ঢাকা, বুধবার 16 August 2017, ০১ ভাদ্র ১৪২8, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ছিনতাই ঘটনায় এক যুবকের চোখ তোলার ধোঁয়াশা কাটছে না : তদন্ত কমিটি গঠিত

খুলনা অফিস : খুলনায় গত ১৮ জুলাই রাতে ছিনতাই ও যুবকের চোখ তোলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এ ঘটনাটি নিয়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার লোকজনের মধ্যে তথ্য সরবরাহ ও কথা বলার ক্ষেত্রে অজানা একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত সময় ও মামলার লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সময়ে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এদিকে ঘটনার তদন্তে গত ২৭ জুলাই পুলিশের একটি বিভাগীয় তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাকীব হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ৮টা কি সাড়ে ৮টার দিকে এখানে সড়কের ওপর লোকজনের ভিড় হয়। শোনা যায়, একজন ছিনতাইকারীকে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল সরদার জানান, সাড়ে ৮টা পৌঁণে ৯টার দিকের ঘটনা হতে পারে। ছিনতাইকারীকে ধরার খবর পাওয়া গেল। এরপর লোকজনের চেঁচামেচিই শোনা গেছে। পরে পুলিশ এসে একজনকে নিয়ে যায়।
খালিশপুর থানা ছাত্রলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম রশিদ আহমেদ মিম বলেন, স্থানীয় লোকজন একজন ছিনতাইকারীকে রাত ৯টার দিকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বলে শোনা যায়। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। তখন ছিনতাইকারীর কি অবস্থা ছিল দেখা যায়নি।
শাহজালালের শাশুড়ি প্লাটিনাম জুট মিলের বদলি শ্রমিক রানী বেগম বলেন, রাত ৯টার দিকে খবর আসে জামাই শাহজালালকে পুলিশ আটক করেছে। খবর পেয়ে মেয়ে রাহেলাসহ তিনি থানায় যান। সেখানে ১১টার দিকে তারা থানা হাজতে শাহজালালকে দেখেন। তখন তার পায়ে আঘাত ছিল। কিন্তু চোখমুখে কোন সমস্যা ছিল না। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ জামাই শাহজালালকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। এরপর রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জামাইকে মেঝেতে শোয়া ও চোখ নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায়।
শাহজালালের স্ত্রী রাহেলা বেগম ফোনে জানান, শাহজালালসহ তিনি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সিরতী গ্রামের শ্বশুরালয়ে বসবাস করেন। শাহজালালের শশুরবাড়ি খুলনার নয়াবাটির রেলবস্তি। গত শবে বরাতের আগে মতবিরোধে রাহেলা কন্যা শিশু আঁখিকে নিয়ে খুলনায় চলে আসেন। এরপর স্বামী শাহজালাল তাকে ফেরাতে খুলনায় আসেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাহজালাল মেয়ের জন্য দুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রাত ৯টার দিকে খবর আসে তাকে ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশ আটক করেছে। পরে থানায় যেয়ে ১১টার দিকে থানা হাজতে তার সাথে কথা হয়। ওই সময় তার চোখ মুখ ঠিকই ছিল। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটল রাত ৯টার আগে।
আর মামলায় উল্লেখ করা হল, ঘটনাটি সাড়ে ১১টার দিকে। এখানেই পুলিশ চালাকির আশ্রয়ে প্রকৃত ঘটনাটি আড়াল করছে। তিনি জানান, শাহজালালের জ্ঞান ফিরেছে। তবে তার চোখের অবস্থা ভাল না। ডাক্তাররা বলেছে অপারেশন করে দুই চোখই তুলে ফেলতে হবে। যা দ্রুত সময়ে না করলে শাহজালালের জীবনের ঝুঁকি বাড়বে।
রাহেলা বেগম শাহজালালের বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ শাহজালালকে নিয়ে খালিশপুর ক্লিনিকে যায়। সেখানে তাকে চিকিৎসা করানোর পর পাশের ফার্মেসি দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ায়। এরপর রাত ১টার পর আবার থানায় আনে এবং শুভ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন শাহজালাল শুভকে চেনে বলে জানায়। এরপর শাহজালালকে চোখ বেঁধে আবারও পুলিশের গাড়িতে তোলে। এর কিছু সময় পর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাটিতে ফেলে হাত ও পা বেঁধে চোখ নষ্ট করা হয়।
খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান বলেন, মামলাটির অভিযোগপত্র বাদীর দায়েরকৃত। বাদীর বর্ণনা ও পুলিশের উপস্থিতি সময়ে মিল রয়েছে। ছিনতাইকারী হিসেবে জনতা শাহজালালকে ধরে মারধর করার পর চোখ নষ্ট করেছে। পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে শাহজালালের প্রাণ রক্ষা করতে পেরেছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখার এডিসি ও মুখপাত্র মনিরা খাতুন বলেন, ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে। গত ২৭ জুলাই এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ের একজন ডিপার্টমেন্টাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। ওই কমিটি ইতোমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ