ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 August 2017, ০২ ভাদ্র ১৪২8, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হকির নির্বাচন নিয়ে যত ভয়

মাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক : নির্বাচন নিয়ে আবারো নানারকম খেলায় মেতে উঠেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। কিন্তু নতুনকরে আবারো পুরনো শংকা জেগে উঠেছে। আবারো কি বিভক্তি চলে আসবে দেশের তৃতীয় জনপ্রিয় খেলাটিতে ভয় সে বিষয় নিয়েই। তবে নির্বাচন সুষ্ঠভাবেই হোক, এটা চাইছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে সমঝোতার মাধ্যমে সবার গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি এই ফেডারেশনে আসুক এটাই আশা তার। সম্প্রতি ধানমন্ডিস্থ বেক্সিমকো কার্য্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি একথা বলেন। আগের দিন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের (ফোরাম) উদ্যোগে ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সভায় বাহফে’র আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খাজা রহমতউল্লাহর সঙ্গে আলোচনার পর এই পদের আরেক প্রার্থী আব্দুর রশিদ শিকদারের সঙ্গে কথা বলেন পাপন। বাহফে’ন আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে উত্তপ্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ২৭ আগস্টের নির্বাচনে প্রধান আকর্ষণ সাধারণ সম্পাদক পদটি। এই পদে লড়ছেন সর্বশেষ কমিটির দুই সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ ও আব্দুর রশিদ শিকদার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অনেক আগেই প্রকাশ্যে মাঠে নামেন রশিদ শিকদার। তবে কিছুটা নীরব ভূমিকায় থেকে হাই কমান্ড এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন রহমতউল্লাহ। রশিদের পাশে যেখানে প্রিমিয়ার, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগের মোট ৩১ ক্লাবের মধ্যে প্রায় ২৬টি রয়েছে (ইতোমধ্যে ২২টি ক্লাব তাকে সরাসরি সমর্থনও দিয়েছে)। সেখানে রহমতউল্লাহ পাশে পেয়েছেন মাত্র পাঁচ ক্লাবকে। তারপরও তাকে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার বসাতে চাইছে ফোরাম। ক’দিন ধরে এ নিয়ে কাজও করছে তারা। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ চাচ্ছে বাহফে’র নির্বাচনে সমঝোতার একটি কমিটি হোক। যেখানে রহমতউল্লাহই থাকবেন সাধারণ সম্পাদক পদে। ইতোমধ্যে দুয়েকটি সভাও করেছে ফোরাম। এ ধারাবাহিকতায় রহমতউল্লাহর সঙ্গে সভা করার পর বিসিবি প্রধান বসেন রশিদ শিকদার ও তার সমমনাদের সঙ্গে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও ইসমাইল হায়দার মল্লিক ও সভায় রশিদের সঙ্গে থাকা ক্লাবগুলোর মধ্যে মোহামেডান, মেরিনার, ঊষা, বাংলাদেশ স্পোর্টিং, ওয়ারী ও ওয়ান্ডারার্সসহ ২০টি ক্লাবের কাউন্সিলররা।  সভা সূত্রে জানা যায়, আগের দিনের মতো এ সভাতেও পাপন প্রাধান্য দিয়েছেন সমঝোতার বিষয়টিকে। হকির উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে সমঝোতা কমিটি করারই আহ্বান জানান তিনি। যে কমিটিতে খাজা রহমতউল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা হতে পারে। পাপন আশাবাদী কন্ঠে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যদি কোন ঝামেলার সৃষ্টি হয় তাহলে সেটা না হওয়াই ভাল। আমি হকির লোক না। তারপরও গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি যাতে এই ফেডারেশনে আসে তার জন্য চেষ্টা করছি। একদিন আগে রহমতউল্লাহর সঙ্গে বসেছি। আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। সমঝোতার কমিটি আপনাদের পছন্দ না হলে আপনারা নির্বাচন করবেন। এতে কেউ বাধা দিবে না। আমিও চাই নির্বাচন হোক, তবে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি আসলে দেশের হকি উন্নয়নে সবাই মিলে কাজ করতে পারবেন।’ সুত্রটি আরও জানায় যায়, এ ব্যাপারে রশিদের সমমনাদের একটাই ভাষ্য, সমঝোতা হোক আর যাই হোক রশিদকেই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। হকি ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনে সমঝোতা চান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে পাপন সমঝোতা চান খাজা রহমতউল্লাহকে সামনে রেখে। বিসিবি সভাপতির এ প্রস্তাব মানতে নারাজ আবদুর রশিদ শিকদার। পাপনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রশিদ শিকদার জানান, ‘আমি নির্বাচন করব। ক্লাবগুলো আমার সঙ্গে আছে। আমরা বিসিবি সভাপতিকে জানিয়ে এসেছি, এর আগে সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় খাজা রহমতউল্লাহ সবার সঙ্গে মানিয়ে কাজ করতে পারেননি। তার রানিংমেটরাও এখন তার সঙ্গে নেই’। এদিকে মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথম দিন ২০ জন কাউন্সিলর ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে দুইজন নিয়েছেন দুটি করে ফরম। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে একটি সমঝোতার প্যানেল চেয়েছিলেন ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি সভাপতিরর সঙ্গে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রমতে, বিসিবি সভাপতি আবদুর রশিদ ও তার সঙ্গে যাওয়া ক্লাব কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, রহমতউল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক রেখেই একটা সমঝোতার প্যানেল করতে আগ্রহী তিনি। শেষ পর্যন্ত যদি সমঝোতা না হয় তাহলে কী হবে? এ প্রশ্নের জবাবে আবদুর রশিদ শিকদার ও তার সমর্থকদের জানিয়ে রেখেছেন নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা সমঝোতা করতে না পারলে বা না মানলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটের লড়াই হবে। আর তখন আমাকে একটি পক্ষ নিতেই হবে।’ এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বাকিরা। জাতীয় দলের সঙ্গে চীন সফরে থাকা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক। সেখান থেকেই অনলাইনে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন তিনি। চীন সফররত জাতীয় হকি দলের সহকারী কোচ আলমগীর আলমও মনোনয়নপত্র কিনেছেন একইভাবে। অনলাইনে মনোনয়ন ফরম বিক্রির ব্যাপারে হকি ফেডারেশনের নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইন কর্মকর্তা কবিরুল হাসান জানান ‘হকির নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত কাউন্সিলরদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে মনোনয়নপত্র ক্রয় এবং আগাম ভোট প্রদানের সুবিধা রেখেছি আমরা। ইতোমধ্যে দুইজন মনোয়নপত্র সংগ্রহে ওই সুবিধা নিয়েছেন। ২৭শে আগস্ট নির্বাচনের সময় কোনো ভোটার দেশের বাইরে থাকলে তারা আগাম ভোট দিতে পারবেন। তবে সবার জন্য এ সুযোগ নয়। যারা পবিত্র হজের জন্য এবং সরকারি ও হকির কাজে দেশের বাইরে যাবেন তারা এ সুযোগ পাবেন। ২৩শে আগস্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে ২৭শে আগস্টের মধ্যে যারা বিদেশ যাবেন তারা আগাম ভোট দিয়ে যেতে পারবেন।’ মনোনয়নপত্র দাখিল ১৭ই আগস্ট সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট ২৭শে আগস্ট। ৮৫ জন কাউন্সিলর হকি ফেডারেশনের নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন। খসড়া কাউন্সিলর তালিকায় সংখ্যা ছিল ৮৬। রংপুর বিভাগের কাউন্সিলর তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আপত্তি ওঠায় তার নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার কবিরুল হাসান জানান, তোফাজ্জল হোসেন রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ পরিষদের সদস্য না হওয়ায় তার কাউন্সিলরশিপ বাতিল হয়েছে। এখন দেখা যাক নির্বাচন নিয়ে কতটা কি হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ