ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নদীভাঙনে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি’র মানচিত্র বদলে যাচ্ছে

খুলনা অফিস : সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার প্রত্যন্ত জনপদ দক্ষিণ  বেদকাশি ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ পোল্ডারের  জোড়শিং, আংটিহারা, গোলখালি, ঘড়িলাল, মাটিয়াভাঙ্গা, মেদেরচর, চোরামুখা এলাকার ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নাজুক। যে কোন মুহূর্তে বাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গোট দক্ষিণ বেদকাশি লোনা পানিতে নিমজ্জিত হতে পারে। ইতোমধ্যে পাউবোর অনেকাংশের বাঁধ হাফ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, জোড়শিং লঞ্চঘাটের পশ্চিম দিকের ওয়াপদার একশ’ ফুটের বেশি বাঁধের সিংহভাগ শাকবাড়িয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ১৩-১৪/১ পোল্ডারের মাটিয়াভাঙ্গা বেড়িবাঁধের প্রায় ৫শ’ ফুট, দক্ষিণ বেদকাশির খালের গোড়া বাঁধের প্রায় একশ’ ফুট, মেদের চরের দেড়শ’ ফুট, গোলখালি বাঁধের প্রায় দুইশ’ ফুট বেড়িবাঁধ কপোতাক্ষ নদে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ সকল বেড়িবাঁধে ভাঙন লেগে এতই সঙ্কীর্ণ হয়ে উঠেছে যে মানুষের চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম দিকে খালের গোড়ার বেড়িবাঁধের তলদেশ দিয়ে পাইপ বসিয়ে চিংড়ি ঘেরে কপোতাক্ষ নদ থেকে সারা বছর লোনা পানি ওঠানামা করায় বাঁধের তিন-চতুর্থাংশ বিলীন হয়ে গেছে।
জোড়শিং এলাকার ইউপি সদস্য গাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রত্যন্ত জনপদ কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের পুরো এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে অরক্ষিত থাকে বর্তমানে নদী ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামসুর রহমান জানিয়েছেন, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের সাড়ে ২৭ কিলোমিটার ওয়াপদা বাঁধের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার বাঁধের অবস্থা একেবারে নাজুক। বিশেষ করে জোড়শিং, মাটিয়াভাঙা, আংটিহারা ও ঘড়িলালের বেড়িবাঁধে ভাঙন লেগে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়টি এ বছরের শুষ্ক মওসুম থেকে জোরালোভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোন সাড়া মিলছে না। এ জন্য তিনি পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাউবোর সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক বলেন, ১৩-১৪/১ ও ১৩-১৪/২ পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে নকশা, ডিজাইন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে বরাদ্দ মিললে বাঁধের কাজ করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ