ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অনেক রাঘববোয়াল বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল -প্রধান বিচারপতি

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিল। এই মামলার নথি পর্যালোচনা করে সেটি জানা গেছে। কিন্তু তদন্তে ত্রুটির জন্য তাদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, এটা নিয়ে আমি গণমাধ্যমে কিছু বলবো না যা বলার কোর্টে বলবো। 

গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনের সামনে রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা- সম্পূর্ণ কাপুরুষোচিত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে যে রক্ত ঝরানো হয়েছে তার প্রতিদানে রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা গরিব-অসহায়দের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করছি।

তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে গণমাধ্যমে আমি কোনো কথা বলব না। রায় নিয়ে প্রকাশ্যে বা গণমাধ্যমে কিছু বলব না। তবে যা বলার কোর্টে বলব।

এস কে সিনহা বলেন, আজকে আমাদের ইতিহাসে একটি মর্মান্তিক দিন। বাংলার মানুষ স্বাধীনতার স্থপতিকে শুধু হারায়নি, তার বিশ্বাস, তার ভবিষ্যৎ সবাইকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। এই উপমহাদেশের দুই জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। একজন মহাত্মা গান্ধী, আরেকজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

বঙ্গবন্ধু হয়তো বা কারো শত্রু বা বিরাগভাজন হতে পারেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ যারা নব্য বিবাহিত, আজকে পত্রিকায় পড়লাম, তাদের গায়ে হলুদ হয়েছিল। এগুলো (মেহেদির রং) মুছে যায়নি। বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের, উনি রাজনীতিতে ছিলেন না। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর সমস্ত পরিবারকে এই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা।

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো হত্যার মিল পাওয়া যায় না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই যে রকম তারা হত্যা করেছিল। আরো কষ্টদায়ক হলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রের আইন দ্বারা বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া। আমি এই বিচার বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে অত্যন্ত গৌরবান্বিত বোধ করছি। এই সুপ্রিম কোর্ট ওই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সেই বিচারের পথ প্রশস্ত করেছিল।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এই মামলায় একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। আমি আপিল বিভাগের যখন কনিষ্ঠ বিচারক, প্রকৃতপক্ষে আমি তখন অসুস্থ ছিলাম। সিঙ্গাপুরে তখন ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসায় থাকাকালে মামলাটির বিচারের জন্য বেঞ্চ গঠন করা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, তখনই আমাকে অনুরোধ করা হয় যে, তাড়াতাড়ি চলে আসেন। তখনও আমি জানি না, আমি বাঁচতে পারব কিনা। যাই হোক চিকিৎসা বাদ দিয়ে আমি চলে আসলাম। শপথ নিয়ে তারপর সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিলাম। 

আমি নথি পর্যালোচনা করে দেখলাম এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে আরও অনেক রাঘববোয়াল জড়িত ছিল। কিন্তু তদন্তে ত্রুটির জন্য আমরা তাদের আর বিচারে সোপর্দ করতে পারিনি। যদিও আমাদের রায়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি এটা একটা ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, পরিকল্পিতভাব হত্যা করা হয়েছিল এবং তাদের বিচারে সোপর্দ করার জন্য।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণেই আজ আমি বিচারপতির চেয়ারে বসতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধু জাতির জনক এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই। যখন ৭০ সালে নির্বাচন হয় তখন আমি বিএ ক্লাসের ছাত্র। তখন ইস্ট পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কোনো নেতা ছিল না এবং কল্পনাও করে নাই। সবারই এক নেতা।

তিনি বলেন, উনি (বঙ্গবন্ধু) ছিলেন বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেখানে আমি আজকে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হতে পেরেছি। পাকিস্তান থাকলেও হাইকোর্টের হয়তো হওয়া যেত, কিন্তু পাকিস্তানে বিচারপতি হওয়া কল্পনার বাইরে ছিল।

বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞা আরও বলেন, কাজেই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি, এই জন্যে স্মরণ করি যে আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং সেইসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির আসনে আসীন আছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ