ঢাকা, রোববার 20 August 2017, ০৫ ভাদ্র ১৪২8, ২৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০

সংগ্রাম ডেস্ক : গতকাল শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। জয়পুরহাটে একটি ট্রাক উল্টে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে গেলে ৬ জন নিহত ও ২ জন আহত হন।  তাড়াশে একটি ভটভটি অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। অপর  দুর্ঘটনাটি ঘটে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে। সেখানে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন আরও ২ জন।
ট্রাক উল্টে শ্রমিকসহ নিহত ৬
মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর মান্দায় পানের বরজের ওয়াসি বোঝাই একটি ট্রাক জয়পুরহাটের পাজদীঘি থেকে ছেড়ে রাজশাহীর মোহনপুর পান হাটে যাবার সময় নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের উপজেলার হাজিগোবিন্দপুর মোড় নামক স্থানে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্বের ডোবায় (গর্তে) পড়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের শ্রমিকসহ ৬ জনের মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু ঘটে। এতে আরো ২জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নওগাঁর সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৫০) পিতা-(অজ্ঞাত), বদলগাছির বালুভরা গ্রামের দিলিপ চন্দ্রের ছেলে দিপেন চন্দ্র (৪৫), রাজশাহীর বাগমারার মারিয়া গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী (৩৫), একই গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মাদের ছেলে আবদুল মান্নান (৪৫), হরিপুর গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে সাহেব আলী (৪৫) এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (৫০)। আহতরা হলেন নওগাঁর বদলগাছির ঈসমাইলপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা (৪৩) এবং জয়পুরহাটের ধানমন্ডি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রায়হান আলী (৩২)। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের উপজেলার হাজিগোবিন্দপুর মোড় নামক এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে ।
থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সকাল ৮ সাড়ে টার দিকে পানের বরজের ওয়াসি বোঝাই একটি ট্রাক নং ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৫৭৪৪ জয়পুরহাটের পাজদীঘি থেকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পান হাটে যাচ্ছিলেন। পথ্যিমধ্যে উক্ত স্থানে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পানি ভর্তি একটি ডোবায় পড়ে যান। এতে ট্রাকটি উল্টে পানির নিচে পড়ে গেলে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি ঐ ডোবায় পড়ে আছে। ট্রাক মালিক এবং  উদ্ধারকারী যন্ত্র সময় মতো না আসায় ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানায়। দুর্ঘটার পরপর সেখানে আশপার্শ্বের হাজার হাজার লোক ভিড় জমায়।
পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৬জনের লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয় এবং আহত ২জনকে স্থানীয় মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।
খবর পেয়ে মান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ, নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা-মহাদেবপুর সার্কেল) হাফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় নওগাঁ দমকলের (ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ) উপ-পরিচালক একেএম মোর্শেদ এর নেতৃত্বে একটি ইউনিট সেখানে পৌঁছেন। 
থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক মশিউর রহমান জানান, লাশ বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। আত্মীয়-স্বজনরা এলে এবং তারা চাইলে ময়না তদন্তের জন্য লাশ নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে। ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্ঠা চলছে।
অন্তঃসত্ত্বা নিহত
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চালকের অসাবধানতায় ইঞ্জিন চালিত ভটভটি চাপায় মোছা. জবা খাতুন (২৯) নামে এক আট মাসের অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ভিকমপুর গ্রামের মো. সানোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও এক সন্তানের মা। শুক্রবার তাড়াশ সদরের হাসপাতাল গেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা জবা খাতুন শুক্রবার বিকেলে নিজের শারীরিক অবস্থার পরামর্শ নিতে হাসপাতালে আসেন। ডাক্তার দেখানো শেষে হাসপাতাল গেইট এলাকার একটি দোকান থেকে ছেলের জন্য সদাই কিনছিলেন।
এ দিকে পাশেই একজন ভটভটি চালক তার ইঞ্জিন চালিত ভটভটি গাড়িটি চালু অবস্থায় গিয়ার নিউটাল রেখে আরেক দোকানে পান কিনছিলেন। এ সময় চালু রাখা ভটভটিতে হঠাৎ গিয়ার পড়ে অন্তঃসত্ত্বাকে চাপা দিলে সে গুরতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে মুমুর্ষু অবস্থায় বগুড়াস্থ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক সজিব রায়। পথের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা জবার মৃত্যু হয়।
তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে কেউ অভিযোগ করেনি।
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোঃ হানিফ (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। চম্পাতলী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচাজ মোঃ আব্দুল মালেক নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। নিহত কলেজ ছাত্র উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের মোঃ আশরাফ মাষ্টারের ছেলে ও রাণীরবন্দর ইছামতি ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকাল পৌনে ৫টায় ওই কলেজ ছাত্র সৈয়দপুর হতে মোটর সাইকেল যোগে বাড়ী ফেরার পথে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের দেবীগঞ্জ বাজারের কাছে রংপুরগামী একটি মালবাহী ট্রাক তাকে মুখোমুখি ধাক্কা দিলে রাস্তায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সংবাদ পেয়ে চম্পাতলী হাইওয়ে থানা পুলিশ নিহত কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ পর্যটক নিহত॥ আহত ৬
শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার (দক্ষিণ) : কক্সবাজার শহরের মোটেল জোনে শৈবাল হোটেলের সামনে প্রাইভেটকার ও টমটমের মুখোমুখী সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয় জন। হতাহতদের মধ্যে ছয়জনই টমটমের যাত্রী ও চালক। ফায়ার সার্ভিস সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন, পটিয়া থেকে বেড়াতে আসা চরপাথরঘাটার আহমদ মিয়ার পুত্র শাহ আলম (৫০) ও পটিয়া কুসুমপুরা এলাকার মনা মিয়ার পুত্র আব্দুস সালাম।
আহতরা হলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৪০), একই এলাকার হারুনুর রশিদ (৩০), হেলাল উদ্দীন (৩৭) ও টমটম চালক আলমগীর (৩৫)। অন্য দু’জনের পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।
নিহত শাহ আলমের বন্ধু মো. আলী জানান, তারা খুব সকালে সৈকত দর্শনে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে যান। সেখান থেকে তারা শহরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে শৈবাল হোটেলের সামনে আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সাথে টমটমটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন। গুরুতর আহত হন টমটমের চালক যাত্রীরা। তবে মো. আলী অক্ষত রয়েছেন।
ফায়াস সার্ভিস কর্মকর্তা আবদুল্লাহ জানান, ‘আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করি। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ মর্গে রয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ