ঢাকা, মঙ্গলবার 22 August 2017, ০৭ ভাদ্র ১৪২8, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভুল অপারেশনে ৫ রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুরে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকের নিজস্ব কোন ডিগ্রিধারী ডাক্তার নেই। এ ক্লিনিকের প্যাথলজি মালিক রিপনের আল্ট্রাসনো রিপোর্টে মুমূর্ষু রোগীদের অপারেশন করে থাকেন কেশবপুর হাসপাতালের সেকমো ফিরোজ কবীর। ফলে ভুল অপারেশনে গত ৩ মাসে ৫ জন রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি যশোর সিভিল সার্জনকে ম্যানেজ করে ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ান, জ্বরায়ু, অ্যাপেনডিক্স, গলব-াডারসহ বিভিন্ন জটিল রোগীদের অপারেশন করে থাকেন বলেই রয়েছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
২০০৪ সালে কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।  প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ওই ক্লিনিকে কেশবপুর হাসপাতালের সেকমো ফিরোজ কবীর বিভিন্ন নামীদামি ডাক্তারের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেই রোগীদের ছোট বড় অপারেশন করে থাকেন। বর্তমান তিনি সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ওই ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন অন্যের নামে হলেও তিনি অদৃশ্য মালিক বলে জানা গেছে। ক্লিনিকের একটি কক্ষে তিনি মেডিকেল অফিসারের মত সার্বক্ষণিক রোগী দেখে থাকেন। প্রতিদিন গ্রামের সহজ সরল অজ্ঞ রোগীদের বিশাল লাইন পড়ে যায় তার চেম্বারের সামনে। নিয়মানুযায়ী মেডিকেল অফিসার দিয়ে রোগীদের আল্ট্রাসনো করানোর নিয়ম থাকলেও ওই ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের মালিক রিপন কোন ডিপ্লোমাধারী না হয়েও তিনি ক্লিনিকে আসা  রোগীদের আল্ট্রাসনো করেন এবং রিপোর্টে মেডিকেল অফিসারের স্থানে তিনিই স্বাক্ষর করে থাকেন।
গোপালগঞ্জ জেলার কোমলিপাড়া থানার রামশীল গ্রামের রবিন সরকার অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ আগস্ট তার শ্বশুরবাড়ি কেশবপুর উপজেলায় হওয়ার সুবাদে তার গর্ভবতী স্ত্রী জ্যোতি সরকারকে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার স্ত্রীর আল্ট্রাসনো করেন রিপন নামের এক ব্যক্তি এবং রিপোর্টে মেডিকেল ডাক্তারের স্বাক্ষর তিনি নিজেই করেছেন। ওই ক্লিনিকের রক্ত পরীক্ষায় তার স্ত্রীর দেহে রক্তের পরিমান দেখানো হয়েছে ৪৭ ভাগ। এই মুহূর্তে অপারেশন না করলে গর্ভের সন্তান বাঁচবে না বলে জানাই। এ কথা বলেই তাকে নেয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। এসময় তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রীকে অপারেশন করবে ফিরোজ কবির নামের এক ডাক্তার। কিন্তু তার ভিজিটিং কার্ডে রয়েছে তিনি একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ