ঢাকা, মঙ্গলবার 22 August 2017, ০৭ ভাদ্র ১৪২8, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার মাঠে মাঠে পাট কাটা শুরু : ফলন ও বাজারদর কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশ

এফ.এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বত্র চলতি মৌসুমের পাট কাটা শুরু হয়েছে। পাট কাটা ও জাগ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে এলাকার পাট চাষীরা। হাট-বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে নুতন পাট। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও বাজারদর উভয়ই কম। লাভের আশায় মহাজন ফড়িয়ারা আনন্দে থাকলেও লোকসান আতঙ্কে রয়েছে জেলার পাটচাষীরা। জানা যায়, বেশ ক’বছর ধরে জেলার কৃষকরা প্রতিকুল আবহাওয়াসহ কাঙ্খিত বাজারদর না পেয়ে লোকসানে পড়ে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় কৃষি বিভাগ। সম্প্রতি সরকার পাটের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন, সিন্থেটিক এর পরিবর্তে দেশে উৎপাদিত ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০” প্রনয়ন করে। প্রশাসনিকভাবে এই আইনের প্রয়োগ শুরু হলে মানুষ পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত হতে শুরু করে। ফলে দেশে কাঁচা পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর বাজারদরও বেড়ে যায়। তারই ফলশ্রুতিতে বেশ ক’বছর পর গত মৌসুমে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দেড়গুণ পরিমান জমিতে পাটের আবাদ করে কৃষকরা। কিন্তু আগের তুলনায় লাঙ্গল, বীজ, সার, বীজের মূল্য ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির তুলনায় কাঙ্খিত মূল্য না পেয়ে এ বছর আবারও পাট আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় অনেকে। ফলে জেলায় পাট আবাদে নামে ধস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ