ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

খুলনা অফিস : যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খুলনায় স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে এদিন সকাল সাড়ে আটটায় একটি শোক র‌্যালি নগরীর নিউ মার্কেট থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বেতার খুলনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তুবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণকারী তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল বিভাগীয় ও জেলা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন খুলনার উদ্যোগে সকাল সাড়ে নয়টায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনার পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য এডভোকেট এনায়েত আলী, পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্লা এবং মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবীর। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব  করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান। স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান।

পরে জেলা প্রশাসন, শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি কর্তৃত পৃথকভাবে আয়োজিত রচনা, সংগীত, চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজীয়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ দিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু একাডেমি আলোচনা, কবিতাপাঠ, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সকাল ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন আলোচনা, হামদ, নাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।  খুলনা জেলা তথ্য অফিস সন্ধ্যায় শহীদ হাদিস পার্কে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের ওপর নির্মিত ‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন  করে। 

শোক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় পত্রিকাগুলো নিজম্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বাংলাদেশ বেতার খুলনা বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন ভিত্তিক পুস্তক প্রদর্শন করে। বাদ জোহর কালেক্টরেট মসজিদ/পুলিশ লাইন জামে মসজিদ/টাউন জামে মসজিদসহ নগরীর বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া- মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এছাড়া মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন  দিবসটি উপলক্ষে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। 

খুবিতে জাতীয় শোক দিবস পালিত ঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম প্রয়াণ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় কর্মসূচির শুরুতে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং জাতীয়  শোক দিবস পালন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফা কালো পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর কালোব্যাজ ধারণ করা হয়। অতঃপর পণেরই আগস্টে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি শোক র‌্যালি প্রশাসন ভবন থেকে শুরু হয়ে অদম্য বাংলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভিসি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ  করেন। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, স্থাপত্য ডিসিপ্লিনসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিন, আইইআর, এগ্রোটেকনোলজি এলামনাই, ছাত্রদের সংগঠন চেতনা একাত্তর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। ভিসি সকাল সাড়ে ৯টায় আচার্য্য জগদ্বীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনে ২য় তলায় বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং আইন ডিসিপ্লন কর্তৃক পনেরই আগস্ট উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘অগ্নিগিরির অস্তাচলে’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। সকাল ১০ টায় একই ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ওপর এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় শোক দিবস পালন কমিটির সভাপতি স্থাপত্য ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। পরে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে  জাতির জনক ও তাঁর পরিবাবেরর সদস্য যারা ১৫ আগস্টে শাহাদত বরণ করেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস। এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে পবিত্র কোরআনখানী অনুষ্ঠিত হয়। 

কুয়েটে জাতীয় শোক দিবস পালিত ঃ খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) স্বাধীন বাংলাদেশের স্থাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৭ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন ও হলসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার সেন্টার কাম সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। এছাড়া, দুপুরে বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে দোয়া ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি, আসর বাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহ্ফিল এবং বিকালে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খুলনা জেলার উপজেলাগুলোতেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।

তেরখাদায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের একই স্থানে শোক দিবস পালনে ১৪৪ ধারা ঃ তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেংগা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। গত রোববার থেকে সদর এলাকার প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে উপজেলা সদর এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে ঘটনার দিন থেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসন আওয়ামী লীগের উভয় গ্রুপের নেতৃবৃন্দকে ডেকে থানা চত্বরে মীমাংসার চেষ্টা করে সমঝোতায় আসতে পারেনি। সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তার কার্যালয়ে খুলনার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. বদিউজ্জামান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুই গ্রুপের নেতা কর্মীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। আওয়ামী লীগের উভয়পক্ষকে ইখড়ি কাটেঙ্গা হাইস্কুল মাঠে ১৫ আগস্ট পালন না করার মর্মে অঙ্গিকারবদ্ধ করেন। একই সাথে উক্ত স্থানে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে তেরখাদা থানার  ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, উপজেলা সদর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ