ঢাকা, মঙ্গলবার 22 August 2017, ০৭ ভাদ্র ১৪২8, ২৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারি তিনটি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বেপরোয়া

খুলনা অফিস : খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনকে দিন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচন্ড ভিড়ে যেখানে রোগীদের দাঁড়ানো কষ্টকর, সেখানে রীতিমতো জটলা বেঁধে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তারা দিনকে দিন এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে রোগীদের গায়ে পর্যন্ত হাত তুলছেন। ওই সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিটের নির্ধারিত দিন ও সময় কাগজ কলমে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ডাক্তারদের সাথে ওষুধ প্রতিনিধিদের গোপন সখ্যতা থাকায় কেউ এই নিয়মের ধার ধারেনা, উল্টো রোগীদেরকে লাঞ্ছিত করছেন। অপরদিকে রোগীদের বিভিন্ন টেস্টের নামে চলে চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্য। ওই সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে কান পাতলেই শোনা যায় এরকম নানা অভিযোগ।
গত কয়েকদিনে ওই তিনটি সরকারি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে এ সব চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে গেলে দেখা গেছে, হাসপাতালের মূল ফটকে কয়েকজন ওষুধ প্রতিনিধি জটলা বেঁধে আছেন। রোগীরা বের হওয়ার সাথেই তাদের প্রেসক্রিপশন দেখছেন, রোগীরাও বিরক্তবোধ করছেন। এর দুই দিন আগে ওষুধ প্রতিনিধিদের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেছিলেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও দোষীদের ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত কোন ওষুধ প্রতিনিধি হাসপাতালের বাউন্ডারিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, হাসপাতালে চত্বর গ্যারেজের সামনে, হাসপাতালের মূল ফটকে ও হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারে ওষুধ প্রতিনিধিরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মানছেন না কর্তৃপক্ষের নিদের্শনা।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওষুধ প্রতিনিধিরা যদি আমাদের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়ে ভিজিট না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুই একদিনের মধ্যে একটি সভা ডেকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, সবকিছুই নিয়মের মধ্যে আনা হবে। যাতে হাসপাতালে আগত রোগীদের সমস্যা না হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ