ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাকায় নিহত সাইফুলের পিতা আবুল খায়েরকে সাদা পোশাকের পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে!

 

খুলনা অফিস : ঢাকায় নিহত জঙ্গি সাইফুল ইসলামের পিতা নোয়াকাটি মাঠেরহাট জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুল খায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাকে ডুমুরিয়া থানায় ডেকে এনে তার ছেলের সম্পর্কে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোন তথ্য না পাওয়ায় দুপুর ১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে পরিবার সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ আবুল খায়েরকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও সে এখনও বাড়ি ফিরে আসেনি। থানা থেকেই সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে গাড়িতে করে নিয়ে এলাকায় অভিযানে বের হয়েছেন। এদিকে পুলিশের আরেকটি টিম নোয়াকাটি বাড়িতে গিয়ে তল্লাশী করেন এবং তার পরিবারের খোঁজ খবর নেন।

অপরদিকে ঢাকায় সাইফুলকে আশ্রয়দাতা সন্দেহে ডুমুরিয়া থেকে মোহাম্মদ সামি (২২) ও ইসান (২১) নামের দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খলিল মোল্লা ও এজাজ মোল্লা এক ছেলেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাইফুল ইসলামের নিহতের খবর পাওয়ার পর তার পিতা আবুল খায়েরকে থানায় ডেকে আনা হয়। সকাল ৯টায় তিনি থানায় আসেন। এরপর তাকে থানায় রেখে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১টার দিকে তিনি থানা থেকে বাড়ি চলে যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও থানায় ডাকা হতে পারে বলে জানান ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন।

ওসি হাবিল হোসেন জানান, সাইফুলের বাবা আবুল খায়ের মোল্লা ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল (কোষাধ্যক্ষ) সম্পাদক। তিনি স্থানীয় মাঠেরহাট মসজিদের ইমাম। আবুল খায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানান ওসি। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

এদিকে দুপুরে পুলিশের একটি টিম নিহত সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামে খোঁজখবর নিতে যান। এ টিমের সদস্য ডুমুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক জানান, নিহত সাইফুলের পরিবারটি হতদরিদ্র। প্রতিবেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে সে মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসতো। তবে এলাকায় তার বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ নেই।

এদিকে খুলনার পুলিশ সুপার মোল্যা নিজামুল হক জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুলের দুই সঙ্গীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা হলেন, ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক আলীর ছেলে মোহাম্মদ সামি (২২) ও একই এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী জালাল সরদারের ছেলে ইসান (২১)। এরা দুইজনই ঢাকায় থাকেন। তাদের কাছে মাঝে মধ্যে সাইফুল গিয়ে থাকতো বলে জানান পুলিশ সুপার। সে কারণে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে ঢাকার পান্থপথের ওলিও ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি হোটেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াত সদস্যদের অভিযানকালে নিহত হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ