ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 August 2017, ০২ ভাদ্র ১৪২8, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উদ্বোধনের আগেই বেহাল রূপসা ঘাট থেকে জাবুসা পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক

খুলনা অফিস : উদ্বোধনের আগেই খুলনার রূপসা ফেরীঘাট থেকে জাবুসা বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের একাধিক স্থান দেবে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীরবিক্রম মহিবুল্লাহ সড়কের একাধিক স্থানে দেবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলজিইডি রূপসা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৭৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৮ টাকা ব্যয়ে রূপসা ফেরীঘাট থেকে জাবুসা বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের প্রথম দিকে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। কাজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিল মেসার্স দি অপু এন্ড ব্রাদার্স। এপ্রিল মাসের মধ্যে রাস্তা সংস্কার কাজ শেষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী সড়কের কাজ করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাথর ও পিচ সঠিকভাবে দেয়া হয়নি। ফলে কাজের গুণগতমান খুবই খারাপ হয়েছে।
এছাড়া সড়কটি আগের তুলনায় প্রস্থ কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কে গাড়ি ক্রসিং করতে গেলে চরম সমস্যা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে কাজের মান ভালো হয়নি। সাদামাটা ও দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। অভিযোগ মতে, সড়কটি সংস্কারের সময় রোলার ঠিকমত দেয়া হয়নি এবং কাজ শেষে বালু  দেয়াও হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী কার্পেটিং এক ইঞ্চি দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে করা হয়েছে লুকোচুরি। ফলে অল্পদিনের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-খাটো খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। সরেজমিন তদন্তে যার সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে সড়কটিতে অধিক গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। এতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ ঝুঁকি এড়াতে গতিরোধক কমানোর জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে মেসার্স দি অপু এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী অপু বলেন, কালভার্টে খোয়ার পরিবর্তে পাথর দিয়ে কাজ করলে টেকসই ও মজবুত হতো। অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক এ রাস্তা দিয়ে চলাচলের উপযোগী নয়। তিনি আরো বলেন, ঠিকাদার ওবায়দুল এবং তিনি যৌথভাবে প্রকল্পের কাজ করেছেন। ঠিকাদার ওবায়দুলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, কালভার্ট দু’টি পুরাতন হওয়ায় দেবে গেছে। সিডিউল অনুযায়ী এ রাস্তায় ১০ টনের বেশি বোঝাই গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। ফলে অতিরিক্ত বোঝাই গাড়ি চলাচল করলে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ