ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 August 2017, ০২ ভাদ্র ১৪২8, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী ও হাতুড়ে চিকিৎসকসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর পূর্বে জয়রামপট্রি গ্রামের সুধীর রায়ের মেয়ে মৌসুমীকে বারপাইকা গ্রামের নরেন হালদারের ছেলে নরোত্তম এর সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের আট মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গত ছয় মাস পূর্বে মৌসুমীর শাশুড়ি রেবা হালদার ও স্বামী নরোত্তম মৌসুমীর কাছে ১লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। মৌসুমী তা দিতে অস্বীকার করলে গত ৪আগস্ট নরোত্তম ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে মারধর করে জোর করে বিষ খাইয়ে দেয়। এরপর ঘটক নির্মল বাদীকে জানায় তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণকান্ত রায়ের চেম্বারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে মৌসুমীর পিতা সুধীর চন্দ্র হাতুড়ে চিকিৎসক কৃষ্ণ কান্তর চেম্বারে গিয়ে মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখেন। এসময় তার অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ওই হাতুড়ে চিকিৎক মৌসুমীর গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়েছে জানিয়ে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানায়। বাদী তার মেয়েকে বরিশাল নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে চাইলে ওই হাতুড়ে চিকিৎসক তাকে বাঁধা প্রদান করে। এভাবে তিন দিন চিকিৎসায় মৌসুমীর কোন উন্নতি না হওয়ায় ৬ আগষ্ট বিকেলে মৌসুমীর বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে তাকে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌসুমীর মৃত্যু হয়। পরে নিহত মৌসুমীর পিতা সুধীর চন্দ্র খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, ৪ আগষ্ট যৌতুকের দাবিতে নরোত্তম তার মেয়ে মৌসুমীকে মারধর করে জোর করে বিষ পান করিয়ে দেয়। এতে মৌসুমী জ্ঞান হারালে তাকে স্থানীয় বারপাইকা বাজারের হাতুড়ে চিকিৎসক কৃষ্ণ কান্ত রায়ের চেম্বারে রেখে নরোত্তম পালিয়ে যায়। ওই চিকিৎসক মৌসুমীকে বিষ খাওয়ানোর ঘটনা চাপা রেখে তাকে তিন দিন তার চেম্বারে রেখে চিকিৎসা প্রদান করেছিলেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতর বাবা সুধীর রায়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামীরা হলেন উপজেলার রতœপুর গ্রামের নরেন হালদারের ছেলে নিহতর স্বামী নরত্তোম হালদার, শাশুড়ি রেবা হালদার, সহযোগী সুধীর হালদার, বিয়ের ঘটক নির্মল হালদার ও হাতুড়ে চিকিৎসক কৃষ্ণ কান্ত রায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ