্রথম মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির চমক থাকলেও বিপর্যয় নেমে এসেছে নতুন সৃষ্ট অনেক বাজারে, অথচ এর জন্য প্রণোদনা ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন বাজারে বাড়তি মনোযোগ ও সরকারের দেয়া প্রণোদনা খুব বেশি কাজে আসছে না। ফলে প্রচলিত বাজারের তুলনায়ও এসব বাজারে রপ্তানি আয় আরো হতাশাজনক অবস্থায় চলে এসেছে।

ইপিবি ও বিজিএমইএ তথ্যে দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ। অথচ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেশি হয়েছিল ১০.৪৮ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নতুন বাজারে আয় হয়েছিল ৪৩১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার আর বিদায়ী অর্থবছরে ৪২৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

এদিকে চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথম মাসে রপ্তানি আয়ের ইপিবি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তৈরি পোশাক শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে এ সময় দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে, অর্থাৎ জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানিতে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় ২৪৭ কোটি ৯২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। এর মধ্যে নিট পোশাকে ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে ১২১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার এসেছে।

ইপিবির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাসে মেয়াদে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। একই সময়ে ওভেন গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১২১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এতে আরো জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল এক হাজার ৩৭৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে ওই বছরের প্রথম মাসে আয় হয়েছিল ১০৭ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আলোচ্য খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫১০ কোটি মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। আলোচ্য সময়ের মধ্যে এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.১৪ শতাংশ কম। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আলোচ্য খাতের রপ্তানি আয় ১৭.২৮ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওভেন গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল এক হাজার ৪৩৯ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ওই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ১০৪ কোটি তিন লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আলোচ্য খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫০৬ কোটি মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ওভেন গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০ কোটি সাত লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ে এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ১২১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.৫২ শতাংশ কম। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আলোচ্য খাতের রপ্তানি আয় ১৬.৮৮ শতাংশ বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ইপিবি রপ্তানি আয়ের যে পরিসংখ্যান দিয়েছে এটা জুলাই মাসের পরিসংখ্যান হলেও প্রকৃত অর্থে এই আয়ে জুন মাসের কিছু পণ্য জুলাইয়ে গিয়ে যোগ হয়েছে। কেননা গত জুনে ঈদের লম্বা ছুটির কারণে অনেক পণ্য সময়মতো শিপমেন্ট হয়নি। সেসব পণ্য জুলাই মাসে শিপমেন্ট হয়।

তিনি আরো জানান, প্রথম মাসেই পোশাক খাতে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও আগামী মাসগুলোয়ও এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে, এমন আশা করা যায় না। কারণ বর্তমানে ক্রেতারা পোশাকের দাম একেবারে কমিয়ে ক্রয়াদেশ দেয়। ফলে আগামী দিনে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েবে। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে এক মৌসুম পার হলে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ