ঢাকা, মঙ্গলবার 22 August 2017, ০৭ ভাদ্র ১৪২8, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রশ্রয়-বলয়ের কারণে কি সত্য চাপা পড়ে যাবে?

বেতাগীর স্কুলে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশে। সবাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায়, চায় অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার। তবে প্রশ্রয়-বলয়ে থাকার কারণে অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার সম্ভব হবে কিনা তেমন আশঙ্কাও আছে। ভিকটিমের পরিবার তো মামলা চালিয়ে যাওয়ার সাহসও পাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা যে অমূলক কিছু নয়, তেমন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ‘সত্য চাপা দেয়ার চেষ্টা!’ শিরোনামে একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে প্রথম আলো পত্রিকায়। ২১ আগস্ট প্রকাশিত খবরটিতে বলা হয়, বেতাগীর স্কুলে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় ডাক্তারি পরীক্ষায় বলা হয়েছে, তাকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সত্য চাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার শিক্ষিকা ডাক্তারি পরীক্ষার এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০ আগস্ট তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘এটা অসম্ভব। যদি এটা হয় তাহলে বলবো, ফলাফল উল্টে দেয়া হয়েছে। আমি শতভাগ নিশ্চিত, পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত প্রমাণিত হবে।’ এই প্রসঙ্গে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক আজমিরি বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্ষণের বিষয়ে নারীর পারিপার্শ্বিক নানা বিষয় জড়িত থাকে। এজন্য এটা ধর্ষণ কিনা, সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না। তবে তার হাতে ও গালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’ অথচ ধর্ষণের আলামত পরীক্ষাকারী এই চিকিৎসক ১৯ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘পরীক্ষায় সম্ভবত ধর্ষণের আলামত মিলেছে।’
স্থানীয় শিক্ষক সমিতির নেতা, শিক্ষিকার পরিবার ও এলাকার সচেতন মহল ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, আসল সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে অপরাধীদের রক্ষার জন্য ধর্ষণের আলামত গোপন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি তিনদিনের কর্মূচি ঘোষণা করেছে। উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি পুনরায় ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। এলাকার সচেতন নাগরিকরা ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনে বিস্মিত। তাঁরা বলছেন, একটি মহল শুরু থেকেই এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। ধর্ষণের এতবড় একটি ঘটনা ঘটলো অথচ ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেল না, এটা বিস্ময়কর ও সন্দেহজনক। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
আমরা জানি, সমাজে দুর্বৃত্তদের সংখ্যা খুবই কম। তারপরও তারা দাপটের সাথে অপরাধমূলক নানা কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্রয়-বলয়ের কারণেই তাদের দৌরাত্ম্য চলতে পারছে। এটা সুশাসনের লক্ষণ নয়। বেতাগীতে স্কুল শিক্ষিকার সাথে যে বর্বর আচরণ করা হয়েছে তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। দেশের মানুষ ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায়। কিন্তু বিচারের ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার শুরুতেই যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সেটাই যেন সত্য হতে চলেছে। অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণের আলামত গোপন করা হয়েছে, সত্য চাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। যদি ক্ষমতাবানরা সত্য চাপা দেয়ার চেষ্টায় সফল হয়ে যান, তাহলে সুষ্ঠু বিচার সম্ভব হওয়ার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন ও সরকারের ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা পালন প্রয়োজন। কোনো সমাজে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন না হলে, আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে যায়। এমন সমাজ মানুষের বসবাসযোগ্য থাকেন। আমরা তো এমন পরিস্থিতির জন্য সমাজবদ্ধ হইনি। উন্নত জীবনের যে মহান লক্ষ্যে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে, সেই অভিযাত্রায় সংশ্লিষ্ট সবার এখন দায়িত্ব পালন প্রয়োজন। আলোচ্য ঘটনায় ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন ও সত্য চাপা দেয়ার ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে, সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পদক্ষেপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ