ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝিরি খাল থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন : ভূমি ধসের আশঙ্কা

আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন ঝিরি ও খাল পাথরদস্যুতার কবলে পড়েছে। পাথরদস্যুরা এখন বেপরোয়া। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন পাথরদস্যুকে চিহ্নিত করা হলেও নেয়া হয়নি আইনগত ব্যবস্থা। বান্দরবান জেলা প্রশাসক শনিবার বিকেলে জানিয়েছেন আলীকদমে পাথর আহরণের কোনো অনুমতি নেই। প্রয়োজনে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
জানা গেছে, আলীকদম-থানচি সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যবহারের অজুহাতে কয়েকজন ব্যক্তি সড়কটির আশেপাশের ঝিরি থেকে হাজার হাজার ঘনফুট পথরের স্তুপ গড়ে তোলে। সে সময় পাথরদস্যুতার সাথে জড়িত ছিলেন আলীকদমের আবুল কালাম, হেলাল সওদাগর, চকরিয়ার কলিম উদ্দিন ও হুমায়ুন। অপরদিকে, উপজেলার বাঘেরঝিরি এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে জড়িত জাহিদ, কবির, মাহাবুব, সুজিত ও মহিউদ্দিন। এছাড়াও লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রিজার্ভের তুলাতলী, বুজি ও ধুমচি খাল এলাকা থেকে নির্বিচারে পাথর তুলছে স্থানীয় ও বহিরাগত কতিপয় ব্যক্তি। গতকাল স্থানীয় বন বিভাগ ইমরান নামে একজন পাথরদস্যুকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছেন।
আলীকদম-থানচি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৪৬ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করেন। সম্প্রতি সেসব পাথর নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে ৪৬ হাজার ঘনফুট পাথর নিলাম পান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন। অপরদিকে, বাঘের ঝিরি এলাকায় আরো ৩ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।
গত দু’বছর আগে আলীকদম-থানচি সড়কের বিভিন্ন ঝিরি থেকে যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে জড়িত ছিলেন তাদের অন্যতম স্থানীয় আবুল কালাম ঠিকাদার। সম্প্রতি তিনি স্থানীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৪০ হাজার ঘনফুট ‘পাথর পরিবহনের অনুমতিপত্র’ পেয়েছেন। এখন সে ‘অনুমতিপত্র’ দিয়ে অবৈধ পাথরকে বৈধ করার সুযোগ পেয়েছেন গুণধর এ ঠিকাদার। স্থানীয়রা বলেন, সেসব পাথর অবৈধভাবে আহরণে যারা জড়িত ছিলেন ঘুরেফিরে তাদেরকেই নিলাম দেওয়া হয়।  ভ্রাম্যমান্য আদালত পাথর জব্দ করলেও পাথরদস্যুদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পাথর জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা করেছেন।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাতামুহুরী রিজার্ভ এলাকা থেকে কতিপয় ব্যক্তি পাথর আহরণ করছেন। এতে পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী পানি সংকটে ভূগবেন। একই দাবী করেন কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো। তাঁর মতে, মাতামুহুরী রিজার্ভ থেকে নির্বিচারে পাথর তোলার বিষয়ে বন বিভাগের হস্তক্ষেপ করা উচিত।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ধস ও ও নদীর নাব্যতা সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ নির্বিচারে পাথর উত্তোলন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন, আহরণ বা পরিবহণ নিষিদ্ধ।
জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, আলীকদমে পাথর আহরণের কোনো অনুমতি নেই। যারা এসব করছে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ